সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
পাকিস্তান ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছে হিন্দুরা
প্রকাশ: ০৭:০৭ pm ০৯-০২-২০১৬ হালনাগাদ: ০৮:৩৪ pm ০৯-০২-২০১৬
 
 
 


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তানি হিন্দুরা দলে দলে ভারতে প্রবেশ করছে। ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কারণেই তারা জন্মভূমি ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছে। এই কথা বিবিসি হিন্দিকে বলেছেন জুবাযের আহম্মেদ নামের এক পাকিস্তানি। জুবায়ের বলেন, পাকিস্তানি হিন্দুদের ভারতে আসার পেছনে প্রধান কারণ হল সংখ্যাগরিষ্ঠদের ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং মানবিক বিপর্যয়।

ভারতে চলে আসা একজন ১৬ বছরের বালিকা মালা দাস। সে বর্তমানে তার নাম লিথতে পারে। এটা তার জন্য অনেক বড় পাওয়া। মালা বলেন, ‘আমি যখন ভারতে আসি তখন আমি সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলাম। এখন আমি আমার নাম লিখতে পারি।’ তার পরিবার এবং প্রতিবেশীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা ২০১১ সালে ভারতে আসে। তাদের জম্মস্থান হল পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের হায়দারবাদে। তারা বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বঞ্চনা এবং সরকারের উদাসীনতার কারণে।


ভগবান দাস বলেন, পাকিস্তানে হিন্দুদের প্রতি ‘দ্বিতীয় শ্রেণী’র নাগরিকের মতো আচরণ করা হয়

গত পাঁচ বছরে, প্রায় ১২ হাজার হিন্দু পাকিস্তান হতে ভারতে চলে আসতে বাধ্য হয়েছে। তাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে দিল্লীর কাছে তিনটি ক্যাম্পে। যারা এসেছে তাদের সবার মুখে একটিই কথা আর তা হল শিক্ষা। যদি তারা সোখানে ফিরে যায়, তাহলে তাদের সন্তানরা আর কোন দিন পড়ালেখা করতে পারবে না। আর ধর্মীয় উম্মাদনা তো রয়েছেই, যার কারণে প্রায়ই হিন্দুদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়। মেয়েদের জোর করে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, ধর্মান্তরিত করা হয়। সামাজিক বৈষম্যের শিকার হতে হয় প্রতিটি হিন্দুকেই। সর্বত্রই যেন মানবিক বিপর্যয়!

গত সপ্তাহে, ৭১ জনের একটি দল দিল্লীর আশ্রয় শিবিরে ওঠে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ভগবান দাস নামে এক ব্যক্তি। তার বাড়ন্ত দুটি সন্তান রয়েছে। তার সন্তানরা পাকিস্তানে কোন পড়ালেখার সুযোগ পায়নি। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের সন্তানদের ভর্তি করাতে পারেননি। তার একমাত্র কারণ তাদের পরিচয় হিন্দু।

তবে দিল্লীর এই আশ্রয় কেন্দ্রে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় শিবিরের শিশুদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।


দিল্লীর শরণার্থী শিবিরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাচ্চাদেরকে লিখতে ও পড়তে শেখানো হয়

রাজওয়ান্তি একজন ১৩ বছরের শিশু। সে পাকিস্তান থেকে্ দিল্লীর আশ্রয় শিবিরে আশ্রয় নেয়। রাজওয়ান্তি তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন এইভাবে, ‘পাকিস্তানে প্রতিটি হিন্দু ছাত্র-ছাত্রীকে বিদ্যালয়ে কোরান পড়তে হয় এবং মুসলমান সহপাঠীরা তা দেখে আমাদের উপহাস করত।’

মালা বলেন, আমি খুবই খুশি যে ভারতে সবাই তাদের ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করে। এখানে হিন্দুরা তাদের ধর্ম কোন ধরনের ভয় ছাড়াই পালন করে। কোন ধরনের বাধা ছাড়াই মন্দিরে যায় এবং বাড়ির বাইরেও ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে নির্ভয়ে। আর পাকিস্তানে আমরা ঘরের মধ্যেই প্রার্থনা করতাম। যদি আমরা মন্দিরে যেতে চাইতাম তাহলে আমাদের প্রতিবেশী মুসলমানদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে যেতে হতো।’

রাজওয়ান্তি, ১৩, অভিযোগ করে, হিন্দু ছেলে-মেয়েদের পাকিস্তানি স্কুলে কোরান পড়তে বাধ্য করা হয়

পাঁচ মাস আগে, ঈশ্বরলাল নামে এক যুবক আসে দিল্লীর আশ্রয় শিবিরে। তার বর্তমান বয়স ১৮ বছর। তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন এইভাবে, ‘ভারতে আমাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা রয়েছে। আমরা এখানে স্বাধীন।’ তিনি আরও বলেন, এখানে প্রত্যেকে প্রত্যেকের বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’

পালাজ নামের এক পাকিস্তানি হিন্দু তিন সপ্তাহ আগে ভারতে আসেন। পালাজ বলেন, অধিকাংশ হিন্দু পাকিস্তানি চায় পাকিস্তান ত্যাগ করে ভারতে চলে আসতে। খুবই ক্ষুদ্র একটি অংশ এখানে এসেছে। লাখ লাখ পাকিস্তানি হিন্দু আর পাকিস্তানে থাকতে চায় না।


পালাজ বলেন, অধিকাংশ পাকিস্তানী হিন্দু তাদের স্বদেশ ত্যাগ করতে চায়

বর্তমানে, ভারতে মুসলমান রয়েছে ১৪% আর পাকিস্তানে হিন্দু আছে মাত্র ২%। ভারতে কত লোক পাকিস্তান থেকে এসেছে তার কোন অফিসিয়াল হিসাব নেই। পাকিস্তান হতে পাঞ্জাব, রাজস্থান এবং হরিয়ানা সীমান্ত দিয়ে শরণার্থীরা ভারতে প্রবেশ করছে। ভারতে আসার পর পাকিস্তানি হিন্দুরা শরণার্থী বা নাগরিক হিসেবে থাকার আবেদন করে। আর একসময় মূলধারার ভারতীয় নাগরিক হয়ে যায়।

ইসলামাবাদ বার বার বলেছে, হিন্দুরা এখানে নিরাপদ। পাকিস্তান ত্যাগ করার খবর অতিরঞ্জিত। তবে বিবিসিকে এক লিখিত প্রমাণ দিয়েছে ভারত সরকার। সেখানে ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৪ হাজার পাকিস্তানী হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার তথ্য জানানো হয়। এদের বেশির ভাগই দিল্লীর আশ্রয় শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে।



এইবেলাডটকম/প্রচ/এমআর
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71