সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৯ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
ফিদেল ক্যাস্ত্রোর জীবন কাহিনী
প্রকাশ: ১১:৩৯ am ০১-১২-২০১৬ হালনাগাদ: ১১:৩৯ am ০১-১২-২০১৬
 
 
 


প্রিয় নেতার মৃত্যুতে শোকে বিহŸল কিউবার অধিবাসীদের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর পরিবর্তে, আগামী জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে চলা ডোনাল্ড ট্রাম্প বিরূপ মনোভাব ব্যক্ত করেছেন! এর বিপরীতে, ক্যাস্ত্রোর মৃত্যুতে ভ্যাটিকানের পোপ ফ্রান্সিস গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একজন ঘোষিত মার্ক্সবাদী ক্যাস্ত্রোর মৃত্যুতে তার প্রতি পোপের সহানভূতিসম্পন্ন অভিব্যক্তির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ধর্ম সম্পর্কে ক্যাস্ত্রোর মনোভাব এবং জীবদ্দশায় পোপের সঙ্গে ক্যাস্ত্রোর সাক্ষাৎ। বলা বাহুল্য, ফিদেল ক্যাস্ত্রোর ধর্মীয় মতামত একটি জনআগ্রহের বিষয়। মার্ক্সবাদের অনুসারী হিসেবে ক্যাস্ত্রোর ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে প্রশ্ন থাকাটাই স্বাভাবিক। এর কারণ হচ্ছে, মার্ক্সবাদের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাথমিক তাত্তি¡ক জার্মান চিন্তাবিদ কার্ল মার্ক্স ধর্ম সম্পর্কে একটি পরস্পরবিরোধী এবং জটিল দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনে পরম নির্ভরতা, আশ্রয় ও ভরসার স্থল হিসেবে অতীতের ন্যায় বর্তমানেও ‘ধর্ম’ ক্রিয়াশীল। তবে, ‘ধর্ম’ সম্পর্কে কার্ল মার্ক্সের ধারণা ছিল এর ঠিক বিপরীত। ‘আস্তিক’ বনাম ‘নাস্তিক’ এর মধ্যকার বিতর্কে কার্ল মার্ক্সের অবস্থান অনেকাংশে নাস্তিকতার কাছাকাছি। তবে মার্ক্সবাদে বিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও ক্যাস্ত্রো কিন্তু পুরোপুরি ধর্মবিশ্বাস থেকে সরে আসেননি। ওয়াশিংটন পোস্টের মতে, কারাগার থেকে কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ফিদেল ক্যাস্ত্রো তার চিঠিতে লিখেছিলেন যে তিনি, ‘লক্ষণীয়ভাবে হৃদয়ের গভীর থেকে একজন আধ্যাত্মিক মানুষ এবং ঐকান্তিকভাবে স্রষ্টায় বিশ্বাসী।’

কিউবার মহান বিপ্লবী নেতা এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ফিদেল ক্যাস্ত্রো ৯০ বছর বয়সে স্থানীয় সময় রাত ১০টা ২৯ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা) রাজধানী হাভানায় মৃত্যুবরণ করেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং অন্যান্য নেতারা ক্যাস্ত্রোর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এডভোকেট আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিদেল ক্যাস্ত্রোর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘হিমালয়’ পর্বতমালার মতো ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য করা সম্পর্কে ফিদেল ক্যাস্ত্রোর কথা এ দেশে কিংবন্তিতুল্য মন্তব্য হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৩ সালে ফিদেল ক্যাস্ত্রোকে ‘মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা পদক’-এ ভূষিত করা হয়েছিল।

