শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮
শনিবার, ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
বরিশালে মনোয়ারা বেগমের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন সাংসদ টিপু সুলতান
প্রকাশ: ০৭:২৯ pm ২০-০৯-২০১৭ হালনাগাদ: ০৭:২৯ pm ২০-০৯-২০১৭
 
বরিশাল প্রতিনিধি
 
 
 
 


পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত তিন পুত্র ও শিক্ষিকা মেয়ের অবহেলায় ভিক্ষার পথ বেছে নেওয়া অসুস্থ্য মা মনোয়ারা বেগমকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ টিপু সুলতানের উদ্যোগে সোমবার সন্ধ্যায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিপক কুমার রায় জানান, সংসদ সদস্যর নির্দেশনা পেয়ে তিনি অসুস্থ্য মনোয়ারা বেগমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। পাশাপাশি বৃদ্ধা মায়ের প্রতি অবহেলার কারণে তার দুইজন পুলিশ অফিসার ও একজন পুলিশ সদস্য পুত্র এবং শিক্ষিকা মেয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বরিশাল জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারের সাথে মঙ্গলবার সকালে যোগাযোগ করেছেন সাংসদ টিপু সুলতান। ইতোমধ্যে ভিক্ষুক মনোয়ারা বেগমের মেয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ভূতেরদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মরিয়ম সুলতানাকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকজ করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ টিপু সুলতান বলেন, বিভিন্ন অনলাইনে সোমবার এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর মুহুর্তের মধ্যে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর আমি খুবই ব্যথিত হয়েছি। তাই তাৎক্ষনিক উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে অসুস্থ্য মনোয়ারা বেগমকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দিয়েছি। তার উন্নত চিকিৎসাসহ সমস্ত ব্যয়ভার আমি বহন করবো। 

তিনি আরও বলেন, বৃদ্ধা মায়ের প্রতি অবহেলার কারণে পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত তিন পুত্র এবং শিক্ষিকা মেয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বরিশাল জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও ইউএনও’র সাথে কথা বলেছি।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক এসএম সিরাজুল ইসলাম জানান, অসুস্থ্য মনোয়ারা বেগম পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন। এছাড়া তার এক পায়ে ফ্যাকচার রয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।

মনোয়ারা বেগমের পুত্র ইজিবাইক চালক গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমি সামান্য আয়ের মানুষ। টাকার অভাবে মায়ের ভালো চিকিৎসা করাতে পারছি না। আমার তিন ভাই পুলিশ বাহিনীতে চাকরি করছেন। তারা তাদের স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে অন্যত্র থাকেন। তাদের বলেছি মায়ের ভরণপোষণের জন্য। তবে তারা মায়ের দিকে ফিরেও তাকায়নি। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছিল। তাতেও কোনো কাজ হয়নি।

বাবুগঞ্জ উপজেলার ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামের মৃত আইউব আলী সরদারের সত্তরোর্ধ্ব স্ত্রী মনোয়ারা বেগম। তার ছয় সন্তানের মধ্যে পুত্র ফারুক হোসেন ও নেছার উদ্দিন পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই), একপুত্র জসিম উদ্দিন পুলিশ সদস্য। অন্য দুই পুত্র শাহাবউদ্দিন ব্যবসা এবং গিয়াস উদ্দিন ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। মনোয়ারা বেগমের একমাত্র মেয়ে মরিয়ম সুলতানা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে মনোয়ারা বেগমের আরাম-আয়েশে দিন কাটানোর কথা থাকলেও ছেলে-মেয়েদের অবহেলার কারণে দুইমুঠো অন্ন যোগাতে ভিক্ষা করতে হয় বৃদ্ধা মনোয়ারা বেগমকে। একদিন ভিক্ষা না করলে তার ভাগ্যে খাবার জোটেনা। ২০১৪ সালে আইউব আলী সরদার মৃত্যুবরণ করেন। বয়সের ভারে অসুস্থতার কারণে ভিক্ষা করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে মনোয়ারা বেগমের। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ভিক্ষা করতে গিয়ে পা ফসকে পরে গিয়ে মারাত্মক আহত হন মনোয়ারা। সেই থেকে মনোয়ারা বাবুগঞ্জ সদরের স্টিল ব্রিজের পশ্চিম প্রান্তের একটি ঝুপড়ি ঘরে বিনা চিকিৎসায় অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছিলেন।


কেকেসি/আরপি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71