মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ১০ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
পিরোজপুরে হিন্দু চিকিৎসকের বাড়ি দখল-কাণ্ডে হাইকোর্টের রুল জারি
প্রকাশ: ০৮:৫৭ pm ২৯-০৫-২০১৮ হালনাগাদ: ০৮:৫৭ pm ২৯-০৫-২০১৮
 
পিরোজপুর প্রতিনিধি
 
 
 
 


পিরোজপুরে চিকিৎসক বিজয় কৃষ্ণ হালদারের পরিবারকে গৃহবন্দী করে রাখা এবং তাঁদের বাড়ি দখলের অভিযোগ নিয়ে করা একটি রিট আবেদনে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। 

ওই শহরের সার্জিকেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক বিজয় কৃষ্ণ হালদারের জমি দখলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

একই সঙ্গে বিজয় হালদার ও তাঁর স্ত্রী-কন্যার নিরাপত্তা, স্বাধীনভাবে তাঁদের চলাচল নিশ্চিত এবং সার্জিকেয়ার ক্লিনিকের বাড়ি রক্ষায় বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।চিত্রনায়ক জায়েদ খান ও তার ভাই পুলিশ কর্মকর্তা শহীদ এবং আরেক ভাই ঠিকাদার পিন্টুর বিরুদ্ধে হিন্দু পরিবারের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ ওঠে।

মঙ্গলবার বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

স্বরাষ্ট্রসচিব, পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পিরোজপুরের মেয়র, পিরোজপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, সদর থানার ওসি, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদরের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং পিরোজপুর যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক ওরফে পিন্টুকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

একটি জাতীয় দৈনিকে "পিরোজপুরে ‘বাড়ি দখল করতে’ যুবলীগ নেতার অবিশ্বাস্য কাণ্ড" শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ২৭ মে প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে ২৮ মে হাইকোর্টে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে রিট করা হয়।
  
প্রতিবেদনে বলা হয়,"বাসাটিতে গ্যাস নেই। বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগও বিচ্ছিন্ন। এ অবস্থায় নয় মাস ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ গীতা রানী মজুমদার ও তাঁর স্নাতকপড়ুয়া একমাত্র মেয়ে। গীতা রানীর বাসার বিদ্যুৎ, পানির সংযোগ কোনো কর্তৃপক্ষ বিচ্ছিন্ন করেনি। পরিবারটিকে বের করে দিয়ে বাড়িটি দখল করতে পিরোজপুর জেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক ওবায়দুল হক ওরফে পিন্টু এই কাজ করেছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

পিরোজপুর শহরের বাইপাস সড়কের মাছিমপুর এলাকায় সার্জিকেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পঞ্চম তলায় থাকে গীতা রানীর পরিবার। তার স্বামী চিকিৎসক বিজয় কৃষ্ণ হালদার এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা। এর অর্ধেক মালিকানা বিক্রি করা হয় যুবলীগের নেতা ওবায়দুল হকের কাছে। সেই সূত্রে তিনি বাড়িটির অর্ধেকের মালিক হন। কিন্তু তিনি ক্লিনিকের ব্যবসা করায়ত্ত করার পর এখন পুরো বাড়িটিও দখল করতে চান বলে বিজয় কৃষ্ণের পরিবারের অভিযোগ।

গীতা রানী জানান, গত বছরের আগস্টে তাদের বাসার পানি ও বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। রান্নার জন্য গ্যাসের সিলিন্ডার আনতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। কারা এটা করছে—জানতে চাইলে গীতা রানী বলেন, বাড়ি ও ক্লিনিকটি পুরোপুরি দখল করে রেখেছেন ওবায়দুল হক। তিনিই পানি ও বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন। বাসায় আসা-যাওয়া করতে বাধা দিচ্ছেন, ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।

গীতা রানীর বাসার একটি কক্ষে আলমারি, ওয়্যারড্রোবের তালা ভাঙা, ঘরে কেরোসিনের একটি চুলা। গীতা রানী বলেন, ‘প্রায় দিনই হোটেল থেকে খাবার কিনে আনিয়ে খেতে হয়। অন্য বাসায় গিয়ে গোসল করতে হয়। সব সময় আতঙ্কে থাকি। এভাবে কত দিন বেঁচে থাকতে পারব জানি না।’ বিষয়টি স্থানীয় সাংসদ, মেয়র, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ দায়িত্বশীল সবাই জানেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।

চিকিৎসক বিজয় কৃষ্ণ হালদার তার ক্লিনিকের অর্ধেক শেয়ার ওবায়দুল হকের কাছে বিক্রি করেন। এর পরপরই ২০১৫ সালের অক্টোবরে রহস্যজনকভাবে অপহৃত হন বিজয় কৃষ্ণ। আহত অবস্থায় তাকে পাওয়া যায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে। এরপর তিনি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং তাকে এক আত্মীয়ের বাসায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যেই ক্লিনিকসহ পুরো বাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেন ওবায়দুল হক। শুধু পঞ্চম তলায় বিজয় কৃষ্ণের পরিবার থাকে। গীতা রানী বলেন, এখন তাদের উচ্ছেদের জন্য অমানবিক পন্থা বেছে নিয়েছেন ওবায়দুল হক।"

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71