স্বাস্থ্যগত কারণে ২০০৮ সালে ছোট ভাই রাউল ক্যাস্ত্রোর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব হস্তান্তরের পর থেকেই আড়ালে চলে যান ক্যাস্ত্রো। রাউলই গত শুক্রবার মধ্য রাতের পর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া ঘোষণায় জাতিকে এ দুঃসংবাদ দেন। ছোট্ট ঘোষণায় তিনি শুধু বলেন, ‘কিউবা বিপ্লবের প্রধান সেনাপতি ফিদেল ক্যাস্ত্রো আজ রাত ১০টা ২৯ মিনিটে মারা গেছেন। তার ইচ্ছা অনুযায়ী শনিবার সকালে মরদেহ দাহ করা হতো।’ তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কিছু না জানিয়ে কিউবা বিপ্লবের জনপ্রিয় গান ‘হাস্তা লা ভিক্তোরিয়া সিয়েম্প্রে’ (অর্থাৎ বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক)’ বলে ঘোষণা শেষ করেন রাউল। পরে নির্বাহী ঘোষণায় জানানো হয়েছে, ক্যাস্ত্রোর মৃত্যুতে ৯ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে কিউবা। এ সময় ক্যাস্ত্রোর দেহভস্ম কয়েকটি ভাগে ভাগ করে চার দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হবে। পরে আবার সেগুলো এক জায়গায় করে আগামী ৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমের ঐতিহাসিক শহর সান্টিয়াগোতে সমাহিত করা হবে, যেখানে স্কুল ও কলেজ জীবনের লম্বা সময় কেটেছে ক্যাস্ত্রোর। যে শহরের সিটি হলের ব্যালকনি থেকে ১৯৫৯ সালের ১ জানুয়ারি কিউবা বিপ্লবের বিজয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ক্যারিবীয় সাগরে ৪২ হাজার ৪২৬ বর্গমাইল আয়তনের দ্বীপপুঞ্জ কিউবাকে এক সময় নিজেদের অবকাশযাপন কেন্দ্র বানিয়ে রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ক্ষমতায় বসিয়েছিল তাদের পোষ্য সরকার। সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে সেই সরকারকে ক্ষমতাছাড়া করেন ক্যাস্ত্রো। দেশ ফিরিয়ে দেন জনগণের হাতে। যুক্তরাষ্ট্রের নাকের ডগায় বসে প্রতিষ্ঠা করেন সমাজতন্ত্র, ফ্লোরিডার দক্ষিণ উপক‚ল থেকে যার দূরত্ব মাত্র ৯০ মাইল। যুক্তরাষ্ট্র হুমকি দিয়েছিল, অবরোধ আরোপ করেছিল, মার্কিন গোয়েন্দারা হত্যার ছক কষেছিল, বিরোধীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কিউবায় পাঠিয়ে সশস্ত্র বিদ্রোহ করানোর চেষ্টা করেছিল; কিন্তু টলাতে পারেনি ক্যাস্ত্রোকে। তার আমলে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ প্রেসিডেন্ট পরিবর্তিত হয়েছে। তাদের বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ক্যাস্ত্রো এক হাতে কিউবা শাসন করেছেন এক টানা ৪৯ বছর যাবৎ। বিরোধীদের চোখে তিনি ছিলেন ‘স্বৈরাচার’, কট্টর পুঁজিবাদী দেশগুলোর কাছে তার পরিচয় ছিল ‘একনায়ক’; বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর কাছে তিনি ছিলেন ‘আস্থার প্রতীক’, অনুসারীরা তাকে চিনত ‘এল কমান্ডান্তে (দ্য কমান্ডার) হিসেবে, আর মুক্তিকামী সংগ্রামী সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ছিলেন কিংবদন্তি।

