মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ১০ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
পদ্মা ব্রিজ দিয়ে কী হবে?
প্রকাশ: ১০:৩৭ am ১৬-০৬-২০১৭ হালনাগাদ: ১০:৩৭ am ১৬-০৬-২০১৭
 
 
 


মুহম্মদ জাফর ইকবাল : একটা দেশ কেমন চলছে সেটা বোঝার উপায় কী? জ্ঞানী গুনী মানুষদের নিশ্চয়ই এটা বের করার নানা উপায় আছে।

তারা অর্থনীতির দিকে তাকাবেন, দেশের আইন শৃঙ্খলা বিবেচনা করবেন, দুর্নীতির পরিমাপ করবেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা যাচাই করবেন এবং আরো অনেক কিছু বিশ্লেষণ করে একটা রায় দেবেন।

আসলে দেশ কেমন চলছে সেটা বের করা খুবই সহজ। দেশের একজন সংখ্যালঘু মানুষকে নিরিবিলি জিজ্ঞেস করবেন, “দেশটি কেমন চলছে?” সেই সংখ্যা লঘু যদি বলে, “দেশ ভালো চলছে”, তাহলে বুঝতে হবে দেশটি ভালো চলছে। আর সেই মানুষটি যদি ম্লান মুখে মাথা নেড়ে বলে, “দেশটি ভালো চলছে না”, তাহলে বুঝতে হবে আসলেই দেশটি ভালো চলছে না।

দেশে দশটা পদ্মা সেতু, এক ডজন স্যাটেলাইট আর দশ হাজার ডলার পার ক্যাপিটা আয় হলেও যদি সংখ্যা লঘু মানুষটি বলে, দেশ ভালো নেই তাহলে বুঝতে হবে আসলেই দেশ ভালো নেই। (সংখ্যা লঘু শব্দটি লিখতে আমাদের খুব সংকোচ হয়, সবাই একই দেশের মানুষ এর মাঝে কেউ কেউ সংখ্যা-গুরু। কেউ কেউ সংখ্যা লঘু সেটি আবার কেমন কথা? কিন্তু আমি যে কথাটি বলতে চাইছি সেটি বোঝানোর জন্যে এই শব্দটি ব্যবহার করা ছাড়া উপায় ছিল না। )

এখন যদি আমরা এই দেশের একজন হিন্দু, সাঁওতাল বা পাহাড়ী মানুষকে জিজ্ঞেস করি দেশ কেমন চলছে তারা কী বলবে? নাসির নগরে হিন্দুদের বাড়ী জ্বালিয়ে পুড়িয়ে সবাইকে ঘর ছাড়া করা হয়েছিল। গাইবান্ধায় পুলিশেরা সাঁওতালদের ঘরে আগুন দিচ্ছে পত্র পত্রিকায় সেই ছবি ছাপা হয়েছে। সর্বশেষ হচ্ছে রাঙামাটিতে লংগদুর ঘটনা, পাহাড়ী মানুষদের বাড়ি জ্বলিয়ে তাদের সর্বস্ব লুট করে নেয়া হয়েছে।

প্রাণ বাঁচানোর জন্যে যে মা তার সন্তানদের বুকেচেপে ধরে মাইলের পর মাইল পাহাড় অতিক্রম করে জংগলে লুকিয়ে আছে, বৃষ্টিতে ভিজেছে, রৌদ্রে পুড়েছে, অভুক্ত থেকে মশার কামড় খেয়ে প্রতি মুহূর্তে আতংকে চমকে চমকে উঠছে আমি যদি তাকে বলি, বাংলাদেশ অনেক বড় সম্ভাবনার দেশ, এবারের উন্নয়নের বাজেটই হয়েছে চার লক্ষ কোটি টাকার, পদ্মা ব্রিজের চল্লিশ শতাংশ কাজ হয়ে গেছে, আগামী মাসে আমাদের নিজস্ব বঙ্গবন্ধু স্যাটালাইট মহাকাশে পাঠানো হবে - সেই অসহায় মা কী আমার কথা শুনে শূন্য দৃষ্টিতে আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে থাকবেন না?

