রবিবার, ২০ জানুয়ারি ২০১৯
রবিবার, ৭ই মাঘ ১৪২৫
 
 
ফুলপুরের রাধা রানী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি ঘর চান
প্রকাশ: ০৩:০০ pm ০৭-১০-২০১৮ হালনাগাদ: ০৩:০০ pm ০৭-১০-২০১৮
 
ফুলপুর প্রতিনিধি
 
 
 
 


আজীবন আওয়ামীলীগের কর্মী নরেশদা। ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে পয়ত্রিশ বছরের সোমত্ত মানুষ। শত শত পরিবারকে ভারতের আশ্রয় শিবিরে পৌঁছে দেন তিনি।মুক্তিযোদ্ধাদের পথ প্রদর্শক নরেশ চন্দ্র দাস এখন অশীতিপর বৃদ্ধ। ক্ষেতও নেই তার পুতও নেই।

একমাত্র কন্যা অনিমাকে বিয়ে দেওয়ার পর কিছু ঋন করতে হয় তাকে। সে সময় স্ত্রী রাধা রানী নমদাস কে নিয়ে পরের জমিতে কামলা খেটে ভালই চলছিল তার। কিন্তু স্থানীয় সুদি চক্রের ক্ষুদ্রঋনের কিস্তি দিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায় সে।শরীরে অসুখ ভর করে, ক্রমশঃ অক্ষম হয়ে পড়লে স্ত্রী রাধারানী সংসারের হাল ধরেন। পরের বাড়ীতে ঝি এর কাজ করে, পাড়ায় পাড়ায় ফেরী দোকান চালিয়ে তিনি সব ঋন পরিশোধ করেন। এখন আর দোকান চালানোর ক্যাশ নেই তাঁর তাই পরের দোয়ারে হাত পাততে হয় বেঁচে থাকার তাগিদে। এক কথায় রাধারানী এখন পাড়ায় পাড়ায় ভিক্ষা করে জীবিকা চালায়।

নরেশ দা আমার ত্রিশ বছরের বন্ধু, রাধা বৌদি আমার মায়ের বয়সী। একদিন ওরা সুখী দম্পতি ছিলো। নিজের পুত্র সন্তান নাই বলে বহুবার এই বৌদি আমাকে সবান্ধব তার বাড়িতে আম-কাঠালের দাওয়াত খাইয়েছে।আমি ঋনী ওদের কাছে। সেদিন শাকুয়াই ঠাকুর পাড়ায় রাধাবৌদি কে ভিক্ষে করতে দেখে ইশারায় কাছে ডেকে আনলাম, তাঁর কষ্টের কাহিনী শুনে মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে গেল।

পরদিন নিজ চোখে দেখবো বলে সটান বৌদির আঙিনায় হাজির হলাম সকাল নয়টায়। তিন ঘন্টা ওদের সাথে কাটিয়ে এলাম। নরেশ দার বয়স্কভাতার কার্ড ইউএনও রাশেদ হোসাইন মহোদয় করে দিয়েছেন। এখন তারা নিজের জমিতে একটা ঘর চায় কারণ ঘর তোলার মতো শারিরীক বা আর্থিক কোন সামর্থ্যই তাদের নেই।

খবর নিয়ে জেনেছি, প্রধানমন্ত্রীর উপহার, সবার জন্যে বাসস্থান বা আশ্রয়ণ প্রকল্প, জমি আছে যার, তার জমিতে ঘর প্রকল্পে রাধা বৌদির নাম তালিকাভুক্ত করার মতো আপন স্বজন, সুহৃদ সমাজসেবক, গরীবের বন্ধু, কোন রাজনৈতিক নেতা বা জনপ্রতিনিধি এগিয়ে আসেননি। হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের লোকাল নেতারাও বিষয়টি আমলে নেননি।

সব আশা নিভে গেলে আমার এ পান্ডুলিপির আয়োজন, নরেশদা আর রাধা বৌদির নিমিত্তে এ লেখা।

এই অক্ষম ভিখেরীনি রাধারানী আর নরেশদা টুনাটুনি দম্পতির জন্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের একটি ঘরের দাবী জানাই। তালিকায় জায়গা না পাওয়া অক্ষম ভিক্ষুক রাধারানী দম্পতিকে তালিকাভুক্ত করার আবেদন করছি।

নি এম/হৃদি
 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71