শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শুক্রবার, ৬ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
প্রতিমা তৈরীতে শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত মৃৎ শিল্পীরা
প্রকাশ: ০৩:৩৬ pm ১৯-০৯-২০১৭ হালনাগাদ: ০৩:৩৬ pm ১৯-০৯-২০১৭
 
খুলনা প্রতিনিধি :
 
 
 
 


নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর নদীর তীরে কাশফুলের মেলা জানিয়ে দেয় শারদীয় উৎসবের আগমনী বার্তা নিয়ে শরৎ এসেছে। আর কিছু দিন পরই হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। পূজা উপলক্ষে প্রতিমাতৈরী শেষ হয়েছে। এখন রঙ আর তুলির আঁচড়ে প্রতিমার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে চলছে রাত দিন কাজ। পূজার সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে প্রতিমা শিল্পীদের ব্যস্ততা। সে কারনে এখন প্রতিমা সৌন্দর্য বর্ধনকারী রঙ শিল্পীদের নির্ঘুম রাত কাটছে। 

খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ১০ ইউনিয়নের পূজামন্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় শুরু হয়েছে অপেক্ষায় থাকা ১৪২টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতিমা তৈরির কাজ। তৈরী হচ্ছে দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষী, গণেশ, কার্তিক, অসুর ও অন্যান্য দেবদেবীর মুর্তি। এই সকল মুর্তির অর্ধিকাংশ ৮৫ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। প্রত্যেক পূজামন্ডপে কেউ রঙ ছিটানোর কাজ করছে আবার কেউ রঙ তুলি দিয়ে চেহারা ফুটিয়ে তোলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। শুকনো মাটির প্রতিমার ঠোটে লাল রঙ আর চোখ ও ভ্রুতে কালো রঙ দিয়ে মায়াবী মানুষের পরিণত করছে প্রতিমা শিল্পীরা। 

উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নে নোয়াকাটি গ্রামের প্রতিমা শিল্পী প্রহ্লাদ বিশ্বাস বলেন, প্রায় ১ যুগ ধরে প্রতিমা তৈরী করে আসছেন। এ বছর তারা বিভিন্ন জেলায় মোট ১১টি প্রতিমা তৈরী করছেন। তাছাড়া নিজ বাড়ীতেও বিগত কয়েক বছর ধরে দুর্গাপূজা করছেন। সময়ের সাথে সাথে মানুষের জীবন যাত্রার ব্যয় বেড়েছে কিন্তু সে অনুপাতে বাড়েনি প্রতিমা শিল্পীদের মজুরি। ধর্মীয় কাজ তাই মজুরি নিয়ে বাড়াবাড়ি করাটাও উচিত নয়। তার পরেও তারা মনে করেন যে হিন্দু ধর্মের এমন একটা মহৎ কাজের সঙ্গে তারা সম্পৃক্ত হতে পেরেছেন। এটাই তাদের বড় পাওনা। 

উপজেলার কপিলমুনি মিলন মন্দিরের কারিগর নিমাই বিশ্বাস বলেন, দুর্গাপূজার আগে প্রতিমার সকল কারুকার্যের কাজ শেষ করতে দিন রাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে নিজের তৈরী করা সকল প্রতিমার রঙ, তুলির কাজ যথা সময়ের মধ্যে শেষ হবে। 

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মহালয়া মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর শ্রী শ্রী শারদীয়া দুর্গাদেবীর বোধন, ২৬ সেপ্টেম্বর দুর্গাষষ্ঠী, ২৭ সেপ্টেম্বর সপ্তমী, ২৮ মহাষ্টমী, ২৯ সেপ্টেম্বর মহানবমী, ও ৩০ সেপ্টেম্বর শ্রী শ্রীশারদীয়া দুর্গাদেবীর দশমীবিহিত পূজা সমাপনান্তে বিসর্জ্জন। 

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সমিরন কুমার সাধু বলেন, উপজেলায় ১৪২টি মন্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে। পূজামন্ডপের সংখ্যার দিক দিয়ে হরিঢালীতে সবচেয়ে বেশি ও সর্বনিন্মে রয়েছে গদাইপুর ইউনিয়ন। পৌরসভায় ৭, হরিঢালী ১৯, কপিলমুনি ১৭, লতা ১৩, দেলুটি ১৪, সোলাদানা ১২, লস্কর ১৬, গদাইপুর ৫, রাড়ুলী ১৭, চাঁদখালী ১২ ও গড়ইখালী ইউনিয়নে ১১টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি চলছে। 

ওসি আমিনুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, সনাতন হিন্দু ধর্মাবালম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের সকল অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে পালনের জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন।

 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71