তাকে কি আমি কোনোভাবে বুঝাতে পারব আমাদের অনেক কষ্ট করে যুদ্ধ করে, রক্ত দিয়ে পাওয়া দেশটি স্বপ্নের একটি একটি দেশ? আমি তাঁকে কিংবা তাদের মতো অসংখ্য পাহাড়ী মানুষকে সেটি বোঝাতে পারব না। তাদের কাছে এই দেশটি একটি বিভীষিকা, যেখানে প্রকাশ্যে হাজার হাজার মানুষ এসে পুরোপুরি নিরপরাধ মানুষের বাড়ি-ঘর জ্বলিয়ে দেয়।

তাদের রক্ষা করার কেউ নেই, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপদ দুরত্বে দাঁড়িয়ে থেকে এই ঘটনাগুলো ঘটতে দেয়। এই ঘটনাটি ঘটবে সেটি সবাই আঁচ করতে পারে তারপরও কেউ সেটা কমানোর চেষ্টা করে না। আমি নিজেকে এই পাহাড়ি মানুষের জায়গায় বসিয়ে পুরো বিষয়টা কল্পনা করে আতংকে শিউরে উঠেছি।

পৃথিবীতে অন্যায় কিংবা অপরাধ হয় না তা নয়। আমরা প্রতি মুহূর্তেই আমাদের চার পাশে এগুলো দেখছি। কিন্তু লংগদুর ঘটনাটা ভিন্ন। যুবলীগের একজন কর্মীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। কে মেরেছে ঠিক ভাবে জানা নেই। প্রচার করা হয় দুজন চাকমা তরুন এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের শাস্তি দেওয়ার জন্যে বেছে নেওয়া হলো পুরোপুরি নির্দোষ কিছু পাহাড়ী গ্রামবাসী। একজন দুইজন ক্রুদ্ধ মানুষ নয় হাজার হাজার সংগঠিত মানুষ পেট্রোলের টিন আর ট্রাক্টর নিয়ে হাজির হলো। পেট্রোল দিয়ে বাড়িতে বাড়িতে আগুন দেওয়া হলো, আর ট্রাক্টর ব্যাবহার করা হলো লুট করা মালপত্র বোঝাই করে নেওয়ার জন্যে।

বিচ্ছিন্ন একজন কিংবা দুইজন মানুষ বাড়াবাড়ি কিছু একটা করে ফেলেছে সেটি বিশ্বাস করা যায়। কিন্ত কয়েক হাজার মানুষ একটা ভয়ংকর অন্যায় করার জন্যে একত্র হয়েছে সেটা আমরা বিশ্বাস করি কেমন করে। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস করতে হবে, কারণ আমরা বার বার এই ঘটনা ঘটতে দেখছি। আমরা কেমন করে এতো হৃদয়হীন হয়ে গেলাম?

আমরা জানি কিছুদিন আগেও আমাদের ছেলেমেয়েদের পাঠ্য বইয়ে আদিবাসী মানুষদের সম্পর্কে অনেক ধরনের অসম্মানজনক কথা লেখা থাকতো। সচেতন মানুষেরা একটি একটি করে বিষয়গুল সবার চোখের সামনে এনেছে তখন সেগুলো ঠিক করা হয়েছে। কিন্তু একটা প্রশ্নতো আমরা করতেই পারি, এই পাঠ্যবই অশিক্ষিত, আর্ধশিক্ষিত, রুচিহীন, বুদ্বিহীন মানুষেরা লিখেন না। এই বইগুলো লিখেন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাবিদেরা, লেখা শেষ হওয়ার পর সম্পাদনা করেন আরো গুরুত্বপুর্ন মানুষ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকেরা। তাহলে পাঠ্য বই গুলোতে এরকম অবিশ্বাস্য সাম্প্রদায়িক কথা কেমন করে লেখা হয়, কেমন করে আদিবাসী মানুষদের এতো অসম্মান করা হয়।

কারণটা আমরা অনুমান করতে পারি। আমরা যাদেরকে বড় বড় শিক্ষিত মানুষ হিসেবে ধরে নিয়েছি তাদের মনের গভীরে লুকিয়ে আছে সংকীর্নতা। যারা আমাদের মত নয় তারা অন্য রকম, তারা আন্যরকম মানেই অগ্রহণযোগ্য, অন্যরকম মানেই খারাপ, অন্যরকম মানেই নাক শিটকে তাকানো।

