শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শনিবার, ৭ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ডিজিটাল ব্যাংকিং
প্রকাশ: ০৪:৪৪ pm ২১-০৪-২০১৮ হালনাগাদ: ০৪:৪৫ pm ২১-০৪-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


তথ্যপ্রযুক্তির আশির্বাদে এখন হাতের মুঠোয় চলে এসেছে গোটা ব্যাংকিং খাত। অনলাইন সেবায় সাধারণ ব্যাংকিং পরিবর্তিত হয়েছে ‘ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে’। ব্যাংকিং সেবা যখন গ্রাহকের দোড়গোড়ায় ঠিক তখনই সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে ‘ডিজিটাল ব্যাংকিং’।

সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকবার এটিএম বুথে ‘স্কিমিং ডিভাইস’ বসিয়ে ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ক্লোনিং করে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় গ্রাহকদের মধ্যে এ উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এ ছাড়া মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সিম ডুপ্লিকেট, ক্লোনিং, ব্লুক, কল ডাইভার্ড করে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। এসব ঘটনার পেছনে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা ও অদক্ষাতা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ব্যাংকগুলোর ৫২ শতাংশই তথ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। যার মধ্যে ১৬ শতাংশ খুবই উচ্চ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে এবং ৩৬ শতাংশ উচ্চ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির অন্য এক গবেষণায় বলা হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা সম্পর্কে ৫০ শতাংশ ব্যাংক কর্মকর্তাই অজ্ঞ। যার মধ্যে ২৮ শতাংশ খুবই অজ্ঞ এবং ২২ শতাংশ কিছুটা কম অজ্ঞ। এ ছাড়া সামান্য ধারণা রয়েছে ২০ শতাংশ কর্মকর্তার।

জানা গেছে, দেশে কার্যরত ৫৭ ব্যাংকের প্রায় ১০ হাজারের অধিক শাখা এবং প্রায় ৭ হাজার ৩০০ এটিএম বুথ রয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে গ্রাহকরা অনলাইনে লেনদেন করতে পারছেন। এর বাইরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অ্যাকাউন্ট রয়েছে ৫ কোটি ৯৮ লাখের বেশি। এর বাইরে অনেক গ্রাহক ব্যাংকগুলোর অনলাইন সেবা নিচ্ছেন। ফলে ব্যাংকিং খাতের একটি বড় অংশই চলে গেছে অনলাইনের সেবায়। এভাবেই গত এক দশকে ‘ডিজিটাল ব্যাংকিং’ ব্যবস্থা পরিবর্তিত হয়েছে। ব্যাংকিং খাত ডিজিটাল করতে কাড়ি কাড়ি অর্থও খরচ করা হয়েছে। হিসাব করে দেখা গেছে, দেশের ৫৭ ব্যাংক এ খাতে খরচ করেছে ২২ হাজার কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এ খাতে উদার হয়ে খরচের অনুমতি দিয়েছে। বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর প্রায় সব শাখা ইতোমধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে গেছে। তবে এ সময়ে দেশে ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনাও ঘটেছে অনেক। ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ব্যাংকিং খাতের জন্য পরিচিত একটি শব্দ। মাঝে মধ্যে ঘটেছে চেক জালিয়াতি ঘটনাও। তবে সেগুলো ছিল সীমিত পর্যায়ে। এর আগেও মোবাইল ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। তাও গ্রাহকের মাঝে তেমন আতঙ্ক দেখা দেয়নি। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটিএম বুথে স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে ক্রেডিট কার্ড ক্লোন করে অর্থ লোপাটের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গ্রাহকরা। দুই বছর না পেরুতেই চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। খোয়া যায় ৪৯ গ্রাহকের ২০ লাখ টাকা। অবশ্য এসব ঘটনায় প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি বেরিয়ে আসে। এ ঘটনার পর এটিএম বুথে জালিয়াতি প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি নির্দেশনা জারি করা হয়। বলা হয়, এক মাসের মধ্যে চুরি প্রতিরোধক অ্যান্টি স্কিমিং ও পিন শিল্ড ডিভাইস স্থাপন, স্বয়ংক্রিয় এসএমএসের মাধ্যমে লেনদেনের তথ্য প্রদান করতে হবে। কিন্তু এত দিনেও বেশির ব্যাংক কার্যকর করেনি এমন উদ্যোগ।

২০১৬ সালে বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে আলোচিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চুরির ঘটনার তদন্ত এবং অর্থ উদ্ধার কোনোটিই শেষ করতে পারেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ঘটনার পেছনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের প্রযুক্তিগত গাফিলতি এবং সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে তথ্য দিয়েছে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম। 

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টর (বিআইবিএম) এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ব্যাংকগুলোর ৫২ শতাংশই তথ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। যার মধ্যে ১৬ শতাংশ খুবই উচ্চ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে এবং ৩৬ শতাংশ উচ্চ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ১৬ শতাংশ ব্যাংক মনে করে তাদের বর্তমান তথ্য নিরাপত্তা যথেষ্ট নয়। তারা খুবই উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ৩৬ শতাংশ ব্যাংক মনে করে, যে কোনো মুহূর্তে তাদের তথ্য চুরি হতে পারে। এ ছাড়া ৩২ শতাংশ ব্যাংক কিছুটা কম ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে ১২ শতাংশ ব্যাংক কম ঝুঁকিতে রয়েছে। আর ৪ শতাংশ মনে করছে তথ্যপ্রযুক্তিতে তাদের ব্যাংক কোনো ঝুঁকিতে নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক দেবদুলাল রায় বলেন, দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহার না করে ব্যাংকগুলো অহেতুক বিদেশি সফটওয়্যারের দিকে ঝুঁকছে। ব্যাংকের অর্থে অহেতুক বিদেশ ভ্রমণ কিংবা অন্যকোনো লাভের আশায় ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তারা এ কাজ করছেন। তিনি বলেন, ব্যাংক নিরীক্ষাতে আইটি বিষয়টি এখনো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ব্যাংকগুলোর কল সেন্টারের অবস্থাও খারাপ। গ্রাহকের সেবার মান বাড়াতে এ অবস্থার পরিবর্তন দরকার। বিআইবিএমের অন্য এক গবেষণায় বলা হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা সম্পর্কে ৫০ শতাংশ ব্যাংক কর্মকর্তাই অজ্ঞ। যার মধ্যে ২৮ শতাংশ খুবই অজ্ঞ এবং ২২ শতাংশ কিছুটা কম অজ্ঞ। এ ছাড়া সামান্য ধারণা রয়েছে ২০ শতাংশ কর্মকর্তার। এতে আরো বলা হয়, দেশের ব্যাংকগুলোতে আইটি নিরাপত্তা সম্পর্কে খুবই ভালো ধারণা রয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ কর্মকর্তার। এ ছাড়া কিছুটা ভালো ধারণা ১০ শতাংশ এবং মোটামুটি ধারণা রয়েছে ১৬ শতাংশ ব্যাংক কর্মকর্তার। ২১টি ব্যাংকের ওপর এই জরিপ চালায় বিআইবিএম। যার মধ্যে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ১৪টি, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক ৩টি এবং বিদেশি ব্যাংক ৩টি।

বাংলাদেশের ৫৭টি ব্যাংকে প্রায় ২ লাখ কর্মকর্তা রয়েছে। গ্রাহকদের মধ্যেও একই জরিপ চালিয়েছে বিআইবিএম। এতে দেখা গেছে, ৫৪ শতাংশ গ্রাহক সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে অজ্ঞ।


বিডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71