বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৩০শে কার্তিক ১৪২৫
 
 
নোবেল বিজয়ী প্রাণরসায়নবিদ হর গোবিন্দ খোরানা
প্রকাশ: ০২:০৪ am ২৬-০৩-২০১৫ হালনাগাদ: ০২:০৪ am ২৬-০৩-২০১৫
 
 
 


হর গোবিন্দ খোরানা (জন্ম: ৯ জানুয়ারি,১৯২২) ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বিজ্ঞানী। তিনি ১৯৬৮ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি আমিনো এসিডের কোডন এর সিকুয়েন্স বের করার এক সহজ পদ্ধতির আবিষ্কার করেন।
তিনি লাহোরের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৩ সালে বিএসসি এবং ১৯৪৫ সালে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৮ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৫২ সালে ভ্যাঙ্কুভারের ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় যোগদান করেন। ১৯৬০ সালে ম্যাডিসনের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিনে যোগদান করেন। ১৯৭০ সালে তিনিম্যাসাচুসেট্‌স ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে যোগদান করেন এবং ২০০৭ সাল পর্যন্ত সেখানে শিক্ষকতা করেন।
২০১১ সালের ৯ নভেম্বর তিনি ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বায়োকেমিস্ট হর গোবিন্দ খোরানা(Har Gobind Khorana) ১৯৬৮ সালে নোবেল পুরস্কার (Nobel Prize in Physiology or Medicine) প্রাপ্ত হন। তিনি সর্বপ্রথম কোষের কার্যসম্পাদনকারী প্রোটিন কিভাবে জেনেটিক সংকেত (genetic code) থেকে প্রস্তুত হয়ে থাকে তা প্রদর্শন করেন। তার সাথের নোবেল বিজয়ীরা হলেন কে মার্শাল ডব্লিউনিরেনবার্গ (Marshall W. Nirenberg ) এবং রবার্ট ডব্লিউ হোলে (Robert W. Holley )। উনারা প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা ভাবে গবেষণা করে উৎঘাটন করেন যে কিভাবে নিউক্লিক আসিডের(nucleic acids) মধ্যে থাকা নিউক্লিওটাইড (nucleotides, যা কীনা কোষের জেনেটিক কোড বহন করে), কোষের প্রোটিন সংশ্লেষণ (synthesis of proteins) নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
তাদের গবেষণা ছিল RNA তে প্রাপ্ত নিউক্লিক এসিডসমূহ । কোষের জন্য যে অত্যাবশ্যকীয় তিনটি উপাদান তা হচ্ছে RNA, DNA এবং প্রোটিন । RNA এর চারটি বেস বা ক্ষারক, adenine, cytosine,uracil এবং guanine, যা A, C, U এবং G,দ্বারা প্রকাশ করা হয়। এই তিনজন বিজ্ঞানী দেখিয়েছেন যে এই রাসায়নিক বেস তিন অক্ষরের "শব্দ" (“words”) গঠন করে যা সংশ্লিষ্ট অ্যামিনোএসিডের প্রতিনিধিত্ব করে । মূলত এই সঙ্কেত এবং এমাইনো এসিডের মধ্যকার যোগসূত্র স্থাপন করাটা ছিল একটা চ্যালেঞ্জ। নিরেনবার্গ এদের প্রথমটি আবিষ্কার করলেন যা ছিল ফিনাইলএলানিন (phenylalanine )। কিন্তু খোরানা এতে সন্তুষ্ট থাকলেন না, তিনি সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক খুঁজতে লাগলেন এবং বের করতে সমর্থ হলেন। তিনি পরে ওগুলোর সেরিন (serine ) এবং লেউসিন (leucine)হিসেবে নামকরন করলেন। তার এই অসামান্য পর্যবেক্ষনের মধ্য দিয়েই তিনিই প্রথম সুস্পষ্ট ভাবে ব্যাখ্যা করলেন যে সব জেনেটিক বার্তাই তিনটি অক্ষর দ্বারা গঠিত এবং এরূপ মোট ৬৪ টি বিন্যাস পাওয়া সম্ভব ।এরই মধ্য দিয়ে তিনি বিজ্ঞানীদের জন্য তিনি তৈরি করে ফেললেন একটি জেনেটিক কোড বা সংকেতের একটি পুর্নাঙ্গ “অভিধান” (“dictionary” ) যাতে প্রতিটি এমাইনো এসিডকে সুনির্দিষ্ট ভাবে সংজ্ঞায়িত করা আছে। তিনি নিরেনবার্গ কে সাথে নিয়ে এও আবিষ্কার করলেন যে প্রাপ্ত এই শব্দ গুলোই নির্ধারন করে সঙ্কেতের কোথা থেকে শুরু করতে হবে এবং কথাই বা তা পড়া শেষ হবে।
১৯৭২ সালে তিনি আরেক বিস্ময় দেখালেন। হাতের কাছের পাওয়া যায় এমন সহযলভ্য (off-the-shelf chemicals) রাসায়নিক বস্তু দিয়ে কৃত্রিম জিন তৈরি করে ফেললেন। এর ৪ বছর পর তিনি ঘোষনা দিলেন যে ব্যাকটেরিয়ার কোষে কৃত্রিম জিনের কার্যকারিতা পাওয়া গেছে, যা বর্তমান জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর জন্য মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে।
তার পরবর্তি পর্যায়ের গবেষণা ছিল মেরুদন্ডী প্রাণীর দৃষ্টি নিয়ে। তিনি আণবিক পর্যায়ে গবেষণা করেন মূলত চোখের রডোপসিন (Rhodopsin) কোষের গঠন ও কাজ নিয়ে মধ্যে । তিনি গবেষণা করে বের করেন যে রেটিনার প্রদাহ , রাতকানা এসব রডোপসিনের জেনেটিক বিকারের ফল যাকে বলা হয় মিউটেশন

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71