রবিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
রবিবার, ১২ই ফাল্গুন ১৪২৫
সর্বশেষ
 
 
প্রায় শতবর্ষ ধরে এই সম্প্রদায় কথা বলে গোপন ভাষায়
প্রকাশ: ১০:৩৪ pm ০৩-০৪-২০১৭ হালনাগাদ: ১০:৩৪ pm ০৩-০৪-২০১৭
 
 
 


রূপান্তরকামী মানুষ সম্ভবত এ দেশেই এক সংহত সমাজ গড়ে তোলেন। অন্য দেশে এই ধরনের মানুষের কমিউনিটি গড়ে ওঠার বহু আগেই ভারতের হিজরা সমাজ তার নিজস্বতাকে বুঝতে শিখেছিল এবং মূলধারার সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখলেও নিজেদের মধ্যে এক বিশেষ ভাষাকে তৈরি করেছিল।

আজও এই ভাষা হিজরাদের মধ্যে বহমান। কিন্তু মূলধরারা সমাজ তাকে স্পর্শ করতেই পারে না। রূপান্তরকামী মানুষ সম্ভবত এ দেশেই এক সংহত সমাজ গড়ে তোলেন। অন্য দেশে এই ধরনের মানুষের কমিউনিটি গড়ে ওঠার বহু আগেই ভারতের হিজরা সমাজ তার নিজস্বতাকে বুঝতে শিখেছিল এবং মূলধারার সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখলেও নিজেদের মধ্যে এক বিশেষ ভাষাকে তৈরি করেছিল। আজও এই ভাষা হিজরাদের মধ্যে বহমান। কিন্তু মূলধরারা সমাজ তাকে স্পর্শ করতেই পারে না।

হিজরাদের এই নিজস্ব ভাষার শব্দভাণ্ডার এতটাই অনন্য যে, সাধারণ মানুষের পক্ষে তা অনুধাবন করা দুরূহ। এই ভাষার একটা ইঙ্গিত সাহিত্যিক কমল চক্রবর্তী রেখেছিলেন তাঁর ব্রহ্মভার্গব পুরাণ উপন্যাসে। পরবর্তী সময়ে উপমহাদেশের বিভিন্ন ভাষাতত্ত্ববিদ এই ভাষাটিকে নিয়ে ভেবেছেন। ইসলামাবাদের গবেষক মহম্মদ সাফির আওয়ান এবং মহম্মদ শিরাজ পাকিস্তানের হিজরা সম্প্রদায়ের ভাষাকে বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, এই ভাষার শব্দভাণ্ডার একেবারেই এর নিজস্ব। এমনকী, বাক্যগঠনও আলাদা।

এক লম্বা সময় ধরে গড়ে ওঠা এই ভাষাটির নাম হিজরা ফারসি। কিন্তু ফারসি ভাষার সঙ্গে এর মিল খুবই সামান্য। এই ভাষার সঙ্গে বরং অনেকটা সাদৃশ্য পাওয়া যায় হিন্দি ও উর্দুর। কিন্তু এই দুটি ভাষা জানলেও হিজরা ফারসির পূর্ণ উদ্ধার সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত গবেষণা করেছেন জিয়া জাফেরি। তাঁর দি ইনভিজিবলস: আ টেল অফ ইউনাকস অফ ইন্ডিয়া নামের গ্রন্থে তিনি বিস্তারিত বিবরণ রেখেছেন এই সমাজ নিয়ে। সেখান থেকে আভাস পাওয়া যায়, ব্রিটিশ আমলে যখন এই সম্প্রদায়ের উপরে বিবিধ আইনি চাপ এসে পড়ে, তখন থেকেই এক স্বতন্ত্র ভাষার আশ্রয় নিতে থাকেন এঁরা। ভারত ও পাকিস্তানের ভাষাতাত্ত্বিকরা এই আভাসকে সত্য বলে স্বীকারও করে।

আজও এই ভাষা দারুণ ভাবে জীবিত উপমহাদেশের হিজরা সম্প্রদায়ের মধ্যে। অনেকে এই ভাষাকে হিজরা ফারসি না বলে কোটি বলে উল্লেখ করেন। কোটি শব্দটির বাংলা অর্থ মেয়েলি পুরুষ। ভাবতেও আশ্চর্য লাগে, এই একুশ শতকে, বিশ্বায়নের বিপুল উত্তাপে যখন সবকিছুই উন্মুক্ত, তখন কীভাবে নিজেদের তৈরি এক ভাষাকে সম্প্রদায়ের ভিতরেই সীমায়িত রেখেছেন এঁরা! এ যেন এক দারুণ অন্তর্ঘাত।

সাবঅল্টার্ন ইতিহাসচর্চার সূত্র অবশ্য এটাকেই স্বাভাবিক বলে মনে করে। অবদমিত জনগোষ্ঠী চিরকালই নিজস্ব কোড আবিষ্কার করে, এক স্বতন্ত্র ভাষার জন্ম দেয়। এক্ষেত্রেও সেটাই ঘটেছে বলে মনে হয়। যুগ যুগ ধরে সমাজের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা রূপান্তরকামীদের এ এক জ্বলন্ত প্রতিবাদ।  

এইবেলাডটকম/এএস

 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71