সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
সোমবার, ৬ই ফাল্গুন ১৪২৫
 
 
ইতিহাস
পলাশীর যুদ্ধ ছিল প্রহসন মূলক
প্রকাশ: ১০:৩৬ am ২৪-০৬-২০১৬ হালনাগাদ: ১০:৩৬ am ২৪-০৬-২০১৬
 
 
 


সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : আজও মনে করিয়ে দেয় ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন এর কথা। ২৩ জুন ঐতিহাসিক পলাশী দিবস। ১৭৫৭ সালের এ দিনে পলাশীর আম্রকাননে বাঙালি ও ইংরেজদের মধ্যে পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

যুদ্ধে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-ঊদ-দৌলা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে পরাজিত হন। তারপর একশত নব্বই বছর পাক-ভারত উপমহাদেশ ইংরেজরা এদেশ শাসন করে একমাত্র বাঙালির কারণেই।

ইতিহাসে পাওয়া যায়, ১৭৪০-১৭৫৬ সালে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার স্বাধীন নবাব ছিলেন আলীবর্দী খান। ইংরেজরা এদেশে ব্যবসা করতে আসতো ঐ সময়। মোঘল শাসকরা তাদের করমুক্ত ব্যবসা করার সুবিধা দেন। ১৭৫৬ সালে আলীবর্দী খান মারা গেলে তার পুত্র সিরাজ-উদ-দৌলা তার রাজসিংহাসনে বসেন। কিন্তু সিরাজ-উদ-দৌলা নবাব হওয়ায় সন্তুষ্ট হননি তার চারপাশের অনেকেই। তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য, জাফর আলী খান, ঘসেটি বেগম সহ জাফর আলী খানের ঘনিষ্ট সৈন্যরা। ঘরের ভেতরে জড়াতে থাকে ষড়যন্ত্রের জাল। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভ ও জাফর আলী খান নবাবের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন।

ইংরেজরা নতুন করে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার অনুমতি ছাড়াই কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মাণ করে। সিরাজ-উদ-দৌলা ক্রোধান্বিত হয়ে কলকাতা দখল করেন। ইংরেজরা আবার কলকাতা পুনর্দখলের চেষ্টা করে। নবাবের সঙ্গে লোক দেখানো সমঝোতা করে তারা। পেছনে বাড়তে থাকে ইংরেজদের নৈরাজ্য। নবাব ইংরেজীদের নৈরাজ্যকে ধ্বংস ও বাঙলা থেকে মুক্ত করার জন্য পলাশীর যুদ্ধ করার ঘোষণা দেন।

যুদ্ধ শুরু হয় ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন। যুদ্ধে নবাবের আপন ব্যক্তি ও প্রধান সেনাপতি জাফর আলী খান বৃহস্পতিবার সকাল আটটায় মুর্শিদাবাদ থেকে ১৫ ক্রোশ দক্ষিণে ভাগিরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে শুরু হয় যুদ্ধ। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার এ যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলো প্রায় ৬৫ হাজার সেনা। অন্যদিকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পক্ষে ছিলো মাত্র তিন হাজার সৈন্য। সৈন্যসংখ্যা কয়েকগুণ বেশি থাকলেও জাফর আলী, ইয়ার লতিফ ও রায় দুর্লভের অধীনস্ত প্রায় তিন ভাগের দুই ভাগ সৈন্যই যুদ্ধে অংশ গ্রহণ না করে নিরব ভূমিকা পালন করে।

যুদ্ধের সময় বৃষ্টি নামায় নবাবের কামানের গোলা সহ গোলায় ব্যবহৃত গান পাউডার ভিজে যায়। নিহত হন মীর মর্দান। এমন বিপদের সময় নবাবের প্রধান সেনাপতি জাফর আলীর কাছে পরামর্শ চান। বিশ্বাসঘাতক জাফর আলী নবাবকে যুদ্ধ বন্ধ করে পরের দিন যুদ্ধ শুরুর পরামর্শ দেন। নবাব সিরাজ যখন যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন জাফর আলী রবার্ট ক্লাইভের বাহিনীকে এ সংবাদ সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে দেন।

ইংরেজদের প্রহসনে জাফর আলী খান নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা, সিংহাসনের বসা ও বাঙলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার কারণেই জাফর আলী খানের নাম হয়েছিল মীরজাফর।  অথচ একদিন মাত্র বসে ছিল নবাবের সিংহাসনের মীরজাফর। তারপর ইংরেজ বাহিনী তাকে গুলি করে হত্যা করে। 

ব্রিটিশ শাসকদের পতন ঘটানো সহ পাক-ভারত উপমহাদেশকে স্বাধীন করার জন্য ক্ষুদিরামের ফাসির দড়ি গলায় নিয়েও বাঙলার কথা না ভুলে বাঙালিদের উজ্জীবিত করেছিল। তার পর আস্তে আস্তে বাঙালিরা ব্রিটিশদের সাথে লড়াই করতে শুরু করে। যুদ্ধ শুরু করে  মাষ্টারদা সূর্যসেন, প্রীতিলতা, নেতাজী সুভাষ চন্দ বসু, মহাত্মা গান্ধি, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ সহ অসংখ্য বাঙালি যুদ্ধ করে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট ও ১৫ আগষ্ট পাক-ভারত উপমহাদেশ স্বাধীন করে।  কথায় বলে লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু। লোভের বশতঃ বেঈমান জাফর আলী খানের  মীরজাফর।

মোহনলাল নবাবের একমাত্র ঘনিষ্ট সহচর থাকার কারণে তাকেও বেঈমান জাফর আলী খানের  মীরজাফর আলীর নির্দেশে ইংরেজরা ফাসি দিয়ে মারা হয়। মনে পড়ে যায়, বাঙলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার কথা। নবাব দুর্দিনে অনেক বন্ধুকেই ডেকেছেন। নবাবের ডাকে কেউ সাড়া না দিলেও একমাত্র মোহনলাল তার কথায় সাড়া দিয়ে ছিল। প্রহসন মুলক পলাশীর যুদ্ধই বাঙালিকে মনে করিয়ে দেয় “সুদিনের বন্ধু সবাই হয়, দুর্দিনে কেউ কারও নয়।”  

এইবেলাডটকম/চন্দন/এএস

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71