২০০৬ সালে বড় ধরনের অসুখে পড়েন ক্যাস্ত্রো। স্বাস্থ্যগত কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তাকে প্রকাশ্যে দেখা যেত না। মাঝেমধ্যে প্রত্রিকায় কলাম লেখা ছাড়া সেভাবে তার খবর মিলত না। কালে-ভদ্রে দু’একটা ছবি প্রকাশ করা হতো কেবল। এর মধ্যে গত আগস্টেই ঘটা করে ক্যাস্ত্রোর ৯০তম জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে সবাইকে নিয়ে কেক কেটেছিলেন ক্যাস্ত্রো, দিয়েছিলেন বক্তৃতা। সেটাই সর্বশেষ তার প্রকাশ্যে আসা, সর্বশেষ বক্তৃতা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পশ্চিমা পরাশক্তি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মদদে দেশে দেশে যখন পুতুল সরকার ক্ষমতায় বসতে থাকে, বিস্তার হতে থাকে নব্য উপনিবেশবাদের জাল, পুঁজিবাদ-মুনাফার দুষ্টচক্রে পড়ে যখন নিপীড়িত মানুষের আহাজারি বাড়তে থাকে, বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যখন সাহায্যের নামে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সা¤্রাজ্যবাদের থাবা মেলতে থাকে, তখন বিপ্লবের ঝাণ্ডা উড়িয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন ফিদেল ক্যাস্ত্রো। সমগ্র বিশ্বে তিনি বিপ্লবী হিসেবেই সমধিক পরিচিত। আমাদের বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে- বিপ্লবী ও কমিউনিস্ট হিসেবে খ্যাত ক্যাস্ত্রো ধর্ম সম্পর্কে কী মনোভাব পোষণ করতেন (?)। ফিদেল ক্যাস্ত্রোর ধর্মীয় মতামত সম্পর্কে ব্যাপক কৌত‚হল বিদ্যমান। ওয়াশিংটন পোস্টের মতে, কারাগার থেকে কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ফিদেল ক্যাস্ত্রো তার চিঠিতে লিখেছিলেন যে, তিনি ‘লক্ষণীয়ভাবে হৃদয়ের গভীর থেকে একজন আধ্যাত্মিক মানুষ-এবং ঐকান্তিকভাবে বিশ্বাসী একজন।’ শিশু ক্যাস্ত্রো রোমান ক্যাথলিক হিসেবে দীক্ষিত হয়েছিলেন কিন্তু তিনি তা অনুশীলন করতেন না। ক্যাস্ত্রো বলতেন, ‘আমি কখনো (ধর্ম) বিশ্বাসী ছিলাম না।’ এতদ্সত্ত্বেও দেখা যাচ্ছে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি আস্তে আস্তে ধর্মের প্রতি প্রগাঢ়ভাবে আকৃষ্ট হচ্ছিলেন!

১৯৯২ সালে ক্যাস্ত্রো তার শাসনাধীনের কিউবায় ধর্মের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন এবং এমনকি গির্জার উপাসনায় নিয়মিত অংশগ্রহণকারী ক্যাথলিকদের কিউবার কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেয়ার অনুমতি দিতে সম্মত হন। এ সময় তিনি তার দেশকে ‘নাস্তিক’-এর পরিবর্তে ‘ইহজাগতিক’ (সেক্যুলার) হিসেবে বর্ণনা করতে শুরু করেন। ১৯৯৮ সালে পোপ দ্বিতীয় জন পল কিউবা সফর করেন। এটি ছিল কোনো কর্মরত খ্রিস্টীয় পুরোহিতের প্রথম কিউবা সফর। এই পরিদর্শনের সময় ক্যাস্ত্রো এবং পোপ পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন। এসব অনুষ্ঠানে গতানুগতিক পোশাকের পরিবর্তে ক্যাস্ত্রো গাঢ় নীল রঙের বিজনেস স্যুট পরেছিলেন। ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে ক্যাস্ত্রো সরকারিভাবে খ্রিস্টমাস দিবস উদযাপন পুনরায় চালু করেন, যেটি ১৯৬৯ সাল থেকে কিউবার কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ করেছিল। এ সময় থেকে কিউবার জনগণকে ছুটির দিন হিসেবে খ্রিস্টমাসকে গণ্য করার এবং এ উপলক্ষে প্রকাশ্যে ধর্মীয় মিছিল করার অনুমতি দেয়া হয়। পোপ এ সময় খ্রিস্টমাস উদযাপনের জন্য ক্যাস্ত্রোর কাছে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি টেলিগ্রাম প্রেরণ করেন। ২০০৩ সালে ক্যাস্ত্রো রোমান ক্যাথলিক আশীর্বাদের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। এই অভূতপূর্ব ঘটনার উদ্দেশ্য ছিল পুরাতন হাভানায় নতুনভাবে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত কনভেন্টকে উৎসাহিত করা এবং কিউবায় পোপের পরিদর্শনের ৫ম বর্ষ উদযাপন করা। ২০০৪ সালে অর্থডক্স খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের জ্যেষ্ঠ আধ্যাত্মিক নেতা কিউবায় আসেন। গির্জার ইতিহাসে কোনো অর্থডক্স প্যাট্রিয়ার্কি, ‘প্রথম ইকুমেনিক্যাল প্যাট্রিয়ার্ক বার্থোলোমিউ’ হাভানায় একটি ক্যাথেড্রাল সফর করেন এবং ক্যাস্ত্রোকে সম্মানিত করেন। ‘প্রথম ইকুমেনিক্যাল প্যাট্রিয়ার্ক বার্থোলোমিউ’-এর সহকারী এ সময় বলেছিলেন যে, তিনি কিউবার সরকারের সিদ্ধান্তে সাড়া দিয়ে পুরাতন হাভানার কেন্দ্রে একটি ছোট অর্থডক্স ক্যাথেড্রাল নির্মাণের জন্য অর্থডক্স খ্রিস্টানদের সাহায্য করেছিলেন। ২০০৫ সালের এপ্রিলে দ্বিতীয় পোপ জন পলের মৃত্যুর পর হাভানার ক্যাথেড্রালে এক সভায় ক্যাস্ত্রো অংশগ্রহণ করেন এবং ভ্যাটিক্যান দূতাবাসে রক্ষিত পোপের শোক বইতে স্বাক্ষর করেন। এর ৪৬ বছর আগে, তার এক বোনের বিয়ে উপলক্ষে তিনি সর্বশেষ ১৯৫৯ সালে ক্যাথেড্রাল সফর করেছিলেন।

