বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ৫ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন খলিফা পট্টির কারিগররা
প্রকাশ: ০৩:১০ pm ২০-০৫-২০১৭ হালনাগাদ: ০৩:১০ pm ২০-০৫-২০১৭
 
 
 


কুমিল্লা : পবিত্র শবে-বরাতের পর থেকে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নগরীর দেওয়ান বাজার ওয়ার্ডের খলিফা পট্টির কারিগররা। প্রতি বছর ঈদের সময় নিরবে নিভৃত্তে আয়ের ক্রেতাদের কাপড়ের চাহিদা পূরণ করে চলেছেন তারা।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, খলিফা পট্টিতে স্ব স্ব কাজে ব্যস্ত কারিগররা। প্রায় প্রতিটি দোকানের দ্বিতীয় তলা থেকে উপরের ফ্লোরগুলি ব্যবহার করা হচ্ছে কারখানা হিসেবে। নিচতলায় দোকান। কারিগরদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পবিত্র শবে বরাতের পর থেকে তারা এখন দিন-রাত কাজ করছেন। দম ফেলার ফুসরত নেই। এখানে নারী ও শিশুদের সব ধরনের নিত্য নতুন ডিজাইনের কাপড় সেলাই করে বিক্রি করা হয়।

বিভিন্ন মার্কেট থেকে নতুন ডিজাইনের কাপড়ের নমূনা সংগ্রহ করে তা তৈরি করা হয়। কিছু কিছু নিজস্ব ডিজাইনের কাপড়ও তারা বের করে। এখানকার তৈরি কাপড় আধুনিক শপিং মলের কাপড়ের চেয়ে দাম অনেক কম। মফস্বলের বিভিন্ন মার্কেট এবং বাজার ছাড়াও নগরীর বেশ কিছু শপিং মলের বিভিন্ন দোকানদারও খলিফা পট্টি থেকে পোশাক সংগ্রহ করে। খলিফাপট্টি মাশা আল্লাহ (দোয়েল ফ্যাশন) দোকানের স্বত্বাধিকারী আবদুর রহিম পূর্বকোণকে বলেন, প্রায় ৩৫ বছর ধরে তিনি এখানে আছেন।

হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ব্যবসা দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকেই পেশা পরিবর্তন করে বিদেশ চলে গেছে। অনেক উদ্যোক্তা কারিগর পায় না। প্রয়োজনের সময় কারিগর চলে যায়। এসব কারণে বিরক্ত হয়ে অনেকে ঢাকা থেকে বিভিন্ন ডিজাইনের এনে এখানে বিক্রি করেন। গত বছরের তুলনায় এবার ব্যবসা অনেক কম। খলিফাপট্টি বণিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সামশুল আলমি

এক প্রতিবেদনকে বলেন, নোয়াখালী, কুমিল্লা, তিন পার্বত্য জেলা এবং টেকনাফ পর্যন্ত তাদের তৈরি কাপড় যায়। সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে দাম রেখে সেরা ডিজাইনের কাপড় এখানে তৈরি হয়। তিনি বলেন, এখন পোশাক তৈরির কাজ চলছে। বিক্রি শুরু হবে আরো কিছুদিন পর। বর্তমানে তিন শতাধিক কারখানায় ছয় হাজার কর্মী কাজ করছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মৌসুম চলে গেলে কারিগরের সংখ্যা অনেক কমে যায়।
 

বিভিন্ন ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, মূলত বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদ কিংবা দুর্গাপূজায় দেশের আধুনিক শপিং মলসমূহে ভারত, থাইল্যান্ড কিংবা পাকিস্তান থেকে যেসব ডিজাইনের তৈরি পোশাক আসে, খলিফাপট্টির কারিগররা কয়েকদিনের মধ্যেই প্রায় একই ডিজাইনের কাপড় তৈরি করে ফেলেন। অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তারা একাজটি করেন। তবে দীর্ঘ ছয় দশক ধরে বেড়ে উঠা তৈরি পোশাক পল্লী এখন নানা সংকটে জর্জড়িত। আইনি জটিলতার কারণে ব্যবসার প্রসার ঘটাতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।

একারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহও সহজ শর্তে অর্থায়ন করে না। এসব কারণে কারিগররাও ঢাকামুখী হয়ে পড়েছে। এখানকার ব্যবসায়ীরা কাপড়ের ভাল দাম না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। তাদের সমস্যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ব্যবসার পরিবেশ না থাকা। সিডিএ এখানে মার্কেট নির্মাণের অনুমোদন দেয় না। এটা নাকি আবাসিক এলাকা। অথচ মাস্টার প্ল্যান তৈরির অনেক আগেই বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে খলিফাপট্টির সুনাম সারাদেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। তবুও এটি নাকি আবাসিক এলাকা। উদ্যোক্তারা স্বল্প সুদে ঋণ পায় না। অর্থাভাবে ব্যবসায়ীরা কম দামে কাপড় বিক্রি করতে বাধ্য হন। কারিগরদের ভাল বেতন দিতে পারেনা। তাই কারিগররাও এখন ঢাকামূখী।

এইবেলাডটকম /আরডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71