বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০
বৃহঃস্পতিবার, ১২ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭
সর্বশেষ
 
 
ফরিদপুরে সাত্ত্বিক দুর্গা পূজার জন্য মহতী ধর্মসভা
প্রকাশ: ১১:০৪ pm ২০-১০-২০২০ হালনাগাদ: ১১:০৪ pm ২০-১০-২০২০
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


ফরিদপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ধর্মীয় সভা, বস্ত্র বিতরণ ও সাংস্কতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট দিপক কুমার রায়। অনুষ্ঠানে প্রধান ধর্মীয় আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব  শ্রীমৎ কান্তিবন্ধু ব্রহ্মচারী মহারাজ, সভাপতি-মহানাম সম্প্রদায়, বাংলাদেশ। প্রধান ধর্মীয় আলোচক ঘৃত প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন। এরপর সমবেত সুরে শ্রীশ্রী চন্ডী ও পবিত্র বেদ মন্ত্র উচ্চারণ করা হয়। প্রধান ধর্মীয় আলোচক তাঁহার বক্তব্যে বলেন, আমরা মায়ের সন্তান প্রত্যেকের সন্তানেরই মায়ের পুজা করা উচিত। আজকের এই দিনে যারা নতুন বস্ত্র পরিধান করার সাধ্য নেই তাদেরও বস্ত্র প্রদান করা হচ্ছে এটাই পূজার সার্থকতা। তিনি সবাইকে সাত্ত্বিক পূজা করার আহব্বান জানান। 

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের শ্রীশ্রী গৌড় গোপাল বিগ্রহ মন্দির প্রাঙ্গনে শারদীয় সংঘের আয়োজনে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব  করেন গৌড় গোপাল বিগ্রহ এস্টেট এর ম্যানেজিং ট্রাষ্টি শ্রী সজল প্রসাদ সিংহ রায়। বিশেষ ধর্মীয় আলোচক হিসাবে ছিলেন ফরিদপুর রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী সুরবরানন্দ মহারাজ, শ্রীমৎ ধ্রুব চৈতন্য-সভাপতি, বাংলাদেশ লোকনাথ গীতা প্রচার সংঘ, বাংলাদেশ পূজা কমিটির উপদেষ্টা প্রশান্ত রায়, সরকারী রাজেন্দ্র কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর অসীম কুমার সাহা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শ্রী জয় বিশ্বাস। অনুষ্ঠানের আহব্বায়ক ছিলেন দীপংকর দত্ত। উপস্থিত অতিথিবর্গ সাত্ত্বিক পূজার উপর আলোচনা করেন এবং সমাজ গঠন ও মানব কল্যাণের জন্য কাজ করার জোড়ালো আহব্বান জানান।

বিশেষ ধর্মীয় আলোচক শ্রীমৎ ধ্রুব চৈতন্য, সভাপতি-বাংলাদেশ লোকনাথ গীতা প্রচার সংঘ, শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দির, ৮৪/১ স্বামীবাগ রোড ঢাকা। তিনি ভক্তদের উদেশ্যে বলেন, প্রত্যেকে গীতা মুখী হতে হবে এবং অন্যদের গীতা পাঠে আগ্রহী করে তুলতে হবে। তিনি আরো ফরিদপুরে  ইতি পূর্বে ৬০টি গীতা শিক্ষালয়ে ১৩০০ গীতা বিনামূল্যে প্রদান করা হয়েছে এর পরও এখানে যদি আরো গীতা শিক্ষালয় গড়ে তুলতে চান তাহলে শ্রীমৎ বন্ধুকিশোর দাস ও জয় বিশ^াস মহোদয় এর সাথে যোগাযোগ করে বিনামূল্যে গীতা সংগ্রহ করতে পারবেন। উপস্থিত সাধু-সন্যাসী ও অতিথিবর্গকে বাংলাদেশ লোকনাথ গীতা প্রচার সংঘের পক্ষ হতে গীতা প্রধান করা হয়।

ধ্রুব চৈতন্য বলেন, পৃথিবীতে যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে তার সবই মাতৃ শক্তির মাধ্যমেই সৃষ্টি হয়েছ। মায়ের মধ্যে সেই সৃজনী শক্তি রয়েছে, যে শক্তির বলে আমরা এই পৃথিবীতে এসেছি। প্রতিবছর একটি নিদিষ্ট সময়ে মায়ের পূজা হয়ে থাকে কিন্তু ১৯ বছর পর এই ভাবে পূজা হচ্ছে এটার কারন হল পিতৃপক্ষ শেষ হওয়ার পরই আশ্বিনমাসের অধিক মাস বা মল মাস শুরু হয়েছে। এবছর দেবী পক্ষ শুরু হয়েছে ২০-২৫ দিন পর। প্রতি তিন বছরে একবার একটি অতিরিক্ত মাস আসে। একে অধিকমাস, মলমাস ও পুরুশোত্তম মাসও বলা হয়। সূর্য ও চন্দ্র মাসের গণনার ওপর ভিত্তি করে হিন্দু ধর্মানুসারীদের ক্যালেন্ডার পরিচালিত হয়। 

