বৃহস্পতিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৯
বৃহঃস্পতিবার, ১১ই মাঘ ১৪২৫
 
 
বর্ষবরণে ছায়ানট এবার পদার্পণ করছে পঞ্চাশতম বছরে
প্রকাশ: ০৮:২০ pm ১৩-০৪-২০১৭ হালনাগাদ: ০৮:২০ pm ১৩-০৪-২০১৭
 
 
 


ঢাকা : বাংলা ১৩৭১ সালের পয়লা বৈশাখ রমনার বটমূলে ছায়ানট বাংলা নববর্ষ পালন শুরু করে।

কালক্রমে এই নববর্ষ পালন জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। নববর্ষ উদযাপন প্রথার প্রবর্তন করা রমনা বটমূলে ছায়ানট আয়োজিত বর্ষবরণের আয়োজনটি এবার পদার্পণ করছে পঞ্চাশতম বছরে।

১৯৬৭ সালে স্বাধিকারের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াসে শুরু হওয়া প্রভাতী অনুষ্ঠানটির ৫০ বছরকে স্মরণীয় করে রাখতে এরই মধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ এই সাংস্কৃতিক সংগঠনটি।

রমনার বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠানটিই দেশের অন্যতম বৈশাখী অনুষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারা চর্চা, ধারণ ও লালনে ছায়ানটের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষবরণে ছায়ানট বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে এ দিনটিকে করে তোলে উৎসবমুখর।

এবার পয়লা বৈশাখ ভোর ৬টা ১০ মিনিটে রাজরূপা চৌধুরীর সরোদের সুরে রমনা বটমূলে ছায়ানটের পঞ্চাশতম বর্ষবরণের সূচনা হবে। পঞ্চাশতম নববর্ষ উদযাপনকে একইসঙ্গে আনন্দপূর্ণ ও তাৎপর্যময় করতে আয়োজনে থাকছে লোকগানের পৃথক পর্ব। সব মিলিয়ে ঘণ্টা দুয়েকের গান ও পাঠাবৃত্তির মূল পর্ব শেষে পরিবেশিত হবে প্রান্তিক সংস্কৃতির কথা বলা ঘণ্টাব্যাপ্তির পালাগান।

নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে জাতীয় উৎসবে পরিণত হওয়া আয়োজনটি এ বছর দেড় ঘণ্টা বর্ধিত হয়ে চলবে প্রায় সকাল ১০টা পর্যন্ত। এ ছাড়া পুরো আয়োজনে ভেসে বেড়াবে পঞ্চকবির গান। গাওয়া হবে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অতুল প্রসাদ ও রজনীকান্ত সেনের গান। সেই সঙ্গে মানবিকতার আবাহনে গীত হবে বাউলসাধক লালন সাঁইয়ের গান।

১৪২৪ বঙ্গাব্দের বর্ষবরণে ছায়ানটের শিল্পী শিক্ষক ও শিক্ষার্থী শিল্পীদের কণ্ঠে পরিবেশিত হবে ১০টি সম্মেলক গান। একককণ্ঠে গাওয়া হবে ১৪টি গান। সব মিলিয়ে পরিবেশনায় অংশ নেবে ১৬০ কণ্ঠশিল্পী।

পয়লা বৈশাখ ভোর ৬টা ১০ মিনিটের সরোদিয়া রাজরূপা চৌধুরীর সরোদের সুরে ভোরের রাগালাপে শুরু হবে আপন সংস্কৃতির পথরেখা মেলে ধরা বটমূলের ৫০তম বর্ষবরণ। গাওয়া হবে ১৯৬৭ সালের প্রথম বর্ষবরণে পরিবেশিত ‘আলোকের এই ঝর্ণাধারায় ধুইয়ে দাও’ গানটি।

এ ছাড়াও বাঙালিত্বের গৌরবগাথার স্মারক এই নববর্ষের অনুষ্ঠানে সম্মেলক ও একককণ্ঠে গাওয়া হবে ‘আনন্দধ্বনি জাগাও গগনে’, ‘ওরে বিষম দরিয়ার ঢেউ’, ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’, ‘ভোরের হাওয়ায় এলে ঘুম ভাঙাতে’, ‘একি অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লী জননী’ ও ‘উদয়শিখরে জাগে মাভৈ মাভৈ’সহ মোট ২৪টি গান।

একককণ্ঠে গান শোনাবেন চন্দনা মজুমদার, খায়রুল আনাম শাকিল, মিতা হক, ইফফাত আরা দেওয়ান, মহিউজ্জামান চৌধুরী ময়না, নাসিমা শাহীন ফ্যান্সিসহ খ্যাতিমান শিল্পীরা। সুরের আশ্রয়ে মানুষের মাঝে মঙ্গলের বারতা ছড়ানো আয়োজনটিতে গানের সঙ্গে থাকবে কবিতার শিল্পিত উচ্চারণ। সব মিলিয়ে দুই ঘণ্টাব্যাপী চলবে গান ও পাঠাবৃত্তিতে সাজানো অনুষ্ঠানটি।

এরপর বৈশাখী শুভেচ্ছা কথনে মঞ্চে আসবেন ছায়ানট সভাপতি সনজীদা খাতুন। শুভেচ্ছা কথন শেষে খানিকটা বিরতি দিয়ে শুরু হবে বর্ষবরণের পঞ্চাশ বছর পূর্তির বিশেষ আয়োজন। বাংলার লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্যের আলোয় ‘দেওয়ানা মদিনা’ শীর্ষক পালাগান পরিবেশন করবেন নেত্রকোনার দিলু বাউল। এই বিশেষ আয়োজনের কারণে ছায়ানটের এবারের প্রভাতী বর্ষবরণ অনুষ্ঠান প্রায় দেড় ঘণ্টা দীর্ঘ হবে।

পয়লা বৈশাখের উৎসব আয়োজন ছাড়াও ছায়ানট পঁচিশে বৈশাখ, বাইশে শ্রাবণ, শারদোৎসব ও বসন্তোৎসব গুরুত্বের সঙ্গে পালন করে। রাজধানীবাসীর কাছে রমনার বটমূলে ছায়ানটের প্রভাতী অনুষ্ঠান আর পয়লা বৈশাখ উদযাপন এখন সমার্থক হয়ে উঠেছে।

এইবেলাডটকম /আরডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71