সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯
সোমবার, ৯ই বৈশাখ ১৪২৬
সর্বশেষ
 
 
পঞ্চম দিন কুরুক্ষেত্রে কি ঘটেছিল
প্রকাশ: ০৮:৪১ pm ২১-০৪-২০১৮ হালনাগাদ: ০৮:৪১ pm ২১-০৪-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


কৌরবেরা গড়লেন মকর ব্যুহ। সামনে আর পিছনে অল্প সংখ্যক সেনা রেখে মধ্য ভাগ স্থুল করলে তিন রকমের ব্যুহ হয়- বরাহ, মকর ও গারুড়।

এর বিরুদ্ধে পান্ডবেরা গড়লেন শ্যেন(বাজ পাখী) ব্যুহ। এই ব্যুহের বিবরণ কোথাও পাই নি। তবে অনুমান করতে পারি যে আমেরিকান ঈগলের লোগোর মতন এই ব্যুহের দুই পক্ষ ছিলো উদ্যত আর বাজ পাখীর মুখের মতন মূল মহারথীরা ছিলেন মধ্যস্থলে।

পান্ডব ব্যুহের একেবারে সামনে, ভ্যানগার্ড হিসেবে ভীমসেন(বাজ পাখীর ঠোঁটে) আর তার পিছনেই শিখন্ডী আর ধৃষ্টদ্যুম্ন( দুই চোখ), অর্জুন আরেকটু ভিতরে (পাখীর গলায়)। যুধিষ্ঠির সব দিনই যেমন থাকেন, অনেকটা পিছনে রইলেন।

যুদ্ধের শুরুতেই দুর্যোধন দ্রোণের কাছে গিয়ে অনুযোগ করলেন। "আপনারা থাকতে পান্ডবেরা কী ভাবে যুদ্ধে জিততে পারে? কিছু একটা বিহিত করুন"

যুদ্ধের শুরুতেই শিখন্ডী গিয়ে ভীষ্মকে আক্রমন করলেন। ভীষ্ম তো শিখন্ডীকে আঘাত করবেন না। দুর্যোধন তখন দ্রোণকে খবর দিলেন। দ্রোণও দ্রুত শিখন্ডী দিকে তাড়া করে আসতেই শিখন্ডী "বিত্রস্তমনে ভীষ্মকে পরিত্যাগ করিয়া গমন করিলেন"।

সংকুল যুদ্ধ শুরু হল। সমগ্র রণাঙ্গনেই দ্বৈরথ চলছিলো তুল্যমূল্য বিচারে। যথা ভীষ্ম বনাম অর্জুন, ভীম ও জয়দ্রথ। স্বপুত্র দ্রোণের বিরুদ্ধে দ্রুপদ ও চেকিতান। ক্রমাগতই যোদ্ধারা অদল বদল হচ্ছিলো। যেমন কিছু পরেই ভীষ্মের মুখোমুখী হলেন ভীম আর অর্জুনের সাথে লড়াই বাঁধলো অশ্বত্থামার। সেই দ্বৈরথে পরিস্থিতি ছিলো যাকে বলে "অ্যাড্ভান্টেজ অর্জুন" কিন্তু অর্জুন মনে করলেন "ইনি আমার আচার্য্যের অতি প্রিয় সন্তান তাই ব্রাহ্মণ, অতএব আমার পরম মাননীয়"। এই ভেবে অশ্বত্থামার প্রতি কৃপা দেখিয়ে তিনি সাধারন কৌরব সেনা নিধনেই মন দিলেন।

রোজই যেমন হয়, অভিমন্যু আর লক্ষণের একটা দ্বৈরথ হবে এবং তাতে লক্ষণ সম্পুর্ণ পরাজিত হন। তার ঘোড়া ও সারথি নিহত হলে দ্রোণ এসে বিক্ষত লক্ষণকে নিজের রথে বসিয়ে চলে গেলেন। লড়াই হবে সাত্যকি আর ভুরিশ্রবার মধ্যেও। এরা খুব প্রাচীন জ্ঞাতি শত্রু। আজকের লড়াইতে ভুরিশ্রবা সাত্যকির দশ ছেলেকেই নিহত করবেন। ক্রুদ্ধ সাত্যকি ভুরিশ্রবার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। দুজনের তুমূল লড়াই হবে আর দুজনেরই রথ চুর্ণ হলে দুজনেই ঢাল তরোয়াল নিয়ে মুখোমূখী হলেন। সে সময়ে ভীমসেন এসে সাত্যকিকে আর দুর্যোধন এসে ভুরিশ্রবাকে নিজের নিজের রথে তুলে নিয়ে গেলেন। প্রায় প্রতিদিনই এদের লড়াই হবে। একেবারে জয়দ্রথ বধের দিন অর্জুনের সাহায্যে ভুরিশ্রবাকে নিহত করবেন সাত্যকি। সমস্ত কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে এই একবারই অর্জুন তাঁর কোড অব কন্ডাক্ট ভাঙবেন।

তখন দিনও শেষ হয়ে এসেছে। ভীষ্ম আজকের মতন যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করলেন।


বিডি


 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71