বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বুধবার, ১১ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
ডাক্তার ও জনবল সংকট
পাইকগাছায় স্বাস্থ্য সেবার বেহাল দশা
প্রকাশ: ১০:৩৬ pm ০৬-০৮-২০১৮ হালনাগাদ: ১০:৩৬ pm ০৬-০৮-২০১৮
 
খুলনা প্রতিনিধি
 
 
 
 


খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় ডাক্তার ও জনবল সংকটে স্বাস্থ্য সেবার বেহাল দশা। ডাক্তার, ঔষধ, এক্স-রে মেশিন সহ নানান সমস্যায় আক্রান্ত পৌরসদরে ৫০ শয্যার হাসপাতালটি। একই অবস্থা উপজেলার ১০ শয্যা কপিলমুনি সরকারি হাসপাতালের। দীর্ঘদিন ধরে এ সব সমস্যা থাকলেও দেখার কেউ নেই।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প প কর্মকর্তা সহ মোট ২১ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছে ৬জন। নার্স ২০জনের স্থলে আছে ১৬জন, নেই কোনো ওয়ার্ডবয়, নিরাপত্তা প্রহরী ২জনের স্থলে আছে ১জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ৫জনের স্থলে আছে ২জন দিয়ে যেনতেনভাবে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নের কাজ চলছে। অফিস সহায়ক ৪জনের থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ২জন। এক্স-রে মেশিন ৪ বছর ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। ইতোপূর্বে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে হাসপাতালে ২০০/২৫০জন রোগী সেবা নিতে আসত। কিন্তু বর্তমানে প্রতিদিন ২৫/৩০জন সেবা নিতে আসে। এছাড়া হাসপাতালের বর্হিবিভাগে বিভিন্ন ধরণের সেবা নেয়ার জন্য ১৫০/২০০ জনের মত আসলেও সেখানে বর্তমানে ৬০/৭০ জনের বেশি চোখে পড়ছে না। হাসপাতালে আসা রোগীদের পান করার মত কোনো নিরাপদ পানি নেই। টয়লেটে হ্যান্ড ওয়াশের কাজে বোরিং থেকে পানি ব্যবহার করা হয়। সেখানে মাত্রাতিরিক্ত আয়রণ ও লবণ বিদ্যমান। হাসপাতালে নীচতলায় মোট ১৪টি টয়লেট রয়েছে। যার মধ্যে ১০টি টয়লেট অফিসারদের জন্য, বাকী ৪টি টয়লেট রোগীদের জন্য। কিন্তু সাধারণ রোগীদের ব্যবহৃত ৪টি টয়লেট একেবারেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দ্বিতীয় তলায় মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ডে উভয় পাশে ২টি টয়লেট, ২টি গোসলখানা থাকলেও তা সম্পূর্ণরূপে ব্যবহারের অনুপযোগী। ডায়ারিয়া ওয়ার্ডে ৩টি টয়লেট থাকলেও যার একটিও ব্যবহার করার মত নেই। পরিচ্ছন্নকর্মীর অভাবে এখানে পরিবেশ দিন দিন অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে। সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। নতুন বিল্ডিংএ ডাক্তারদের চেম্বারের সাথে টয়লেট আছে ৮টি, পাবলিক টয়লেট ৩টি (নারী-১, পুরুষ-২) এবং পুরুষ ইউরিনাল আছে ২টি। ডাক্তারদের টয়লেটগুলি কিছুটা ব্যবহার উপযোগী থাকলেও রোগীদের ব্যবহারের টয়লেট একবারেই নাজুক অবস্থা। 

বর্তমানে ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে সাধারণের সেবা প্রদানের অবস্থা খুবই নাজুক। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প প কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকলেও ২ আগস্ট যোগদান করেন মুকুন্দ কুমার মজুমদার। তিনি যোগদানের পরের দিন ছুটিতে চলে যান। বর্তমানে ডাক্তার রয়েছে প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। অজ্ঞানের ডাক্তার পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় এখানে সব ধরণের অপারেশন বন্ধ রয়েছে। কপিলমুনি সরকারি হাসপাতাল এক জন ডাক্তার দিয়ে যেনতেনভাবে কোনরকম চলছে। আর এ অবস্থা চলছে ১যুগেরও বেশি সময় ধরে। যে কারণে বাধ্য হয়ে এলাকার হতদরিদ্র জনগোষ্ঠিকে চিকিৎসা সেবা নিতে যেতে হচ্ছে জেলা শহরে। অনেক দরিদ্র পরিবার আর্থিক অনাটনের কারণে এলাকায় দাতব্য চিকিৎসা সেবা নিয়ে কোনো রকমে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোনো ভাল মানের ঔষধ সরবরাহ, এ্যানেস্থেসিয়া ডাক্তার, নেই সাধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সেবার ব্যবস্থা। 

সর্বোপরি উপজেলায় সাধারণ মানুষের চিকিৎসার অবলম্বন ২টি সরকারি হাসপাতাল জরাজীর্ণ বেহাল দশা। হাসপাতাল ২টি ঘুরে দেখা গেছে, দুই একজন রোগী থাকলেও বাকী সমস্ত বেড খালি পড়ে আছে। হাসপাতালের এ নাজুক অবস্থার কারণে স্থানীয় প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুজন কুমার সরকার জানিয়েছেন, ডাক্তার ও জনবল সংকটের কারণে মা ও শিশু বিভাগ বন্ধ রয়েছে। 

ডাক্তার ও জনবল বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাড. শেখ মো. নূরুল হকের মাধ্যমে সশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ডিও লিটার প্রদান করেছেন।

নি এম/মহানন্দ 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71