শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শনিবার, ৭ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
নিহত মায়ের আঙ্গুল চুষে ৩ দিন কাটাল দেড় বছরের শিশু নাহিদ
প্রকাশ: ০২:৩৮ pm ২৯-০৩-২০১৮ হালনাগাদ: ০২:৩৮ pm ২৯-০৩-২০১৮
 
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
 
 
 
 


তালাবদ্ধ ঘরে খাটের ওপর পড়ে আছে মায়ের পচা গলা লাশ। বের হচ্ছে দুর্গন্ধ। পাশেই ক্ষুধায় মৃত মায়ের আঙ্গুল চুষছে দেড় বছরের শিশু। আবার কখনো কাঁদছে। এভাবেই  মৃত মায়ের পাশে ৩ দিন কাটিয়ে দিয়েছে ওই অবুঝ শিশুটি। কিন্তু এক পর্যায়ে লাশের দুর্গন্ধ সইতে না পেরে চিৎকার করে কান্না শুরু করে। শিশুর চিৎকারে প্রতিবেশীরা তালা ভেঙে প্রথমে শিশুটিকে উদ্ধার করে। পরে পুলিশে খবর দিলে শিশুটির মায়ের মৃতদেহ পাঠানো হয় মর্গে ময়না তদন্তের জন্য। মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কোতালেরবাগ বৌবাজার এলাকায়।

নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরফুদ্দিন জানান,  কোতালেরবাগ এলাকার আছিল্লা সর্দারের ছেলে আল-আমিনের সাথে বিয়ে হয় গার্মেন্ট কর্মী রীমা আক্তারের। তাদের ঘরে দেড় বছরের শিশু সন্তান নাহিদ। বৃহস্পতিবার প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া নাছিমা আক্তার বাসায় ফিরে আল-আমিনের ঘরে তার দেড় বছরের শিশুপুত্র নাহিদের কান্নার শব্দ শুনতে পায়। বেশ কিছুক্ষণ কান্নার শব্দ শুনে টিনের একচালা ঘরের কাছে গিয়ে দেখতে পায় বাইরে থেকে ঘরের দরজায় তালা দেওয়া। এরপর টিনের ফুটো দিয়ে তাকিয়ে দেখে আল-আমিনের স্ত্রী রিমা খাটের উপর দু’হাত ছড়িয়ে নিথর হয়ে পড়ে আছে। শিশুটি বুকের কাছে বসে রিমার হাতের আঙ্গুল চুষছে। আবার কাঁদছে। 

ওইসময় ঘর থেকে মারাত্মক পঁচা দুর্গন্ধ পেয়ে আশপাশের লোকজনদের ডেকে নিয়ে তালা ভেঙ্গে স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে। খবর পেয়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওই বাড়ি থেকে রিমার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ।

এলাকাবাসী জানান, আল-আমিন এর আগে এক গার্মেন্ট কর্মীকে বিয়ে করে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। এতে ওই মেয়ে কয়েক মাস সংসার করে পালিয়ে যায়। তার নাম জানাতে পারেনি কেউ। পরে প্রায় আড়াই বছর আগে গার্মেন্ট কর্মী রিমাকে বিয়ে করে আল-আমিন। বিয়ের পর থেকে রিমাকেও কারণে-অকারণে মারধর করত। কয়েক মাস আগে রিমাকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয় আল-আমিন। এরপর এক সপ্তাহ আগে আল-আমিন এক আত্মীয়র বাসা থেকে রিমাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। সর্বশেষ সোমবার সকালে বাড়ির আশপাশের লোকজন রিমাকে ঘরের সামনে বসে থাকতে দেখেছেন।

এলাকাবাসী আরো জানায়, আল-আমিন ও তার বড় ভাই বাবু এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। সম্প্রতি বাবুকে মাদকসহ পুলিশ গ্রেফতার করে।

পুলিশ সুপার শরফুদ্দিন আরো জানান, নিহত রিমার স্বামী আল-আমিনসহ তাদের পরিবারের কেউ বাড়িতে নেই। সবাই আত্মগোপনে। আল-আমিনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71