অথচ পুরো ব্যপারটাই আসলে ঠিক তার বিপরীত। সারা জীবনে আমি যদি একটা বিষই শিখে থাকি তাহলে সেটা হচ্ছে একটা উপলব্দি যে, “বৈচিত্র হচ্ছে সৌন্দর্য”। কোনো মানুষ কিংবা সম্প্রদায় যদি অন্যরকম হয়ে থাকে তাহলে এটা হচ্ছে বৈচিত্র এবং সেই বৈচিত্রটুকুই সৌন্দর্য।

পৃথিবীতে অনেক সৌভাগ্যবান দেশ রয়েছে যেখানে অনেক দেশর অনেক মানুষ পাশাপাশি থাকেন। তারা দেখতে ভিন্ন, তাদের সুখের ভাগ ভিন্ন, এদের কালচার ভিন্ন, ধর্ম ভিন্ন, খাবার কিংবা পোশাক ভিন্ন। আমরা সেদিক থেকে অনেক দূর্ভাগা, আমাদের দেশে মানুষের মধ্যে সেই বৈচিত্র নেই। ঘর থেকে বের আমরা যেদিকেই তাকাই সেদিকেই আমরা একই রকম মানুষ দেখতে পাই, তাদের মুখের ভাষা, চেহারা পোষাক কোনো কিছুতেই পার্থক্য নেই। আমাদের দেশে একটু খানি ভিন্ন ধরনের মানুষ হচ্ছেন সাঁওতাল কিংবা গারো মানুষ, পাহাড়ী মানুষ। এই মানুষগুলোকে আমাদের বুকে আগলে রাখার কথা অথচ আমরা তাদের অবহেলা করি।

আমাদের পরের প্রজম্মকে শেখাতে হবে পৃথিবীরর সৌন্দর্য হচ্ছে বৈচিত্র। সারা পৃথিবীতে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হচ্ছে ডাইভারসিটি। একটি দেশ যত ডাইভারসিটি সেই দেশটি তত সম্ভাবনাময়। নতুন পৃথিবী আধুনিক পৃথিবী। আধুনিক পৃথিবীর মানুষেরা একে অন্যের সঙ্গে বিভেদ করে না। শুধু যে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করে তা নয়, গাছ, ফুল, পশুপাখী সবাই মিলে যে একটা বড় পৃথিবী এবং সবার যে পাশাপাশি বেঁচে থাকার অধিকার আছে সেটিও মনে প্রাণে বিশ্বাস করে।

আমার শৈশবটি কেটেছে বাংলাদেশের নানা এলাকায়। বাবা পুলিশের অফিসার হিসেবে দুই তিন বছর পর পর নূতন জায়গায় বদলি হয়ে যেতেন। সেই সুযোগে আমরা রাঙামাটি আর বান্দরবান এই দুই জায়গাতেও ছিলাম। বান্দরবানে আমি স্কুলে পড়েছি, আমাদের ক্লাশে বাঙালি ছেলেমেয়ের পাশাপাশি পাহাড়ী ছেলেমেয়েরাও ছিল। তাদের অনেকে ভালো বাংলা বলতে পারতো না,এখন অনুমান করি সে কারণে লেখাপড়াটা নিশ্চয়ই তাদের জন্য অনেক কঠিন ছিল।

ক্লাশের ভেতরে লেখাপড়াটা নিয়ে আমাদের আগ্রহ ছিল না, ক্লাশে ছুটির পর বনে জংগলে পাহাড়ে নদীতে ঘুরে বেড়ানোতে আমাদের আগ্রহ ছিল বেশী তাই ভালো বাংলা না জানলেও সেটা কোনো সমস্যা হতো না। ধর্ম, ভাষা, গায়ের রং শরীরের গঠন কিংবা কালচার ভিন্ন হলেও সব মানুষ যে একেবারে একই রকম সেটি আমি শিখেছি নিজের অভিজ্ঞতায়। বান্দরবানে সেই স্কুলে আমি আমার জীবনের সবচেয়ে চমকপ্রদ শিক্ষক পেয়েছিলাম যার কথা আমি কখনো ভুলিনি। আমি আমার নিজের শিক্ষক জীবনে তার শেখানো বিষয়গুলো এখনো ম্যাজিকের মত ফল পেয়ে যাচ্ছি।

