বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ৫ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
পাবনায় ঝুঁকি নিয়ে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করছেন শিক্ষকরা
প্রকাশ: ০২:০৬ pm ০৯-০৭-২০১৭ হালনাগাদ: ০২:০৯ pm ০৯-০৭-২০১৭
 
 
 


পাবনা : পরিত্যক্ত, ভাঙাচোড়া ভবনে প্রচন্ড গরমে অাঁধার ঘেরা পরিবেশে চলছে কোমলমতী শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

যেকোনো সময় ভেঙে পড়বে ক্লাসরুমের ওয়াল ও ছাদ, এই শঙ্কা মাথায় নিয়ে ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন পাঠ নিতে হচ্ছে। পাবনা সদরের জালালপুর বাজার সংলগ্ন ইয়াকুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি।
 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত করুণ। ২০০৪ সালে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির উদ্যোগে তৈরি করা বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকটির অবস্থাও বেহাল। ক্লাসরুমের প্লাস্টার খসে পড়ছে মাঝে মধ্যেই। ১৯৯৫ সালের দিকে আরসিসি পিলার দিয়ে ভবনটি তৈরি করা হয়। কিন্তু গেল পাঁচ বছর হলো ভবনটি হয়ে গেছে পরিত্যক্ত। এই ভবনের পাঁচটি রুমে হতো পাঁচটি ক্লাস। এর মধ্যে দু'টোর অবস্থা একেবারেই জীর্ণশীর্ণ। এজন্য ক্লাস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সেখানে।

বাকি যে তিনটি রুমে ক্লাস হচ্ছে, সেগুলোর কোনোটির ছাদ বা কোনোটির চাটাইয়ের সিলিং, কখন যেন ভেঙে পড়ে এ নিয়ে শঙ্কার মধ্যে শিক্ষার্থীরা। প্রচন্ড গরমে অাঁধার ঘেরা পরিবেশে বইয়ের অক্ষর কোনো কোনো সময় ঠিকমতো চোখে পড়ে না তাদের। প্রায় আড়াইশ' শিশু শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে যেন অজানা এক আতঙ্ক, কখন আহত হবে তারা। এজন্য অপেক্ষা তাদের ছুটি হবে কখন, ফিরবে তারা বাড়ি। 

শিক্ষিকারা বলেন, 'এমন পরিবেশে পাঠদান করতে গিয়ে নিজেরাই গরমে যেমন জেরবার অবস্থায় থাকি, শিশুদের কথা আর কি বলব। এছাড়া কখন ছাদের অংশ ভেঙে পড়ে আহত হই নিজেরা, আহত হয় শিশুরা।' এসব চিন্তা মাথায় নিয়ে ঠিকমতো পাঠদানও করা যায় না বলে জানান শিক্ষিকারা। তারা জানান, ফ্যান দিলে যদি ভেঙে পড়ে মাথার ওপরে, এজন্য তারা ফ্যানটিও দিতে ভয় পান, আর এরই মধ্যে চলছে ক্লাস।

 বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা জানান, তারা বিষয়টি একাধিকবার শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তরকে জানিয়েছেন, কিন্তু কোনো কাজের কাজ হচ্ছে না। ক্লাসরুমের সংকট থাকার কারণে অনেকটা বাধ্য হয়েই ঝুঁকির মধ্যে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এখন বেশিরভাগ সময়ে ঝড়-বৃষ্টি দেখলেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও ছুটি দিয়ে দিতে হয় তাদের।

 এসব বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার নাহিদা আকতার জানান, শিক্ষা কমিটির সভায় রেজুলেশন আকারে বর্তমান অবস্থা তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। আগামী অর্থবছরে এখানে নতুন ভবনের সম্ভাবনা রয়েছে। শিশুদের স্বাভাবিক নিরাপত্তা ও পড়ালেখার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছেন তারা। অচিরেই নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে এই অচল অবস্থা নিরসন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এইবেলাডটকম / কনিকা

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71