বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
বুধবার, ৮ই ফাল্গুন ১৪২৫
 
 
প্রীতিলতার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি
প্রকাশ: ০৬:৫২ pm ০৭-০৫-২০১৭ হালনাগাদ: ০৬:৫২ pm ০৭-০৫-২০১৭
 
 
 


ঢাকা::  ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের প্রথম নারী আত্মোৎসর্গকারী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। নতুন প্রজন্মের জন্য সুন্দর একটি দেশ উপহার দিতে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে গেছেন তিনি। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম এই নারী নেতার অবদান অস্বীকার কোনও সুযোগ নেই। তাকে বাদ দিলে স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে পড়ে। ফলে তার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করতে হবে।
শনিবার (৬ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে দৈনিক ভোরের কাগজ ও প্রীতিলতা ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলার স্বাধীনতার অগ্নিশিখা প্রীতিলতার ১০৬তম জন্মবার্ষিকী’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাবেক তত্ত্ববধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, ‘প্রীতিলতা আমাদের ইতিহাসের একটি মহান অংশ। স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা বললেই প্রীতিলতার কথা চলে আসে। তিনি আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছেন। প্রীতিলতা আমাদের নতুন প্রজন্মকে একটি সুন্দর দেশ ও জীবন দান করে গেছেন। তাকে বাদ দিয়ে স্বাধীনতার কোনও অর্থ হয় না।’
সুলতানা কামাল আরও বলেন, ‘প্রীতিলতাদের আবারও সামনে নিয়ে আসতে হবে। দেশে অনেক অনিয়ম হচ্ছে, অন্যায়ভাবে রামপালে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে। অথচ প্রীতিলতার মতো করে কেউ প্রতিবাদ করছেন না। এখন তাই নতুন প্রজন্মের প্রীতিলতাদের সামনে এনে আমাদের নতুন করে লড়াইয়ে নামতে হবে। সম্পূর্ণরূপে অসাম্প্রদায়িক একটি রাষ্ট্র গঠনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’
অনুষ্ঠানে ভাষা সৈনিক রওশন আরা বাচ্চু বলেন, ‘প্রীতিলতার মতো বিপ্লবীদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলাম। তিনি যেমন আমার প্রেরণা ছিলেন, তেমনি যুগে যুগে নতুন প্রজন্মের কাছেও তিনি প্রেরণা হয়ে থাকবেন।’
প্রীতিলতার স্মৃতি রক্ষার জন্য বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে প্রীতিলতা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান পংকজ চক্রবর্তী বলেন, ‘সরকারি অর্থায়নে চট্টগ্রামে প্রীতিলতা সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। আশা করছি, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর প্রীতিলতার প্রয়াণ দিবসে কমপ্লেক্সটি উদ্বোধন করা সম্ভব হবে।’ সরকারের প্রতি রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রীতিলতার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপনের দাবি জানান পংকজ চক্রবর্তীও।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতিআরা নাসরিন বলেন, ‘প্রীতিলতা যে সময় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন, সে সময় একজন নারীর জন্য বিপ্লবী হওয়া খুব সহজ ছিল না। বিপ্লবীর কখনও মৃত্যু হয় না, তিনি চির ভাস্মর হয়ে থাকবেন।’
নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের প্রধান নাসিমুন আরা হক মিনু বলেন, ‘প্রীতিলতার সংগ্রাম ও আত্মোৎসর্গের ইতিহাস বিস্তারিতভাবে পাঠ্যপুস্তকে তুলে ধরতে হবে। আমরা যখন এই দাবি করছি, তখন পাঠ্যপুস্তক থেকে অনেক প্রগতিশীল মনীষীর জীবনী বাদ দেওয়া হয়েছে।’
এর আগে, অনুষ্ঠানে মোমবাতি প্রজ্বলন করে প্রীতিলতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে খেলাঘরের শিশুশিল্পীরা দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করে।
উল্লেখ্য, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ১৯১১ সালের ৫ মে জন্মগ্রহণ, মৃত্যুবরণ করেন ১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। তার ডাকনাম ছিল রাণী, ছদ্মনাম ফুলতার। ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নারী মুক্তিযোদ্ধা ও প্রথম নারী শহীদ তিনি।

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71