আমাদের এই শিক্ষক ছিলেন একজন পাহাড়ী (সম্ভবত মারমা) মহিলা। পাহাড়ী পোষাকে ক্লাশে আসতেন। একজন মানুষকে বিচার করতে হলে কখনো তার চেহারা নিয়ে কথা বলতে হয় না। কিন্তু অসৌজন্যমূলক হলেও আমাকে একটু খানি বলতে হচ্ছে মধ্যবয়স্কা এই মহিলার গলগন্ড রোগ ছিল বলে, তাঁকে কোনো হিসেবে সুন্দরী বা আকর্ষণীয় বলার উপায় নেই। ভদ্রমহিলা এক দুইটির বেশী বাংলা শব্দ জানতেন না। তিনি আমাদের ড্রয়িং টিচার ছিলেন কিন্তু ছবি আঁকতে পারতেন না, কোনোদিন চক হাতে বোর্ডে কিছু আঁকার চেষ্টা করেন নি।

কিন্তু তারপরও আমাদের ড্রয়িংক্লাশ নিতে কখোনো তাঁর কোনো অসুবিধা হতো না।ক্লাশে এসে তিনি বলতেন,“লাউ আঁকো” কিংবা “বেগুন আঁকো”-এর বেশী কিছু বলেছেন বলে মনে পড়ে না।

আমারা তখন লাউ কিংবা বেগুন আঁকতাম। আমাদের সবারই স্লেট-পেন্সিল ছিল,যাবতীয় শিল্প কর্ম সেখানেই করা হতো। ছেলে মেয়েরা লাউ কিংবা বেগুন এঁকে আমাদের ড্রয়িং টিচারের কাছে নিয়ে যেতো। লাউয়ের এবং বেগুনের আকার আকৃতি দেখে তিনি বিভিন্ন মাত্রার উল্লাস প্রকাশ করতেন এবং চক দিয়ে স্লেটের কোনায় মার্ক দিতেন। কেউ চার, কেউ পাঁচ, কেউ ছয় কিংবা সাত। আমার ছবি আঁকার হাত ভালো ছিল তাই আমার লাউ কিংবা বেগুন দেখে তিনি উল্লাসিত হয়ে দশ দিয়ে দিলেন।

ড্রয়িং ক্লাশ হতে লাগলো, তিনি আমাদের শিল্পকর্মে নম্বর দিতে লাগলেন এবং আমরা আবিষ্কার করলাম তার নম্বরও বাড়তে শুরু করেছে। দশের বাধা অতিক্রম করে পনেরো কেউ সতেরো পেতে লাগলো। কতোর ভেতর পনেরো কিংবা সতেরো সেটা নিয়ে আমাদের কোনো প্রশ্ন ছিল না। হয়তো প্রজাপ্রতি আঁকতে দিয়েছেন, কেউ প্রজাপ্রতি এঁকে নিয়ে গেছে এবং তাকে বাইশ দিয়েছেন। পরের জনের প্রজাপ্রতি হয়তো আরো সুন্দর হয়েছে তাকে তিরিশ দিলেন এর পরের জন হয়তো পুরো চল্লিশ পেয়ে গেলো।

আমরা সব ক্লাশেই লেখাপড়া করে আসছি কোথাও এরকম নম্বর পাইনি, একটা কলা এঁকে যখন নব্বই পেয়ে যাই তখন মনে হয় রাজ্য জয় করে ফেলেছি! কাজেই আমাদের এই ড্রয়িং ক্লাশটা ছিল আনন্দময় একটা সময়। লাউ কলা প্রজাপ্রতি শেষ করে তখন আমারা পশুপাখী আঁকতে শুরু করলাম। শুধুমাত্র একটা গরু এঁকে একদিন আমি আটশত পঞ্চাশ পেয়ে গেলাম-আনন্দে উত্তেজনায় আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবার অবস্থা। আমাদের ড্রয়িং টিচার ততদিনে বুঝে গেছেন আমি ভালো আঁকতে পারি এবং সেজন্য আমার প্রতি তাঁর এক ধরনের স্নেহ ছিল। প্রায় নিয়মিতভাবে আমি ক্লাশে সবার চাইতে বেশী নম্বর পেয়ে আসছি।

