রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮
রবিবার, ৪ঠা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রত্নভান্ডারের চাবি নিখোজঁ
প্রকাশ: ০৫:০৩ pm ০৬-০৬-২০১৮ হালনাগাদ: ০৫:০৩ pm ০৬-০৬-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান ভারতের ওডিশা রাজ্যের পুরীর জগন্নাথ মন্দির। ওডিশার প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলো পুরীর রথযাত্রা উৎসব, যা শুরু হয় জগন্নাথ মন্দির থেকে। এই উৎসবে প্রতিবছর লাখো মানুষের ভিড় হয়।

পুরীর এই মন্দিরের নিচে গোপন কুঠুরিতে রয়েছে মন্দিরের ধনরত্নভান্ডার। যুগ যুগ ধরে গোপন কুঠুরির ওই ভান্ডারে রাখা হয়েছে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের ধনরত্ন। পুরীর সেবাইতদের দাবি, ওই রত্নভান্ডারে কমপক্ষে ৫০০ কোটি রুপির বেশি মূল্যের ধনরত্ন রয়েছে।

কিন্তু দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে ওই রত্নভান্ডার কেউ পরিদর্শন করেনি। এবার ওডিশা হাইকোর্টের নির্দেশে গত ৪ এপ্রিল রত্নভান্ডার পরিদর্শনের উদ্যোগ নেন সরকারি প্রতিনিধিসহ মন্দির পরিচালনা কমিটির ১৬ জনের একটি প্রতিনিধি দল। এ সময় প্রতিনিধি দল গোপন কুঠুরিতে থাকা রত্নভান্ডারের চাবি খুঁজতে গিয়ে তার কোনো হদিস পাননি। এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন দু’জন প্রত্নতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞও।

চাবির হদিস না পাওয়ার ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে টনক নড়ে মন্দির কর্তৃপক্ষের। খবরটি চলে যায় ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কের কাছেও। মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। জানা যায়, চাবি কাদের জিম্মায় ছিল, কীভাবে হারাল, এর পেছনে কোনো রহস্য আছে কি না, মুখ্যমন্ত্রী তা তদন্ত করে খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন।

ঐতিহাসিকদের মতে, পুরীর জগন্নাথ মন্দির নির্মিত হয়েছিল দ্বাদশ শতকে। জানা গেছে, কয়েক ’শ বছর ধরে রাখা পুরীর রাজা ও দেশ বিদেশের ভক্তদের কোটি কোটি টাকার মূল্যবান প্রণামি জমা রয়েছে মন্দিরের রত্নভান্ডারে।

মন্দিরের নিচে সাতটি গোপন কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি কক্ষ বছরে পাঁচবার করে খোলা হয়। ওই দুটি কক্ষে সংরক্ষিত আছে জগন্নাথ, বলরাম ও শুভদ্রা দেবীর স্বর্ণবেশ ও রাজবেশ সাজানোর জন্য সোনা, মণিমুক্তা ও হিরার অলংকার। বাকি পাঁচটি কক্ষ কবে শেষ খোলা হয়েছে তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, ১৯৮৪ সালে শেষবার এই রত্নভান্ডার পরিদর্শন করা হয়েছিল।

তারপর দীর্ঘ ৩৪ বছর পর গত এপ্রিলে পরিদর্শন করার জন্য হাইকোর্ট নির্দেশ দেন। কিন্তু গোপন কুঠুরির চাবি খুঁজে না পাওয়ায় প্রতিনিধি দল তাদের পরিদর্শন কাজ শেষ করতে পারেননি। চাবি খুঁজে না পাওয়ার ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় শুরু হয়েছে।

চাবিটি হারিয়ে গেছে না চুরি হয়েছে সে ব্যাপারেও নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। যদিও আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, সরকার ইচ্ছা করেই বিষয়টি প্রকাশ করেনি। প্রায় দুই মাস অতিক্রান্ত হয়ে যাবার পর এখন চাপে পড়ে বিষয়টি স্বীকার করেছে। অভিযোগের তির মন্দিরের সংস্কারের কাজে নিযুক্ত আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার দিকেও। ওড়িশা সরকারের নির্দেশে ১২ শতকের প্রাচীন মন্দিরটির সংস্কারের কাজে হাত দিয়েছে সংস্থাটি। এর ফলেও চাবিটি হারিয়ে থাকতে পারে। তবে রত্নভাণ্ডারে কী পরিমাণ মূল্যবান জিনিস ছিল তার সঠিক হিসেবও এখনও জানা যায়নি।

বিজেপির দাবি, সরকারের উচিত অবিলম্বে রত্নভান্ডারের চাবি উদ্ধারে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা। তাছাড়া কে বা কাদের অবহেলায় চাবিটি হারিয়ে গেছে তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া।

নি এম/
 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71