মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ১০ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
প্রধানমন্ত্রীর ডাক পেলেন মোটর মেকানিক মিজান
প্রকাশ: ০১:৩৬ am ৩০-০৩-২০১৫ হালনাগাদ: ০১:৩৬ am ৩০-০৩-২০১৫
 
 
 


যশোরের শার্শা উপজেলার আমতলা গাতিপাড়া পল্লীতে জন্ম নেয়া যুবক মিজানুর রহমান মিজানের সাফল্য দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। আধুনিকতার এ যুগে মোটর মেকানিকের কাজ করে একের পর এক যন্ত্র আবিষ্কার করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। মাধ্যমিকের গন্ডি না পেরিয়েও নিজের মেধা, যোগ্যতা ও সময়োপযোগী বুদ্ধি দিয়ে ওয়াটারপ্রুফ জ্যাকেট, অগ্নিনির্বাপণ মেশিন, অটো গোল করা ফুটবল, রাইস মিলের হলার, কাঠের তৈরি মোটরসাইকেল, অটো জমিতে সেচ দেয়া সুইচ মেশিনসহ একের পর এক আবিষ্কার করেই চলেছেন মিজান। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উদ্ভাবিত অগ্নিনির্বাপণ মেশিন সম্প্রতি যশোর ও খুলনায় বিজ্ঞান প্রযুক্তি মেলায় প্রদর্শন করে জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। তিনি পেয়েছেন ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র। বিজ্ঞানী মিজানের সাফল্যে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তাকে। প্রতিদিন তার উদ্ভাবিত মেশিন দেখতে শার্শায় আসছেন শত শত নারী পুরুষ।
সর্বশেষ মিজান অটো গোল করা ফুটবল তৈরি করেছেন। মানুষ ছাড়াই গোল করবে বলটি। তিনি বলেন, বিশেষ ইশারায় বলটি নিজে নিজেই দেবে গোল। তার সাফল্যের খবর পৌঁছে যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দফতরে। ২ এপ্রিল তাকে ডেকে পাঠানো হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম শরিফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর দফতরের এটুআই প্রকল্পের সদস্যরা শার্শায় এসে তার আবিষ্কার দেখেছেন। আধুনিকতার এ যুগে অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এ কাজটি করেছেন মোটরসাইকেল মেকানিক মিজানুর রহমান। এছাড়া কৃষিজমিতে অটোমেটিক সেচ দেয়ার জন্য আরও একটি সেচ মেশিনের সাফল্যসহ নতুন নতুন আবিষ্কার করে সবাইকে অভিভূত করছেন তিনি। তার মেধা, যোগ্যতা ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ২ এপ্রিল ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান তিনি। জেলা প্রশাসন থেকে বিষযটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। তার তৈরি সেচযন্ত্রটি প্রয়োজন হলে নিজ থেকেই জমিতে সেচ দিয়ে দেবে। কৃষকের উপস্থিত থাকার দরকার পড়বে না। পানি দেয়া হয়ে গেলে অটো বন্ধ হয়ে যাবে মেশিন। 
শার্শা নিজামপুর ইউনিয়নের আমতলা গাতিপাড়া গ্রামের রাইস মিল মেকানিক মোঃ আক্কাচ আলীর ছেলে মিজানুর রহমান বর্তমানে শার্শার শ্যামলাগাছি গ্রামে বসবাস করছেন। ছোটবেলা থেকে বাবার সঙ্গে থেকেই করেছেন অভিজ্ঞতা অর্জন। তার আবিষ্কার আগুন নেভানো মেশিনটি নিজেই যে কোনো ধরনের আগুন নেভাতে সক্ষম। ওযাটারপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরে ১০ থেকে ২০ ঘণ্টা আগুনের মধ্যে থাকলেও পুড়বে না কেউ। অটোমেটিক আক্সিজেন, ঠান্ডা পানি শরীরে সরবরাহ করবে হেলমেট ও ওয়াটারপ্রুফ জ্যাকেটটি। বিজ্ঞানী মিজান জানান, চার স্তরে তৈরি জ্যাকেটের খরচ হযেছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। অগ্নিনির্বাপণ মেশিন তৈরিতে খরচ ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। মানূষ দ্বারা বা কারেন্টের শর্টসার্কিট থেকে বা যে কোনো ধরনের আগুন লাগলে এ মেশিনটি নিজ থেকেই আগুন দেখামাত্র ৫ থেকে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে পানি দিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম। এছাড়া এ মেশিন তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিস, তার মালিককে মোবাইলে আগুনের খবর জানিয়ে দেবে এবং হুইশেল দিয়ে আধা কিলোমিটার এলাকার সাধারণ মানুষকে আগুনের বার্তা পাঠিয়ে সতর্ক করবে।
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71