বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯
বুধবার, ৫ই আষাঢ় ১৪২৬
 
 
প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ২৯ তম প্রয়ান দিবস আজ
প্রকাশ: ০১:৫৮ pm ২৬-০৯-২০১৮ হালনাগাদ: ০১:৫৮ pm ২৬-০৯-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


প্রখ্যাত বাঙালি কণ্ঠশিল্পী, সঙ্গীত পরিচালক হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের মহা প্রয়ান দিবস আজ। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় (১৬ জুন ১৯২০ - ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯) একজন খ্যাতিমান বাঙালি কণ্ঠশিল্পী, সঙ্গীত পরিচালক এবং প্রযোজক ছিলেন। তিনি হিন্দি সঙ্গীতজগতে হেমন্ত কুমার নামে প্রসিদ্ধ।

শিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের জন্ম বারাণসীর পবিত্র শহরে। তাঁর আদি নিবাস ছিল দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার জয়নগরের বহড়ুতে। তাঁর পরিবার কলকাতায় আসে বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে‌। হেমন্তের ছোটবেলা কাটে তিন ভাই এক বোন নীলিমার সাথে। বড় ভাই তারাজ্যোতি ছোটগল্প লিখতেন। ছোটভাই অমল মুখোপাধ্যায় কিছু বাংলা ছায়াছবিতে সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলেন এবং ১৯৬০ এর দশকে কিছু গান ও গেয়েছিলেন। হেমন্ত ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে ছিলেন। সেখানেই তাঁর সাথে পরিচয় হয় কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে যান। কিন্তু তিনি সঙ্গীতের জন্য আপন শিক্ষা ত্যাগ করেন। তাঁর সাহিত্যিক হবার ইচ্ছে ছিল। কিছুদিন তিনি দেশপত্রিকার জন্যে লেখেন। ১৯৩৭ থেকে তিনি সম্পূর্ণভাবে সঙ্গীতজগতে প্রবেশ করেন।

১৯৪৫ সালে হেমন্তের সাথে বেলা মুখোপাধ্যায়ের বিবাহ হয়। ১৯৪৩ সালে বাংলা ছায়াছবি "কাশীনাথ"-এ সঙ্গীতপরিচালক পঙ্কজ মল্লিক বেলাকে দিয়ে কিছু জনপ্রিয় গান গাইয়েছিলেন কিন্তু বিবাহের পর বেলা আর সঙ্গীতজগতে প্রবেশ করেননি। হেমন্তর দুই সন্তান—পুত্র জয়ন্ত ও কন্যা রাণু। রাণু মুখোপাধ্যায় ১৯৬০-৭০ এ গান গাইতেন।

স্মৃতি পিছু ডাকলেও দিন মুছে যায় না। একথা প্রতিক্ষণে প্রমাণ করে হেমন্ত কন্ঠ। বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় গান থেকে বলিউড, তাঁর অবাধ আনাগোনায় আজও গুনগুনিয়ে ওঠেন শ্রোতা। সুরেই যাঁর পরিচয়, সেই মানুষটির প্রয়ান দিবসে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানানোর ভাষাও না হয় গানের লাইন হোক। তাই ভাবনা রোমন্থনে ঘুরে আসা হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সেরা দশটি বাংলা গানে।

‘আমি দূর হতে তোমারেই দেখেছি’ গানটি সবসময়ের প্রিয় হেমন্ত ভক্তদের কাছে। ‘আমি যে তোমারি’ অ্যালবামের এই গান চিরকালের রোমান্টিক হিট।

১৯৭১ সালে গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের কথায় আর হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুরে রচিত ‘মাগো ভাবনা কেন’ গানটি আজও কোথাও না কোথাও প্রতিবাদের ভাষা হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে বহু শিল্পীর কন্ঠে প্রকাশিত হয়েছে এই গান।

আবারও ‘আমি যে তোমারি’ অ্যালবামের ‘তুমি এলে, অনেকদিনের পরে যেন বৃষ্টি এল’ গানটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। সে সময়ে অন্যতম বিখ্যাত এই গানে হেমন্তের সঙ্গে গলা মিলিয়েছিলেন নচিকেতা ঘোষও। 

সত্তরের দশকে পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় এই গান বাবা-মেয়ের ইমোশনাল জার্নি পরতে পরতে ফুটিয়ে তুলেছে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও শ্রাবন্তী মজুমদারের গাওয়া গান ‘আয় খুকু আয়’ বন্ধন, ভালবাসা এমনকি বন্ধুত্বেরও প্রতীক।

তাঁকে ঘিরে পথ চলা আজও শেষ হয়নি, তবে হেমন্তের কন্ঠে ‘সপ্তপদী’ ছবির এই গান আজও হিট। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া এই গানে পর্দায় যেন নতুন জন্ম হয়েছিল উত্তম-সুচিত্রার।

১৯৫৯ এর ছবি ‘দীপ জ্বেলে যাই’। আর সেই ছবিতেই আবারও বাংলা গানকে কালজয়ী করলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা এই গানটির সুরও করেছিলেন তিনিই। আমাদের স্মৃতিতে অমর হয়ে রইল ‘এই রাত তোমার আমার’।

কমল মজুমদারের পরিচালনায় ‘লুকোচুরি’ ছবির গান জনপ্রিয় করেছিল কিশোর কুমারকেও। তবে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ছাপ ফেলেছিলেন ‘মুছে যাওয়া দিনগুলি’-র মতন গান তৈরি করে। গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার এবং হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের জুটি সত্তরের দশকে একের পর এক হিট গানের স্রষ্টা। 

‘খামোশি’, ‘বালিকা বধূ’, ‘নাগিন’-এর মতন বহু ছবি তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে নিয়ে গেলেও বাংলা গান হেমন্তকে নিজের জায়গা দিয়েছে জীবন দর্শনে। ফিল্মফেয়ার থেকে ডিলিট, জীবনে সমস্ত পুরস্কার তাঁকে সম্মানিত করতে পেরে গর্বিত। তবুও ভারত সরকারের দেওয়া পদ্মবিভূষণ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি। আজ তাঁর প্রয়ান দিবসে সেকথা মনে রেখে গানেই তাঁকে স্মরণ করুক বাঙালি।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71