সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯
সোমবার, ৯ই বৈশাখ ১৪২৬
সর্বশেষ
 
 
নড়াইলে দুর্বৃত্তদের ভয়ে বাড়িছাড়া এক পরিবার
প্রকাশ: ০৩:৫৩ pm ২১-০৭-২০১৮ হালনাগাদ: ০৩:৫৩ pm ২১-০৭-২০১৮
 
নড়াইল জেলা প্রতিনিধি 
 
 
 
 


নড়াইলের পাঁচগ্রাম ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামে একটি হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে বাদীপক্ষের ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে একটি পরিবার অসহায় জীবনযাপন করছে। 

বাদীপক্ষের দুর্বৃত্তরা যাদবপুর গ্রামের দুলাল মোল্যার (৬৫) বাড়িতে হামলা চালিয়ে তিনটি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া স্বর্ণালংকার, টাকা, পুকুরের মাছ, টিউবওয়েল, জমির ধান ও আসবাবপত্র লুটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। 

দুলাল মোল্যা অভিযোগ করে বলেন, এই গ্রামের পান দোকানি সাঈদ ভূঁইয়া (৬০) হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে আমার বাড়িতে দু’দফা হামলা চালিয়েছে ব্যাপক ক্ষতি করেছে বাদীপক্ষের লোকজন। আমার পরিবারের কেউ এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত নয়। এমনকি আমরা এ মামলার আসামিও নই। তবুও বাদীপক্ষের অব্যাহত অত্যাচারে বাড়িঘরে থাকতে পারছি না। গত সাড়ে তিন মাসে দুই বার বাড়িঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। এরই মধ্যে ১২ জুলাই বিকেল সোয়া ৫টার দিকে আমার বাড়িতে ভাংচুর করে চিহিৃত দুর্বৃত্তরা। তিনটি ঘরের জানালা, দরজাসহ আসবাবপত্র কুপিয়ে ও ভাংচুর করে সবকিছু তছনছ করে। যাবদপুর গ্রামের কিবরিয়া গাজীর নেতৃত্বে হুমাউন শেখ, জুবা শেখ, রমজান শেখ, রাসেল গাজী, জাকির গাজী, হাদিউর সরদার, হাসিকুল সরদার, সেলিম ভূঁইয়া ও মহব্বত ভূঁইয়াসহ বেশ কয়েকজন বাড়িঘরে হামলা চালায়। হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ওপর হামলা করতে গেলে দৌঁড়ে পালাই। আমাদের পরিবার আওয়ামী লীগ সমর্থক হলেও দুইবার বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট হয়েছে। আর সাঈদ হত্যাকান্ডের ঘটনাস্থল থেকে আমাদের বাড়ি প্রায় এক কিলোমিটার উত্তরদিকে হলেও আমাদের ওপর অত্যাচার চলছে।

এলাকাবাসী জানান, গৃহকর্তা দুলাল মোল্যা বাড়িতে এসেছেন; এমন খবর শুনে তার বাড়িঘর কুপিয়ে তছনছ করে। 

দুলাল মোল্যার স্ত্রী মিলা বেগম বলেন, কিবরিয়া গাজীর নেতৃত্বে তার লোকজন ১২ জুলাই বিকেলে আমার স্বামীকে খুন করতে যায়। আতচিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এর আগে আমাদের বাড়ি থেকে চিহিৃত দুর্বৃত্তরা প্রায় আট ভরি স্বর্ণালংকার, প্রায় ৩০ হাজার টাকা, খাটসহ বিভিন্ন আসবাপত্র লুট করে। এমনকি ২০১৪ সালে হজ পালন করে সৌদিআরব থেকে আনা আমাদের দু’জনের (স্বামী-স্ত্রী) কাফনের কাপড় পর্যন্ত লুট করে নিয়ে গেছে তারা। পুকুরের প্রায় ১০ মণ মাছও লুট করেছে। এমনকি টিউবওয়েল পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে। প্রায় ১৮০ শতক জমির বোরো ধান কেটে নিয়ে গেছে। গেল রোজার ঈদ আমরা বাড়িতে করতে পারিনি। আমাদের পরিবারের ১৩ সদস্য বাড়িঘর ছাড়া। ছেলেরা কর্মস্থল থেকে ছুটি পেলেও বাড়িতে আসতে পারছে না। আমি এবং আমার স্বামী দিনেরবেলা মাঝে-মধ্যে বাড়িতে আসলেও দুর্বৃত্তরা বিভিন্ন ধরণের হুমকি দেয়। আমাদের সামনেই বাড়িঘরে লুটপাট ও ভাংচুর চালায়। ভয়ে কিছু বলতে পারি না। এ ব্যাপারে আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চাই। 

প্রতিবেশিরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দুলাল মোল্যার পরিবারের সদস্যরা নিরিহ ও শান্ত প্রকৃতির মানুষ। অথচ বাদীপক্ষের লোকজনের ভয়ে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এছাড়াও এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় যাদবপুর গ্রামের আরো ৩০টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। 

এ ব্যাপারে কিবরিয়া গাজীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে কিবরিয়া গাজীর সমর্থক হাদিউর সরদার বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা। দুলাল মোল্যার ওপর দু’টি ছেলে হামলা করতে গেলেও আমরা তাদের প্রতিহত করেছি।

কালিয়া থানার ওসি শেখ শমসের আলী জানান, এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। 

জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৩১ মার্চ যাদবপুর গ্রামের পান দোকানি সাঈদ ভূঁইয়াকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এই গ্রামের কিবরিয়া গাজীর সঙ্গে হেমায়েত মুন্সির দীঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলে আসছে। নিহত সাঈদ ভূঁইয়া কিবরিয়া গাজীর সমর্থক।


ইউআর/বিডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71