বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ১লা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
ফ্যাটি লিভার কেন হয়? এটি কিভাবে নিরাময় করা যায়? 
প্রকাশ: ১১:১৭ am ০১-০৫-২০১৮ হালনাগাদ: ১১:১৭ am ০১-০৫-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। এই রোগ কী, কেন হয়? লিভারের মধ্যে অতিরিক্ত পরিমাণ চর্বি জমে গেলে আমরা তাকে ফ্যাটি লিভার বলে। এটি বিভিন্ন পরীক্ষায় ধরা পড়ে।লিভারের ওজনের চেয়ে সাধারণত ৫ থেকে ১০ ভাগ বেশি পরিমাণ চর্বি থাকে। এর চেয়ে বেশি যদি বাড়ে, তাহলে একে ফ্যাটি লিভার হিসেবে আমরা বলি।

কয়েকটি কারণে এটি বাড়ে। যাদের ওজন বেশি, ডায়াবেটিস রয়েছে, রক্তে চর্বি রয়েছে, কোলেস্টেরলের আধিক্য রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এ সমস্যা হয়। আবার কিছু ওষুধের কারণেও এটি হয়। সাধারণত এগুলো হলো প্রচলিত কারণ। মদ্যপান অবশ্যই একটি কারণ।

ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসা কী?

লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে যাওয়াকে ফ্যাটি লিভার ডিজিস বলে। অতিরিক্ত মদ্যপান, ডায়াবেটিস, বেশি ওজন, রক্তে চর্বি, কোলেস্টেরল ইত্যাদি ফ্যাটি লিভারের কারণ। জীবনযাপনের ধরন পরিবর্তন করে এ সমস্যার অনেকটাই সমাধান করা যায়।

ফ্যাটি লিভার চিকিৎসা করলে ভালো হয়। ফ্যাটি লিভার হওয়ার পর আমরা লিভারের কার্যক্রমগুলো দেখি। পাশাপাশি তার ডায়াবেটিস, রক্তের চর্বির পরিমাণ বা অন্যান্য কোলেস্টেরলের পরিমাণ দেখি। এ ছাড়া আরো কিছু পরীক্ষা রয়েছে- থাইরয়েডের কার্যক্রম এবং লিভারের কিছু পরীক্ষা, এগুলো করা হয়।

এরপর আমরা দেখার চেষ্টা করি এ সমস্যার কারণে লিভার কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদি তার লিভারের এনজাইমগুলো বেড়ে যায়, তখন বুঝতে হবে, তার ক্ষেত্রে এই ফ্যাটি লিভারের কারণে দীর্ঘমেয়াদি অসুখ হওয়া আশঙ্কা রয়েছে। তখন তার ক্ষেত্রে জীবনযাপনের ধরন পরিবর্তন করতে হবে এবং কিছু ওষুধ খেতে হবে। এখন পর্যন্ত যেই ওষুধগুলো ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে দেওয়া হয়, সেগুলো খুব বেশি কার্যকর বলে প্রমাণিত নয়। মূলত জীবনযাপনের ধরন পরিবর্তন করতে হবে, ওজন কমাতে হবে। 

আর যদি শুধু ফ্যাটি লিভার থাকে, পাশাপাশি লিভারের অন্যান্য কার্যক্রম যদি ভালো থাকে, যদি খুব বেশি স্থূলকায় না হোন, তাহলে শুধু একটু জীবনযাপনের ধরন পরিবর্তন করলে হয়। সুষম খাবার, কায়িক পরিশ্রম, নিয়মিত ব্যায়াম—এগুলো করলে তিনি ভালো থাকবেন। এর চেয়ে বেশি সতর্কতার প্রয়োজন নেই।

ফ্যাটি লিভারের সমস্যা কাদের বেশি হয়?
সাধারণত মাঝবয়সী ব্যক্তিরা এ ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিপ্রবণ। যদিও শিশুদের ক্ষেত্রে হতে পারে। তবে সাধারণত মাঝবয়সী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বেশি হয়।

আগেভাগে এটি রোধ করা যায় কি? 

