সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে শিব-গৌরি সেজে নেচে চলেছে গ্রামবাংলার মানুষ
প্রকাশ: ১০:২৪ pm ১৩-০৪-২০১৭ হালনাগাদ: ১০:২৪ pm ১৩-০৪-২০১৭
 
 
 


চৈত্র সংক্রান্তির উৎসব আবহমান গ্রামবাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য। বাংলা বর্ষের শেষ লগ্নে অর্থাৎ চৈত্রমাসের শেষ দিন গ্রামে গ্রামে জমতো মেলা। ঘরে ঘরে থাকত উৎসবের আমেজ। সময়ের স্রোতে হারানো বহু লোকজ ধারার মতোই হারিয়ে যাচ্ছে চৈত্র সংক্রান্তির নানা ঐতিহ্য।

অতীতে চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে গ্রামের ঘরগুলো সাজানো হতো নতুন সাজে। মাটির ঘরগুলো গৃহিণীর কোমল হাতে সোনালী রঙের মাটির আঁচড়ে হয়ে উঠত ঝকঝকে।

গৃহস্থরা নাতি-নাতনিসহ মেয়ে জামাইকে সমাদর করে বাড়ি নিয়ে আসত। সবাইকে দেওয়া হতো নতুন জামা-কাপড়। সেই সঙ্গে খাবার-দাবারে থাকতো বিশেষ আয়োজন। উৎসবে-আয়োজনে এভাবেই কেটে যেত বছরের শেষদিন থেকে নতুন বছরের শুরুর কয়েক দিন।

এদিনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বসত লোকৎসবের আসর। মেলা, গান-বাজনা ও যাত্রাপালাসহ নানা আয়োজনে উঠে আসে লোকজ সংস্কৃতির নানা সম্ভার। বায়াস্কোপ, সার্কাস, পুতুলনাচ, ঘুড়ি ওড়ানো ইত্যাদি চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা থাকত সেখানে।

এই উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ছিল চড়ক গাজন। এই উপলক্ষে এক গ্রামের শিবতলা থেকে শোভাযাত্রা শুরু করে অন্য শিবতলায় নিয়ে যাওয়া হত। একজন শিব ও একজন গৌরি সেজে নৃত্য করে এবং অন্য ভক্তরা নন্দি, ভৃঙ্গী, ভূত-প্রেত ও দৈত্যদানব প্রভৃতি সেজে শিব-গৌরির সঙ্গে নেচে চলে। এ সময়ে শিব সম্পর্কে নানারকম লৌকিক ছড়া আবৃত্তি করা হত। তাতে শিবের নিদ্রাভঙ্গ থেকে শুরু করে তার বিয়ে ও কৃষিকর্ম ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ থাকত।

বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় আবহমান গ্রামবাংলার সেই আনন্দমুখর পরিবেশ আর আগের মতো নেই। অনেক অঞ্চলেই প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে মাটির ঘর। ইট, পাথরে প্রত্যন্ত গ্রামে গড়ে উঠেছে অট্টালিকা। তবে এখনো দিনটিকে বিশেষভাবে উপভোগ করেন অনেকেই। 

এইবেলাডটকম /আরডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71