রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮
রবিবার, ৮ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভবনা
বগুড়ায় হলুদে সেজেছে ফসলের মাঠ
প্রকাশ: ০২:১৭ pm ২১-০১-২০১৭ হালনাগাদ: ০২:১৭ pm ২১-০১-২০১৭
 
 
 


বগুড়া প্রতিনিধি : কুয়াশার চাদরে মোড়ানো অপরুপ প্রকৃতি। বসন্তের আগমন অপেক্ষার প্রহর গুনছে।  প্রকৃতিকে জানান দিতে মাঠে মাঠে  শোভা পাচ্ছে হলুদের সমারোহ।

চোখ জুড়ানো এ দৃশ্য চোখের দৃষ্টি সীমাকেও গেছে ছাপিয়ে। সরিষার খেতে খেতে উড়ে  বেড়াচ্ছে রং-বেরংয়ের প্রজাপতি। ডানা ঝাপটে বসছে গাছের ডগায়। ডানা মেলে ইচ্ছে ঘুড়ির মতো গাছ থেকে গাছে ভেসে বেড়াচ্ছে ওরা। এছাড়াও দেখা মিলবে মৌমাছি, হলুদিয়া-নীলরঙা পাখিসহ নাম না জানা আরো অনেক পোকামাকড়।

এদের বসত সরিষার ক্ষেত জুড়ে। ফুলের পাতায় বা গোড়ায় ক্ষণিকের বিশ্রাম নেয় এরা। প্রজাপতি বা পোকামাকড়ের খাদকরা আশ-পাশে ঘাপটি মেরে বসে থাকে। ফিঙে ও শালিকের মত শিকারীদের উৎসব চলে খেতে খেতে। মাঝে মধ্যেই এসব শিকারীদের পেটে চলে যায় রঙিন প্রজাপতিসহ পোকামাকড়গুলো। হলুদ নিয়ে এতো সব কথা। এতো সব গল্প। এসবই যেন কোনো এক রাজ্যের রাজকুমারীর রূপকথার গল্প।

রাজকুমারীর গায়ে হলুদ মাখাতে এসেছে সেই রাজ্যের সব প্রজা। হুমড়ি খেয়ে প্রজারা পড়ছে হলুদের সম্রাজ্য ‘সরিষা খেতে’। রঙ নিচ্ছে আর রাজকুমারীর কাছে ছুটছে ওরা। কখনো দলবেঁধে আবার কখনো দলছুট হয়ে। সরিষা মনোমুগ্ধকর ঘ্রাণ মাতিয়ে দেবে সবাইকে।

এছাড়া দিনের আলোয় সরিষা  খেতে থাকে পর্যাপ্ত অক্সিজেন। সবমিলিয়ে সরিষার মৌ মৌ গন্ধ শহুরে জীবনের বিরক্তিকর ভাব অনেকটা ভুলিয়ে দেবে আপনাকে। একে বায়ু বিশুদ্ধকরণ ঘ্রাণ বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা।

আসন্ন বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে ও বাড়তি কিছু আয়ের আশায় চলতি রবি মৌসুমে নানান ধরনের চাষ করতে কৃষকেরা এখনও মাঠে রয়েছে। বিশেষ করে সরিষা চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। বিশেষ করে খন্ড খন্ড জমিতে লাগানো সরিষার হলুদ ফুলের অপরূপ দৃশ্য মাঠে প্রান্তরে সোভা পাচ্ছে। সরিষা একটি তৈল উৎপাদক দ্বি-বীজপত্রী উদ্ভিদ বা ফসল। প্রতি বছর মধ্য অক্টোবর থেকে মধ্য নভেম্বর পর্যন্ত মাসব্যাপী এ ফসলের চাষ চলে। প্রাপ্ত বয়স আসতে সময় লাগে ৭৫-১০০দিন।

