মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯
মঙ্গলবার, ৮ই শ্রাবণ ১৪২৬
 
 
পানি খেলা দিয়ে শেষ হয় আদিবাসীদের বৈসাবী উৎসব
প্রকাশ: ০১:৩৪ am ১১-০৪-২০১৭ হালনাগাদ: ০১:৪৪ am ১১-০৪-২০১৭
 
 
 


চট্টগ্রাম : পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব বৈসাবি উপলক্ষে রাঙ্গামাটিতে তিন দিনের বৈসুক, সাংগ্রাই, বিজু, বিহু উৎসব শুরু হয়েছে।

এ উৎসবটি ত্রিপুরাদের কাছে বৈসুক, বৈসু বা বাইসু , মারমাদের কাছে সাংগ্রাই এবং চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের কাছে বিজু নামে পরিচিত। বৈসাবী নামকরনও করা হয়েছে এই তিনটি উৎসবের এর প্রথম অক্ষর গুলো নিয়ে। বৈ শব্দটি ত্রিপুরাদের বৈসু থেকে, সা শব্দটি মারমাদের সাংগ্রাই থেকে এবং বি শব্দটি চাকমাদের বিজু থেকে। এই তিন শব্দের সম্মিলিত রূপ হলো 'বৈসাবি'।

প্রতি বছরের মত এবার এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়েছে। বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠী নারী পুরুষ ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে র‌্যালিতে অংশ নেন। মেলা উদ্বোধনের পর ১৩টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ ডিসপ্লে প্রদর্শন করা হয়।

উৎসবে পাহাড়িদের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী কৃষ্টি ও সাংস্কৃতির পসরা সাজিয়ে ৩০টি স্টল বসেছে। তিন দিনের এই মেলায় সেমিনার, আলোকচিত্র প্রদশনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানান পরিবেশনার আয়োজন রয়েছে।

নদীর জলে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে মূলত শুরু হয় বৈসাবি উৎসব। এজন্য ভোর থেকেই বিভিন্ন পাহাড়ি সম্প্রদায়ের মানুষ ফুল ভাসাতে আসেন রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পাড়ে। রাজবাড়ী ঘাটে সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার হ্রদে ফুল ভাসিয়ে উৎসবের সূচনা করেন। এ ছাড়া সকালে রাঙ্গামাটি গর্জনতলী ত্রিপুরা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসানো, বয়োজ্যেষ্ঠদের স্নান ও বস্ত্রদান, ত্রিপুরা তরুণ-তরুণীদের গড়াইয়া নৃত্য, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী ও ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসবের।

এছাড়াও বৈসাবি উৎসবে রান্না হয় মূলত আদিবাসীদের প্রধান ও জনপ্রিয় খাবার 'গণত্মক বা পাচন' এ খাবার সবার ঘরে রান্না হয়। এর পাশাপাশি নানা ধরনের পিঠা, সেমাই, মুড়ি-চানাচুরসহ বিভিন্ন ধরনের ফলমূল ও ঠাণ্ডা পানীয়র আয়োজন করা হয়। Mixed Vegetable রান্না হয় মূলত ২৫ থেকে ৩০ ধরনের সবজির সংমিশ্রণে। তবে বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে বনজঙ্গলের পরিমাণ কমে যাওয়ায় সবজির ধরনের পরিমাণও কমে যাচ্ছে।

পানি উৎসবটি প্রতিটি এলাকাতেই কমবেশি জনপ্রিয়। এটিও বৈসাবী উৎসবেরই একটি অংশ। এ উৎসবে আদিবাসীরা সবাই সবার দিকে পানি ছুঁড়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন যেন গত বছরের সকল দুঃখ, পাপ ধুয়ে যায়। এর আগে অনুষ্ঠিত হয় জলপূজা। এর মাধ্যমে পরস্পরের বন্ধন দৃঢ় হয়। তা ছাড়া মারমা যুবকরা তাদের পছন্দের মানুষটির গায়ে পানি ছিটানোর মাধ্যমে সবার সামনে ভালোবাসা প্রকাশ করে। এর মাধ্যমে পরস্পরের বন্ধন দৃঢ় হয়। ভালোবাসার এমন বর্ণাঢ্য উচ্ছ্বাস, এমন বর্ণাঢ্য অনুভূতি আর কোন 'গান্ধর্ব্য' শুধু বৈসাবিতেই সম্ভব।

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71