বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ৫ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ
পিরোজপুরে বাড়ি দখলের জন্য হিন্দু পরিবারকে হয়রানি
প্রকাশ: ০৯:২০ am ২৮-০৫-২০১৮ হালনাগাদ: ০৯:২০ am ২৮-০৫-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


পিরোজপুর শহরের বাইপাস সড়কের মাছিমপুর এলাকায় সার্জিকেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পঞ্চম তলায় থাকে গীতা রানীর পরিবার। তাঁর স্বামী চিকিৎসক বিজয় কৃষ্ণ হালদার এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা। তবে নয় মাস ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ গীতা রানী মজুমদার ও তাঁর স্নাতকপড়ুয়া একমাত্র মেয়ে। কারণ তাদের বাসাটিতে গ্যাস নেই। বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগও বিচ্ছিন্ন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গীতা রানীর বাসার বিদ্যুৎ, পানির সংযোগ কোনো কর্তৃপক্ষ বিচ্ছিন্ন করেনি। পরিবারটিকে বের করে দিয়ে বাড়িটি দখল করতে পিরোজপুর জেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক ওবায়দুল হক ওরফে পিন্টু এই কাজ করেছেন।

যুবলীগের নেতা ওবায়দুল হকের কাছে ক্লিনিকের অর্ধেক মালিকানা বিক্রি করা হয়। সেই সূত্রে বাড়িটির অর্ধেকের মালিক হন তিনি। কিন্তু ক্লিনিকের ব্যবসা করায়ত্ত করার পর এখন তিনি পুরো বাড়িটিও দখল করতে চান বলে বিজয় কৃষ্ণের পরিবারের অভিযোগ।

গীতা রানী জানান, ২০১৭ সালের আগস্টে তাঁদের বাসার পানি ও বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। রান্নার জন্য গ্যাসের সিলিন্ডার আনতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। বাড়ি ও ক্লিনিকটি পুরোপুরি দখল করে রেখেছেন ওবায়দুল হক। বাসায় আসা-যাওয়া করতে বাধা দিচ্ছেন, ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।

গীতা রানী বলেন, প্রায় দিনই হোটেল থেকে খাবার কিনে আনিয়ে খেতে হয়। অন্য বাসায় গিয়ে গোসল করতে হয়। সব সময় আতঙ্কে থাকি। এভাবে কত দিন বেঁচে থাকতে পারব জানি না। বিষয়টি স্থানীয় সাংসদ, মেয়র, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ দায়িত্বশীল সবাই জানেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। 

চিকিৎসক বিজয় কৃষ্ণ হালদার তাঁর ক্লিনিকের অর্ধেক শেয়ার ওবায়দুল হকের কাছে বিক্রি করেন। এর পরপরই ২০১৫ সালের অক্টোবরে রহস্যজনকভাবে অপহৃত হন বিজয় কৃষ্ণ। আহত অবস্থায় তাঁকে পাওয়া যায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে। এরপর তিনি মানসিকভাবে বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং তাঁকে এক আত্মীয়ের বাসায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যেই ক্লিনিকসহ পুরো বাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেন ওবায়দুল হক। শুধু পঞ্চম তলায় বিজয় কৃষ্ণের পরিবার থাকে। ২০১৬ সালের ২১ মার্চ গভীর রাতে ক্লিনিকটির মালিক চিকিৎসক বিজয় কৃষ্ণ হালদার, তাঁর মা, স্ত্রী গীতা রানী ও কলেজপড়ুয়া মেয়েকে একদল দুর্বৃত্ত বাসায় ঢুকে মারধর করে এবং দামি জিনিসপত্র লুট করে। চোখ ও হাত-পা বেঁধে তাঁদের ঝাটকাঠি এলাকার একটি বাড়িতে রেখে আসে। স্থানীয় লোকজন সেখান থেকে তাঁদের উদ্ধার করে শহরের পালপাড়ায় এক আত্মীয়ের বাসায় পৌঁছে দেন। পিরোজপুর-১ আসনের সাংসদ এ কে এম এ আউয়াল খবর পেয়ে পুলিশের সহায়তায় পরিবারটিকে তাদের বাসায় তুলে দেন। এর পাঁচ দিন পর সাংসদের হস্তক্ষেপে মামলা নেয় পিরোজপুর সদর থানার পুলিশ। মামলায় ওবায়দুল হককে প্রধান আসামি করা হয়। কিন্তু মামলা করার পর তাঁদের ওপর নির্যাতন বেড়ে যায়। পুলিশও ওই মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে দেয়। এর বিরুদ্ধে তিনি আদালতে নারাজি দিয়েছেন।

সাংসদ এ কে এম এ আউয়াল বলেন, প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে আমি তাঁদের বাড়িতে উঠিয়ে দিয়েছি। এখন শুনছি পুরো বাড়িটি দখল করার চেষ্টা চলছে। এর বিচার হওয়া উচিত। ওবায়দুল হকের দাবি অনুযায়ী, বাড়িটি যদি তিনি কয়েক কোটি টাকা দিয়ে কিনে থাকেন, তাহলে তাঁর আয়ের উৎস সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর আয়কর নথি যাচাই-বাছাই করে দুদকের উচিত ব্যবস্থা নেওয়া।

পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাম কবির বলেন, মালিকানার বিষয়ে আমার করণীয় কিছু নেই। কিন্তু তাঁদের ওপর অমানবিক আচরণ করলে সেটা দেখতে পারি।

পরিবারের নিরাপত্তা ও প্রতিকার চেয়ে গীতা রানী প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, আমি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব। এমন কাজ যে-ই করুন, তিনি পার পাবেন না। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বিডি
 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71