কালো পোশাক পরিধান করে ‘কার্ডিনাল লুকাস অর্টেগা ওয়াই অ্যালামিনো’ সমাবেশে নেতৃত্ব দেন এবং ক্যাস্ত্রোকে স্বাগত জানান। এ সময় তিনি ‘হলি ফাদার দ্বিতীয় জন পলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ’ করেন, যাকে কিউবায় স্বাগত জানানো হয়েছিল। ২০০৯ সালে ব্যক্ত করা তার আত্মজীবনীতে, ক্যাস্ত্রো বলেন যে ‘খ্রিস্ট্রানিটি মানবীয় মতবাদের একগুচ্ছ’ প্রকাশ করেছে, যা বিশ্বকে ‘আত্মিক মূল্যবোধ’ এবং ‘সামাজিক মূল্যবোধের একটি ধারণা’ দিয়েছে। এই সঙ্গে তিনি এও বলেন যে, ‘লোকজন যদি আমাকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে না হয়ে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে খ্রিস্টান বলে, তাহলে আমি একজন খ্রিস্টান।’২০১২ সালের ২৮ মার্চ, পোপ ষোড়শ বেনেডিক্টের তিন দিনের কিউবা সফরের সময় তার সঙ্গে ক্যাস্ত্রো ৩০ মিনিটের সভা করেন। এর আগে পোপ কিউবার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ করেন এবং পোপ অধিকতর উন্মুক্ত কিউবার সমাজ উৎসাহিত করার জন্য বিবৃতি দেন এবং পোপের ভূমিকা এবং বিগত শতাব্দীব্যাপী গির্জায় যে পরিবর্তন হয়েছে সে সম্পর্কে ক্যাস্ত্রো জিজ্ঞাসা করেন। ২০১৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে ক্যাস্ত্রো সাক্ষাৎ করেন এবং পরিবেশ রক্ষা ও আধুনিক বিশ্বের সমস্যাবলি নিয়ে আলোচনা করেন।

পোপ ফ্রান্সিস ফিদেল ক্যাস্ত্রোর মৃত্যুকে একটি ‘দুঃসংবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং তিনি তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশসহ বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। শনিবার ২৬ নভেম্বর ফিদেল ক্যাস্ত্রোর ভাই কিউবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ত্রোর কাছে প্রেরিত স্প্যানিশ ভাষায় লিখিত এক বার্তায় পোপ ফ্রান্সিস এই শোক প্রকাশ করেন। গতবার (২০১৫ সালে) পোপ যখন কিউবা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন তখন তিনি ক্যাস্ত্রোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। পোপ কিউবার প্রেসিডেন্টের কাছে প্রেরিত বার্তায় বলেন, ‘আমি আপনার কাছে আমার মর্মপীড়া ব্যক্ত করছি।’ একজন মার্ক্সবাদী হওয়া সত্ত্বেও ধর্মের মানবিক চেতনার অনুসারী ক্যাস্ত্রোর আদর্শগত আনুগত্য, ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ আক্রান্ত বর্তমান বিশ্বে, ধর্মের নামে মানবতাবিরোধী বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমাদের সচেতন করে তোলে।

প্রফেসর ড. অরুণ কুমার গোস্বামী : চেয়ারম্যান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ও পরিচালক, সাউথ এশিয়ান স্টাডি সার্কেল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71