সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৯ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
পাবনায় সন্ন্যাসীকে হত্যা: উদ্দেশ্য লুটপাট না-কি জঙ্গিবাদ?
প্রকাশ: ০৯:৫১ pm ০৯-০৩-২০১৮ হালনাগাদ: ০৯:৫১ pm ০৯-০৩-২০১৮
 
পাবনা প্রতিনিধি
 
 
 
 


পাবনার চাটমোহরে প্রকাশ্য দিবালোকে নিজ বাড়িতে হত্যা করা হয়েছে হিন্দু সন্ন্যাসী ও কবিরাজ ভারতী নাথ ভট্টাচার্যকে (৭০)।  হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে তাকে। এই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশের দাবি, এই সন্ন্যাসীর বাড়ি থেকে তের লাখ টাকা ও ৩০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট হয়েছে এবং এই লুটপাটের সময় দেখে ফেলার কারণেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে এলাকাবাসী দাবি করছেন, এই ঘটনার পেছনে জঙ্গিদের হাত আছে। এলাকায় হিন্দুদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে চাটমোহরের গুনাইগাছা ইউনিয়নের জালেশ্বর গ্রামে নিজের বাড়ি থেকে ভারতী নাথ ভট্টাচার্যের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই হত্যার কারণ জানতে তদন্তে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। নিহত ভারতী নাথ ভট্টাচার্য জালেশ্বর গ্রামের মৃত পার্বতীনাথ ভট্টাচার্যের ছেলে। তিনি ছিলেন চিরকুমার, সন্ন্যাসী এবং কবিরাজি করতেন। পাশাপাশি নিয়মিত পূজা-অর্চনা করতেন ও ব্রহ্মচারী ছিলেন।

নিহত ভারতী নাথ ভট্টাচার্যের ভাতিজা পিনাকী ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমি এবং আমার স্ত্রী আমরা দুইজনই চাটমোহর মহিলা ডিগ্রি কলেজে শিক্ষকতা করি। প্রতিদিনের মতো আজও সকালে সন্ন্যাসী কাকা একা বাড়িতে ছিলেন। ছেলে-মেয়েকে স্কুলে পাঠিয়ে আমরা মোটরসাইকেলে করে কলেজে চলে যাই। প্রায় সোয়া ১০টার দিকে আমাকে প্রতিবেশীরা ফোন করে বলে তোর কাকাকে হাত পা বেঁধে মেরে ফেলে গেছে। আর  ঘর তছনছ করে গেছে। তখন আমি সবার সহযোগিতায় থানায় খবর দেই।’

চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আহসান হাবীব জানান, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হাত-পা বেঁধে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঘরের আসবাবপত্র তছনছ দেখে হত্যার কারণ সম্পর্কে মনে হচ্ছে যে, লুটপাট চালানোর সময় দুর্বৃত্তদের দেখে বা চিনে ফেলায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় তিন লাখ টাকা ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কোনও জঙ্গি সম্পৃক্ততা নাই। আরও  কোনও কারণ আছে কিনা সে ব্যাপারে তদন্ত করা হচ্ছে।’

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শামীমা আক্তার বলেন, ‘ভারতী নাথ ভট্টাচার্য অবিবাহিত ছিলেন। উনার এক  ভাইয়ের ছেলে পিনাকী ভট্টাচার্য কলেজ শিক্ষক, উনার স্ত্রীও কলেজে শিক্ষিকা। উনাদের দুই সন্তান স্কুলে পড়ে। তারা সবাই এক সঙ্গে এই বাড়িতে থাকেন। সকালে যখন তারা কলেজে চলেন যান তখন ভারতী নাথ ভট্টাচার্য একাই বাড়িতে ছিলেন।

এলাকাবাসী জানান, যেহেতু ভারতী নাথ কবিরাজি করতেন, পানি পড়া দিতেন, তাই তার কাছে দুই জন বোরকা পড়ে এসে পানি পড়া চান। ধারণা করা হচ্ছে আনুমানিক সকাল ১০টার দিকে তারাই তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লুটপাট করে চলে যায়।’

তবে চাটমোহর উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি জয়দেব কুন্ডু বলেন, ‘চাটমোহর এলাকাটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির তীর্থ স্থান। এখানে প্রথম এমন একটি ঘটনা ঘটলো। এটি একটি সন্ত্রাসী ঘটনা। ওই এলাকার হিন্দুদের বেশকিছু সম্পত্তি আছে। এই ঘটনার মাধ্যমে আতঙ্ক ছড়িয়ে কৌশলে হিন্দুদের জমিজমা হাত করার ষড়যন্ত্র হতে পারে। সরকারকে বিব্রত করার চক্রান্তও হতে পারে। দেশকে অস্থিতিশীল করা জন্য কোনও জঙ্গিগোষ্ঠী এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে। আমরা দ্রুত জড়িতদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাই।’

চাটমোহর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ মালাকার বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক উসকানির জন্য জঙ্গি হামলাও হতে পারে। কারণ নিহত ব্যক্তি অত্যন্ত সাধারণ মানুষ। তার কোনও শত্রু থাকতে পারে না। এর মাধ্যমে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। হত্যাকারীরা গ্রেফতার না হলে এমন ঘটনা আরও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছি।’

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71