শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯
শুক্রবার, ৪ঠা শ্রাবণ ১৪২৬
 
 
পুরো টাওয়ার যেন আগুনের গোলা
প্রকাশ: ০৯:০৭ am ১৫-০৬-২০১৭ হালনাগাদ: ০৯:০৭ am ১৫-০৬-২০১৭
 
 
 


আন্তর্জাতিক ডেস্ক::  তখন স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১টা। লন্ডনের নর্থ কেনসিংটন এলাকার ২৭ তলা গ্রেনফেল টাওয়ার। বহুতল ভবনটির ১২০টির মতো ফ্ল্যাটে বাসিন্দারা গভীর ঘুমে। এই রাতে ভবনটির দোতলায় আগুন লেগে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দেখতে দেখতে সারা ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। সর্বোচ্চ ২৭ তলায় পেঁৗছে যায়। অগি্নকুণ্ডে চারপাশ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। আটকা পড়ে যায় কয়েকশ' মানুষ। মৃত্যুপুরীতে পরিণত গোটা ভবন। ধোঁয়ার রুম ভরে গেলে শ্বাসকষ্টে অনেকের ঘুম ভাঙে। আগুনের তাপে ঘুম ভাঙে আরও অনেকের। ভয়ে চিৎকার করতে করতে ভবন থেকে নামতে থাকেন দিশেহারা মানুষজন। তবে শেষ পর্যন্ত অনেকেই নামতে পারেননি। তারা হয়তো পুড়ে কয়লা হয়ে যাবে, যাদের পরদিন আর স্বজনরা একদমই চিনতে পারবেন না। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, আগুন লাগার পর ভবনের জানালায় অসহায়ভাবে অনেকেই বাঁচার জন্য আর্তনাদ করতে দেখা গেছে। অনেকে সিঁড়ি বেয়ে নামার পথে তারা শুনতে পান, আরও অনেকে আটকা পড়ে সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করছেন। এক নারী শিশু কোলে সাহায্য চেয়ে আর্তনাদ করতে থাকেন। কেউ কেউ জানালা দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। অনেকে জামাকাপড় গায়ে জড়ানোর সুযোগও পাননি। কোনো রকম একটা তোয়ালে জড়িয়ে অনেকে নিচে নেমে এসেছেন। ভয়ার্ত মানুষরা মোবাইলে স্বজনদের খোঁজ নিতে চেষ্টা করেন। কেউ কেউ ভয়ে, স্বজন হারানোর আশঙ্কায় অসহায় কান্নায় ভেঙে পড়েন। লন্ডন ফায়ার ব্রিগেডের কমিশনার বলেন, আমার ২৯ বছরের পেশাজীবনে এমন ভয়াবহ অগি্নকাণ্ড দেখিনি।

গ্রেনফেল টাওয়ারের সাততলার বাসিন্দা পল মুনাকর কোনো রকমে ভবন থেকে বাইরে বের হয়ে আসেন। তিনি বলেন, রাস্তায় থাকা মানুষরা চিৎকার করে বলছিল_ 'ঝাঁপ দিও না, ঝাঁপ দিও না'। এই চিৎকার শুনেই বুঝতে পারলাম, ভবনে আগুন লেগেছে। তিনি বলেন, আগুন থেকে বাঁচার জন্য কত মানুষ নিচে ঝাঁপ দিয়েছে আমি জানি না। তিনি বলেন, ভবনের ফায়ার অ্যালার্ম বাজেনি। জর্ডি মার্টিন নামে আরেকজন জানান, আগুন দেখার পর প্রথমে তিনি দৌড়ে ভবনটির কাছে গিয়ে বাসিন্দাদের বেরিয়ে আসতে বলেন। সে সময় শিশু কোলে এক নারীকে দেখেছেন জানালার ধারে চিৎকার করছেন_ আমার শিশুকে বাঁচান। ভবনে আটকে থাকা লোকজন চিৎকার করে সে সময় বলছিলেন, তাদের বাইরে বের হওয়ার উপায় নেই। কারণ করিডোরের ভেতরটা পুরোটা ধোঁয়ায় ভরে গেছে। বিবিসির সাইমন লেডারমেন জানান, ভবনটি যেভাবে জ্বলছে, তা কয়েক মাইল দূর থেকেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, তারা ছাদের ওপর থেকে আলো নাড়ানো দেখেছেন। ভবনে থাকা লোকজন ছাদের ওপর থেকে টর্চের আলো দিয়ে সাহায্যও চেয়েছেন। আর্তনাদও তারা শুনতে পেয়েছেন। বিবিসির সংবাদদাতা অ্যান্ডি মুর বলেন, ভবন থেকে ধ্বংসাবশেষ পড়তে দেখছি। আমরা বড় বিস্ফোরণের শব্দও শুনেছি। কাচ ভাঙার শব্দ পেয়েছি। প্রত্যক্ষদর্শী জর্জ ক্লার্ক বলেন, আমি প্রায় ভবন থেকে ১০০ মিটার দূরে। কিন্তু সারা শরীর ছাইয়ে ঢেকে গেছে। আগুনটা কত ভয়াবহ হতে পারে চিন্ত করুন! তিনি আরও বলেন, আমি দেখেছি ভবনের উপরের দিকে কেউ টর্চ জ্বালাচ্ছিল। তারা অবশ্যই বের হতে পারেনি। হয়তো তারা বেঁচে নেই। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী ডানিয়েল জানান, আটকে পড়া অনেক পরিবারের সদস্য বিছানার চাদর জানালার সঙ্গে বেঁধে সেটি বেয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন। 

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71