সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৯ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
প্রশিক্ষণ নেই প্রাথমিকের ৩০ শতাংশ শিক্ষকের
প্রকাশ: ০৯:৫৯ am ১০-০২-২০১৮ হালনাগাদ: ০৯:৫৯ am ১০-০২-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


গুণগত পাঠদানে শিক্ষকের প্রশিক্ষণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকদের তাই প্রশিক্ষণের আওতায় আনছে সরকার। তার পরও বড় অংশ এখনো প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) সর্বশেষ বিদ্যালয় শুমারির তথ্য বলছে, ৩০ শতাংশের বেশি অপ্রশিক্ষিত শিক্ষক দিয়ে চলছে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম।

শুমারির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় সর্বমোট শিক্ষকের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৫। এর মধ্যে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৪৮৮ জনকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। বাকি ৭১ হাজার ৫৯৭ শিক্ষক কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠদান করছেন।

যথাযথ পাঠদানে সব শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার বিকল্প নেই বলে মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী অংশগ্রহণের দিক থেকে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা অনেক দূর এগিয়েছে। তবে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য যে অবকাঠামো ও যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক দরকার, তা আমাদের নেই। প্রশিক্ষিত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠদান সহজবোধ্য করা যাচ্ছে না। পাঠদান সহজ করতে তাই সব শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে।

শ্রেণীকক্ষে পরিকল্পিত পাঠদানের লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য রয়েছে শিক্ষক সংস্করণ, সহায়িকা ও নির্দেশিকা। এর প্রধান লক্ষ্য শিক্ষকদের পাঠদান কার্যক্রম সহজীকরণ ও শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত শিখনফল অর্জন। পাঠদানের ক্ষেত্রে এ নির্দেশিকা অনুসরণে শিক্ষকদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনাও দেয়া আছে। যদিও সরকার পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষকদের ৬৪ শতাংশই পাঠদানের ক্ষেত্রে এ নির্দেশিকা অনুসরণ করতে পারছেন না।

প্রশিক্ষণের অভাবে এ ধরনের নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন শিক্ষকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে সাতজন সহকারী শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলেও বাকিরা এখনো অপ্রশিক্ষিত। প্রশিক্ষিত ও অপ্রশিক্ষিত শিক্ষকদের পাঠদানে অনেক তফাত রয়েছে। প্রশিক্ষণের অভাবে অনেক শিক্ষকের পাঠদান শিশুদের কাছে দুর্বোধ্য মনে হয়।

এদিকে শ্রেণীকক্ষে মানসম্মত পাঠদানের অভাবে প্রাথমিক সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতাও থেকে যাচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘বাংলাদেশ প্রাইমারি এডুকেশন: অ্যানুয়াল সেক্টর পারফরম্যান্স রিপোর্ট-২০১৭’ শীর্ষক প্রতিবেদনে কয়েক বছর ধরে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অর্জনের হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৫ সালে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বাংলা বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের হার ছিল ২৩ শতাংশ আর গণিত বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের হার ছিল মাত্র ১০ শতাংশ। অর্থাৎ ২০১৫ সালে সমাপনী পরীক্ষায় পাস করা অধিকাংশ শিক্ষার্থীরই বাংলা ও গণিত বিষয়ে দুর্বলতা ছিল। ২০১৩ সালের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বাংলা ও গণিত বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের হার ছিল ২৫ শতাংশ। আর ২০১১ সালে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বাংলা বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের হার ছিল ২৫ শতাংশ ও ইংরেজিতে ৩৩ শতাংশ।

প্রাথমিকে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের দিক থেকেও দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। ২০০০ থেকে ২০১৫ সাল— এ ১৫ বছরে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার চিত্র ও উন্নয়ন পরিসংখ্যান নিয়ে ২০১৫ সালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইউনেস্কো। ‘এশিয়া প্যাসিফিক রিজিয়নাল এডুকেশন ফর অল’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় প্রশিক্ষিত শিক্ষকের হার মাত্র ৫৮ শতাংশ। অথচ প্রতিবেশী দেশ নেপালে এ হার ৯০ শতাংশেরও বেশি। পাকিস্তান ও শ্রীলংকায় ৮২ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ৭৮ শতাংশ প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ নিয়েই পাঠদান করেন। আর মিয়ানমারে শতভাগ প্রাথমিক শিক্ষকই প্রশিক্ষিত।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, প্রতি বছরই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে। নিয়োগের বছরই এসব শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা সম্ভব হয় না। প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে দু-তিন বছর লেগে যায়। তাই প্রশিক্ষিত শিক্ষকের হার কম। ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও ইনস্ট্রাক্টরের সংখ্যা বাড়ানো গেলে নিয়োগের পরপরই শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

বিএম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71