হিন্দু ধর্মানুসারীদের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, একটি সূর্য বর্ষ ৩৬৫ দিন ও প্রায় ৬ ঘণ্টার হয়ে থাকে। আবার চন্দ্র বর্ষ ৩৫৪ দিনের হয়। এই দুইয়ের মধ্যে ১১ দিনের পার্থক্য থাকে। অধিমাসে সমস্ত পবিত্র কার্য বর্জিত। এ মাসে বিশেষ যতœবান হওয়া এবং ব্রত ও সংযম পালন করা উচিত।  আমরা মায়ের কাছে প্রার্থনা করতে পারি হে দেবী, তুমি জাগো, তুমি জাগো, তুমি জাগো, ধন্য করো তোমার আগমনে এই পৃথিবীকে, কলুষতামুক্ত করো সকল মানুষের হৃদয়কে। মাতৃরূপে, বুদ্ধিরূপে, শক্তিরূপে, বিদ্যারূপে আশীর্বাদ করো পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষকে। বিনাশ করো আমাদের অসুর প্রবৃত্তিকে। দুর্গা পূজা অসুর বধের পূজা। আমাদের মধ্যেও নানা প্রকার অসুরত্ব আছে। দুর্গাপূজার মাধ্যমে এ অসুরত্ব বিনাশের জন্য আমরা দেবীর কাছে প্রার্থনা করি। এ সময়ে পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ করা হয়। 

দুর্গা পূজা করা হয় দুর্গতি নাশ করার জন্য, কিন্তু আমাদের প্রতিনিয়ত দুর্গতি বেড়ে যাচ্ছে, রোগ শোক বেড়ে যাচ্ছে, এর কারন কি? এর উত্তর শ্রীমদভগবদগীতা থেকে দেওয়া যেতে পারে, “জন্ম-মৃত্যু, জরা-ব্যাধি, দুঃখ-দোষ, অনুদর্শনম্” অর্থ্যাৎ জন্ম-মৃত্যু জরা-ব্যাধি এগুলো পাপের পাপের পরিনাম স্বরুপ। 

তিনি আরো বলেন, সব চাইতে সহজ পুজা হল সাত্ত্বিক পুজা, কেননা এখানে অর্থ ব্যায় কম, পরিশ্রম কম, চিন্তা কম, সময় ব্যায় কম। শুধু মন ও ভক্তি ভরে মায়ের চরনে ফুল, জল অর্পন করতে পারলেই মা সন্তুষ্ট হয়। মা হচ্ছে ভক্তির কাঙ্গাল, প্রেমের কাঙ্গাল। যে সংঘ সাত্ত্বিক পূজার করা জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে তাদের চরনে শত কোটি প্রণাম নিবেদন করছি। আজকের এই মায়ের আগমনী অনুষ্ঠান থেকে সবাই শারীরিক, মানসিক, নৈতিক, আধ্যাত্মিক, সাংগঠনিক ও আত্মশক্তি লাভ হউক সেই প্রার্থনা করছি মায়ের নিকট করছি।

এছাড়া গত শনিবার ফরিদপুরে  পারচর ও বাহিরদিয়া দুইটি গীতা শিক্ষালয়ে আলোচনা সভা ও গীতা দান কর্মসূচী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমৎ ধ্রুব চৈতন্য, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন  শ্রীমৎ বন্ধুকিশোর দাস, শিক্ষক, শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গন গীতা শিক্ষাকেন্দ্র পরিদপুর, প্রফেসর গোবিন্দ চন্দ্র বিশ্বাস, প্রাক্তন অধ্যক্ষ-সরকারি ইয়াছিন কলেজ-ফরিদপুর, বিকাশ কুমার পাল, পরিচালক, "আমরাই হব কালের খেয়া-২০১০", স্বপন কুমার সরকার-যুগ্ম সাধারন সম্পাদক, বাংলাদেশ লোকনাথ গীতা প্রচার সংঘ সহ আরো অনেকে।

নি এম/মনিকা

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 

 

E-mail: info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Ltd.

Request Mobile Site

Copyright © 2020 Eibela.Com
Developed by: coder71