সাধারণত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আলট্রাসনোগ্রাম করেই ফ্যাটি লিভারের রোগ নির্ণয় করা হয়। তবে সবাইকে আলট্রাসনোগ্রাম করে দেখা যে তার ফ্যাটি লিভার আছে কি না- এ রকম কোনো প্রস্তাবনা নেই।

তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে, যারা স্থূলকায় বা যাদের রক্তে চর্বি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি আলট্রাসনোগ্রাম করে দেখা দরকার।

এই অসুখের চিকিৎসা দুভাবে হয়। একটি হলো কারণের চিকিৎসা। যে কারণে তার ফ্যাটি লিভার হয়েছে, এই কারণগুলো যদি কোনোটি পাওয়া যায়, তার সঠিকভাবে চিকিৎসা করলে ঠিক হয়ে যায়। পাশাপাশি যদি তিনি জীবনযাপনের ধরন পরিবর্তন করেন, তাহলে তিনি একদম সুস্থ হয়ে যাবেন। এতে লিভারের চর্বিটা কমে আসবে। এর থেকে তিনি মুক্ত থাকবেন। তবে সচেতনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ মানতে হবে।

ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে পরামর্শ
সুস্থ থাকতে হলে আমাদের খাদ্যের অভ্যাসকে নিয়মের মধ্যে আনতে হবে। আমরা যে পরিমাণ খাবার খাই, সে অনুযায়ী যদি পরিশ্রম না করি, তাহলে যে বাড়তি কার্বোহাইড্রেটগুলো বা যেই শর্করা খাবারগুলো আমরা গ্রহণ করে থাকি, সেগুলো চর্বি হিসেবে শরীরে জমা হতে থাকবে। একপর্যায়ে এটি লিভারেও জমা হওয়ার কারণে ফ্যাটি লিভার হতে পারে। একটি হলো খাদ্যের অভ্যাস। আরেকটি হলো আমাদের জীবনযাপনের মধ্যে যদি আমরা ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি, পরিশ্রম- এগুলো কম করি, তাহলেও একই সমস্যা দেখা দিতে পারে। সুতরাং এ রকম হতে হবে যে আমরা একটি ব্যায়াম করব। ব্যায়াম করতে না পারলেও অন্তত একটু জোরে জোরে হাঁটার অভ্যাস করতে হবে।

পাশাপাশি আমাদের খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে একটি স্বাস্থ্যকর খাবার থাকতে হবে। অতিরিক্ত পরিমাণ মাংস, চর্বিযুক্ত খাবার এগুলো এড়িয়ে সুষম একটি খাদ্যাভ্যাস করতে হবে। যাদের নিয়মিতভাবে অতিরিক্ত মদ্যপানের অভ্যাস রয়েছে, সেটিও ত্যাগ করতে হবে।

ফ্যাটি লিভার থেকে হতে পারে ক্যানসার। একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, চর্বির কারণে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে। সব ফ্যাটি লিভারের রোগীরই যে দীর্ঘ মেয়াদে লিভারের প্রদাহ হবে, সেটি নয়। দেখা গেছে, যাদের ওজন বেশি বা ডায়াবেটিস আছে, তাদের প্রায় ৩০/৪০ ভাগের মধ্যে লিভারে চর্বির সমস্যা দেখা দেয়। তারা যদি এটি প্রতিকার না করেন বা প্রতিরোধ না করেন বা পরামর্শ না নিয়ে চলেন, তাদের মধ্যে একটি অংশ- প্রায় ১০/১৫ ভাগের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি লিভারের প্রদাহ দেখা দিতে পারে। এ থেকে লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যানসারও হতে পারে। এ কারণেই একটু বেশি সচেতনতার প্রয়োজন।

নি এম/
 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71