বগুড়া জেলার ১২টি উপজেলায় কমবেশি জমিতে সরিষা চাষ করেছেন কৃষকরা। এরমধ্যে বগুড়া সদর, শেরপুর, ধুনট, নন্দীগ্রাম, শাজাহানপুর, সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও গাবতলী উপজেলায় কৃষকরা বেশি পরিমাণ জমিতে সরিষা লাগিয়েছেন। লাগানো সিংহভাগ খেতের সরিষা গাছে ফুল এসেছে। আবহাওয়া এ পর্যন্ত অনুকূলে থাকায় আবাদও বেশ ভাল হয়েছে। বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা ক্ষেত  খামার পরিচর্যায় বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। মাঠে-প্রান্তরে শোভা পাচ্ছে হলুদের অপরূপ দৃশ্য।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কার্যালয়ের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুর রহিম  জানান, চলতি মৌসুমে এ জেলায় ২৫ হাজার পাঁচশ’ ৫৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সরিষা চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে বারি-৯, ১৪ ও ১৫, টোরি-৭ ও সেতি জাতের সরিষা অন্যতম। তিনি আরও বলেন, জমিতে লাগানো সরিষা বর্তমানে তিন ধরনের অবস্থায় রয়েছে। এরমধ্যে ফুল, ফুল ঝড়া ও দানা গঠন।

কৃষক জাবেদ আলী, শহিদুল ইসলাম, গোলাম রব্বানী, মাজেদ আলী সহ একাধিক সরিষা চাষী জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সরিষার আবাদ ভালো হয়েছে। আবহাওয়া ভাল থাকলে ফলনও বেশ ভাল হবে বলেও তারা আশাবাদী। আর ভালো ফলন হলে উৎপাদন ব্যয় বাদে বিঘা প্রতি প্রায় ছয় হাজার টাকা লাভ হয়। তবে সবকিছুই নির্ভর করবে আবহাওয়া ও বাজার দরের ওপর-জানালেন চাষিরা।

অপরদিকে শেরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা খাজানুর রহমান জানান, এবছর  লক্ষ্য মাত্রার চেয়েও বেশী জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবছর সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে মনে করছে কৃষকেরা। স্থানীয় কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে  ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে চাষ হয়েছে ২০০০ হেক্টর জমিতে যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০০ হেক্টর বেশী। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার কৃষকেরা সরিষা চাষের পাশাপাশি রকমারি রবি ফসল চাষে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এ প্রসঙ্গে শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের শটিবাড়ী গ্রামের মোজাম্মেল, চোমরপাথালিয়া গ্রামের আলী আজগর, স্বরো গ্রামের সোহরাব আলী, ছোনকার জামাল উদ্দিন, মির্জাপুর ইউনিয়নের ভাদাইশ পাড়া গ্রামের আনিছার, সাধুবাড়ীর সহিদুল ইসলাম, রাজবাড়ী গ্রামের আয়নাল হক উচরং মান্নান সহ একাধিক সরিষা চাষী জানায় আসন্ন বোর মৌসুমের খরচ সংগ্রহ করতেই তার রবিশষ্য চাষে ঝুকে পড়েছে।

তাই অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশী পরিমান জমিতে সরিষা সহ রকমারী ফসল চাষ করছেন। রবিশষ্য শেষ হওয়ার সাথে সাথে আবার জমিতে বরো চাষ শুরু হবে। চাষিরা জানায়, সরিষা চাষের শুরু থেকে ঘরে তোলা পর্যন্ত বিঘা প্রতি তাদের খরচ হয় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। ফলন ভাল হলে উৎপাদন খরচ বাদে ৭-৮ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ থাকে। তবে বাজার ভাল থাকলে সরিষায় আরও বেশী মুনাফা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

তবে এবছর সরিষার জন্য আবহাওয়া বেশ অনুকুলে রয়েছে। রোগবালাই আক্রান্ত ছিল না বললেই চলে। সব মিলিয়ে এবছর সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এইবেলাডটকম/দীপক/এএস 
 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71