সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৯ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
নড়াইলে প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়েই হচ্ছে বাল্যবিবাহ
প্রকাশ: ০৯:০১ pm ১৮-০৪-২০১৮ হালনাগাদ: ০৯:০১ pm ১৮-০৪-২০১৮
 
নড়াইল প্রতিনিধি:
 
 
 
 


নড়াইল পুলিশ লাইন থেকে ৩০ গজ এবং জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অফিস থেকে ১০০ গজ দূরে অবস্থিত আদিবাসী পাড়া। নড়াইল পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত এই পাড়ায় রবিবার রাতে জোরালে সাউন্ড বক্স বাজিয়ে বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটেছে। 

যে খবর কি না পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন এবং মহিলা বিষয় কর্মকর্তা পর্যন্ত রাখেন না। এক প্রকার প্রশাসনের নাগের ডগায় বাল্যবিবাহের মতো অপরাধমূলক কর্মকান্ড ঘটে গেল। 

জানা গেছে, বর মৃত নিরঞ্জন সরদারের ছেলে সঞ্জয় সরদার (২৫) এবং কনে সরদারের মেয়ে তৃপ্তি সরদার (১৫)। অহরহ এই পাড়ায় বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটেই চলেছে। দেড় মাস আগেও এই পাড়ায় বাল্যবিবাহ হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। 

নাম না প্রকাশের শর্তে পাড়ার একাধিক বাসিন্দা জানান, সঞ্জয় সরদার নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে বি.কম পাশ করে খুলনা বি.এল কলেজে এমবিএতে ভর্তির প্রক্রিয়ায় আছেন। মেয়ে পাড়ার পাশে শিবশংকর বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। দীর্ঘদিন দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। পাড়ার মাতবর কার্তিক সরদার এবং জসিম সরদার দু’জনের বিবাহ দেন। বিবাহ পড়ানোর জন্য প্রথমে জমিদারদার বাড়ি সর্বমঙ্গলা কালী মন্দিরের পুরোহিতের কাছে গেলে তিনি বাল্যবিবাহ পড়াতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে নড়াইল পৌরসভার ভাদুলীডাঙ্গা গ্রামে নিয়ে বিবাহ দেওয়া হয়। ছেলে পক্ষের অভিভাবক হন অমল সরদার এবং মেয়ে পক্ষের অভিভাবক হন জসিম সরদার। 

শিবশংকর বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, তৃপ্তি সরদার আমার বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। তার বিবাহ হয়েছে কিনা জানা নেই। তবে সে আজকে স্কুলে অনুপস্থিত। এই পাড়ায় অহরহ বাল্যবিবাহ হয়ে থাকে। দেড় মাস আগেও ওই পাড়ার নুপুর নামে নবম শ্রেণির একটি মেয়ের বিবাহ হয়েছে। 

পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এহসান আলী তুফান বলেন, বাল্যবিবাহের বিষয়টি তার জানা নেই। তবে ওই পাড়ায় মাঝেমধ্যে বাল্যবিবাহ ঘটে থাকে বলে আমি শুনেছি। কয়েক মাস আগে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিয়ে বেশ কয়েকটি বিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। পাড়ার মাতবরদের খোঁজ নিয়ে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। জসিম সরদারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 
জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ আনিচুর রহমান বলেন, একটি প্রশিক্ষণে বর্তমানে ঢাকায় আছি। আদিবাসী পাড়ায় বাল্যবিবাহের ঘটনার কথা জানা নেই। 

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, আদিবাসী পাড়ায় বিবাহের কথা জানা নেই। 

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা সেলিম বলেন, আদিবাসী পাড়ায় এ ধরনের বাল্যবিবাহের ঘটনার কথা জানা নেই। জানতে পারলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারতাম।

বিডি


 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71