একদিন ক্লাসে এসে বললেন, “বুডডিশ আঁকো”, শব্দটি আমি বুঝতে পারি নি, তখন অন্যরা বুঝিয়ে দিল। ড্রয়িং টিচার বৌদ্ধ মূর্ত্তি আঁকতে বলেছেন। আমি তখন বিপদে পড়ে গেলাম। বান্দরবানের ক্যাং ঘরে নানা রকম বৌদ্ধ মূর্ত্তি দেখে এসেছি কিন্তু তার ছবি আঁকার মতো খুটি নাটি লক্ষ্য করিনি।

আমদের ক্লাশে আরও একজন মারমা ছেলে ভালো ছবি আঁকতো, সে অসাধারণ একটা বৌদ্ধ মূর্ত্তি এঁকে নিয়ে গেলো এবং ড্রয়িং টিচার তাকে চৌদ্দশ নম্বর দিয়ে দিলেন-আমি বসে বসে মাথা চুলকে যাচ্ছি। আমার ড্রয়িং টিচারের তখন আমার জন্য মায়া হল। মারামা ছেলেটির স্লেটটি আমার সামনে রেখে সেটা দেখে দেখে আঁকতে বললেন। আমি সেটা দেখে দেখে একটা বৌদ্ধ মূর্ত্তি আঁকলাম এবং আমিও চৌদ্দশ পেয়ে গেলাম।

এরপর এতো বছর পার হয়ে গেছে আমি আমার এই ড্রয়িং টিচারের কথা ভুলিনি-তিনি আমার জীবনের সবছেয়ে বড় শিক্ষাটি দিয়ে গেছেন।সেটি হচ্ছে ছেলেমেয়েদের উৎসাহ দিতে হয়। আমিও আমার সারাটি জীবন ছেলেমেয়েদের উৎসাহ দিয়ে আসার চেষ্টা করে আসছি এবং দেখে আসছি এটি ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

এই মারমা ড্রয়িং টিচারের মতো নিশ্চয়ই একজন সাঁওতাল বৃদ্ধ কিংবা গারো যুবক রয়েছে যার কাছ থেকে আমার জীবনের কোনো একটি শিক্ষা পাওয়ার কথা ছিল-আমারা সেটা পাই নি।

আমরা মানুষে মানুষে বিভাজন করে নিজেদের ভাষা ধর্ম কালচার নিতে অহংকার করে অন্যদের তাচ্ছিল্য করতে শিখেছি। আমরা যদি আধুনিক পৃথিবীর আধুনিক মানুষ হতে চাই তাহলে সবাইকে তার প্রাপ্য সন্মান দিয়ে বেঁচে থাকা শিখতে হবে। হয়তো বংলাদেশের কিছুদিনের মাঝে অনেক উন্নত হয়ে যাবে। আমাদের মাথা পিছু গড় আয় বেড়ে যাবে,জ্ঞান বিজ্ঞানে আমরা অনেক এগিয়ে যাব।

আমাদের প্রশ্ন ফাঁস হবে না, স্কুলে আনন্দময় পরিবেশে ছেলেমেয়েরা পড়বে। নিজেদের অর্থে আমরা বিশাল বিশাল পদ্মা ব্রিজ তৈরি করব। কিন্তু যদি একটি পাহাড়ী শিশু তার মায়ের হাত ধরে আতংকে নিজের বাড়ীঘর ছেড়ে জংগলে ছুটে যেতে থাকে তাহলে কি আমাদের সব উন্নয়ন পুরোপুরি অর্থহীন হয়ে যাবে না?

দেশের একটি নাগরিককেও যদি আমরা সন্মান নিয়ে শান্তিতে নিজের ঘরে ঘুমানোর পরিবেশ তৈরী করে দিতে না পারি তাহলে বিশাল পদ্মা ব্রিজ দিয়ে কী হবে?

এইবেলাডটকম/এএস

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71