বুধবার, ২২ মে ২০১৯
বুধবার, ৮ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
 
 
ফুলবাড়ীতে এক বছরে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার
প্রকাশ: ০৪:০৩ pm ১৮-০২-২০১৯ হালনাগাদ: ০৪:০৩ pm ১৮-০২-২০১৯
 
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
 
 
 
 


কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে থানা পুলিশের মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদক নির্মৃল ও মাদক মুক্ত ফুলবাড়ী গড়তে এ অভিযান অব্যাহত রেখে বিগত এক বছরে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করেছে। ২২৬টি মাদক আর চোরাচালান মামলাসহ মোট ২৮৬ জন মাদক ব্যাবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে।

উপজেলার ৩৬ কি.মি সীমান্ত জুড়ে থানা পুলিশ রাত ও দিন হারটানা পরিশ্রম করে এই মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৮ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত গত এক বছরে গাঁজা ৩৩৩ কেজি ফেন্সডিল, ৫৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট ১৭২পিচ মদ, ৫৯ পিচ আর স্কাপ-সিরাপ ১৪১ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং মামলা ২২৬ ও ২৮৬ জন মাদক ব্যাবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন ফুলবাড়ী থানার এ এস আই আনারুল ইসলাম। যা গত বছরের (২০১৭) সালের চেয়েও ২০১৮ সালে বিপুল পরিমাণে মাদক জব্দ ও মামলা এবং গ্রেফতারের সংখ্যা অনেক বেশি। প্রতিদিনেই থানা পুলিশের বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকার পরেও কিছুতেই থামছে না মাদক ব্যবসা!

তবে পুলিশের মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে অনেক মাদক ব্যাবসায়ী এ পথ ছেড়ে দিয়েছেন। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার মাদকের নিরাপদ রুটগুলো হল-কাশিপুর ইউনিয়নের অনন্ত পুর, কাশিয়া বাড়ি, বেড়া কুটি, ধম পুর, বালা বাড়ি,গংগারহাট,ব্রীজের মোড়,ফুলবাড়ী ইউনিয়নের চাঁদের বাজার, ঠোসবিদ্যাবা গিস, শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের জুম্মারপাড়,বসুন- শিমুলবাড়ি, নন্দিরকুটি ও নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের খলিশা কোটাল, গজেরকুটি, কুরুষাফে-রুষা, জাগিরটারি,বালাটাড়ি,কৃষ্ণা-নন্দ, বকসী, গোরকমন্ডল, চরগোরকমন্ডল, নামাটারি।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সচেতন মহলের অভিযোগ থানা পুলিশ দিন ও রাত কঠোর পরিশ্রম করে গত এক বছরে ২২৬টি মাদক এবং চোরাচালান মামলাসহ বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার এবং ২৮৬জন মাদক ব্যাবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করার পরেও যেন কিছুতেই থামছে না এই মাদক ব্যাবসা। তারা জানান যে, ভারত কাছে হওয়ার কারনে এসব মাদক দ্রব্য খুব সহজেই আমাদের বাংলাদেশে পাচার হচ্ছে।

মাদকের কাঁচা টাকার নেশায় খুব সহজেই মাদক ব্যাবসার সঙ্গে সীমান্তবতী এলাকার বেকার যুবসম্প্রদায় খুব সহজে জড়িয়ে যায়। সীমান্তে অনেক শিক্ষিত বেকার যুবক আর যুবতিরা চাকুরী ও কর্মসংস্থ না পেয়ে জীবন-জীবিকার তাগিতেই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন বলে এলাকার সচেতন মহলের দাবী।

কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলজার হোসেন মন্ডল এবং ফুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ জানান, সীমান্তে বেকার যুবকদের কমসংস্থন ও পর্যাপ্ত বিনোদনের ব্যবস্থা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক এবং মাদকের উপর জনসচেতনতা বৃদ্ধি করলে সীমান্তবতী এলাকার তরুন যুব সমাজ মাদকের মরণ নেশা ও ব্যবসা থেকে ফিরে আসবে। প্রশাসন ইচ্ছ করলে প্রতিটি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি আর সচেতন মহলের সহযোগীতা নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে গনসচেতনা বৃদ্ধি করতে পারলে মাদক নিমৃল করা সম্ভব হবে। তারা আরও জানান, সীমান্তে ১৫ বিজিবি ও ফুলবাড়ী থানায় ওসি আসার পর থেকে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করেছেন।

তাই গত এক বছরে পুলিশ মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক দ্রব্য উদ্ধার ও মাদক মামলাসহ গ্রেফতারের সংখ্যা অনেক বেশি। তবে এলাকাবাসি পুলিশ প্রশাসন ও বিজিবিকে সহযোগীতা করলে তারা ফুলবাড়ীকে মাদক মুক্ত করতে পারবে। 

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী থানার ওসি খন্দকার ফুয়াদ রুহানী জানান, পুলিশ বাহিনী দিন ও রাত কঠোর পরিশ্রম করে গত এক বছরে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার ২২৬টি মাদক মামলাসহ মোট ২৮৬ জন মাদক ব্যাবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রতিদিনেই মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান চলছে চলবে। 

তিনি আরও জানান, স্থানীয় জনপ্রনিধিরা পুলিশকে সহযোগীতার পাশাপাশি দুই দেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী যদি মাদকসহ অবৈধ পন্যসামগ্রী প্রবেশের ব্যাপারে তৎপর হয়। তাহলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাদকসহ অন্যান্য মালামাল শুন্যের কোঠায় চলে আসবে। তাহলে মাদক চোরাচালান ও মাদক সেবনকারী আর মাদক ব্যাবসায়ী চিরোতরে নিমৃল করা সম্ভব হবে বলে জানান।

নি এম/রতি কান্ত 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71