বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ৫ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
বাঁশের সাঁকো দিয়ে আর কত দিন ? 
প্রকাশ: ০২:৫৪ pm ২০-০৫-২০১৭ হালনাগাদ: ০২:৫৪ pm ২০-০৫-২০১৭
 
 
 


শরীয়তপুর: শরীয়তপুর সদর উপজেলার তুলাসার ইউনিয়নে ১২২ নং দক্ষিন গোয়ালদি মনাই সরদার কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

নরবরে একটি বাঁশের সাঁকো ও পাট ক্ষেতের আইলের মধ্য দিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আর কত দিন বিদ্যালয়ে আসতে হবে। বর্র্ষা শুরু হলে হয়তো শিক্ষার্থীরা আর বিদ্যালয়ে আসতে পারবে না। বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ সমুন্নত রাখতে দ্রুত পুল, কালর্ভাট ও রাস্তা নির্মাণের দাবী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর। 

স্থানীদের সাথে আলাপ কালে জানায়, দক্ষিন গোয়ালদি মনাই সরদার কান্দি গ্রামের কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল না। ১৫’শ বিদ্যালয় প্রকল্পের অধিনে ২০১২ সালে এই গ্রামে একটি বিদ্যালয়ের অনুমোদন হয়। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী মালেক সরদার সহ অনেকে বিদ্যালয়ের জন্য জমি দেয়। ভবনের নির্মাণ কাজ শেষে ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারী পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু বিদ্যালয় ও পাঠদান কার্যক্রম শুরু হলেও এ পর্যন্ত বিদ্যালয়ের সাথে সংযোগ রাস্তা ও খালের উপর কালর্ভাট সেতু হয়নি।

শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে স্থানীয়দের সহযোগিতায় জোড়াতালি দিয়ে খালের উপর বাঁশের সাঁকো দিয়েছি। আমাদের প্রানের দাবী বিদ্যালয়ের সংযোগ রাস্তা ও কালভার্ট সেতু। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন বিষয়টি আমলে নিয়ে কোমলমোতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন।বিদ্যালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছোবাহান বলেন, ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারী পাঠদান শুরু হয়। বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণী পর্যন্ত ৬৫ জন শিক্ষার্থী আছে। শিক্ষার্থীদের বয়স ৬ থেকে ৯ বছরের মধ্যে। ২ জন শিক্ষক মিলে ২ শিফর্টে পাঠদান দেই। সেক্ষেত্রে কোন সমস্যা নাই। প্রধান সমস্যা হলো যাতায়াত ব্যবস্থা নিয়ে।

শিক্ষার্থীরা একটি বাঁশের সাঁকো, একটি নড়বরে কাঠের পুল ও ক্ষেতের আইল দিয়ে বিদ্যালয়ে আসে।বৃষ্টি হলেই শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার কমে যায়। বর্ষা হলে জমির আইল পানিতে ডুবে যাবে তখন ঝুঁকি নিয়ে অভিভাবকগন সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাবে না। কারণ শিক্ষার্থীদের অনেকেই সাতার জানে না। শিক্ষার মান সমুন্নত রাখতে বিদ্যালয়ের সাথে সংযোগ রাস্তা ও সেতু করা দরকার।পাট ক্ষেতের আইল দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সময় আলাপ হয় শিক্ষার্থীদের সাথে। তখন তারা জানায়, এতদিন পাট ছোট ছিল একাও বিদ্যালয়ে আসতে অসুবিধা হতো না।এখন পাট বড় হওয়ায় ভয় পাই। তাই দলবেঁধে এক সাথে বিদ্যালয়ে আসি। যারা সাঁতার জানে তাদের সহযোগীতায় একসাথে সাঁতার না জানা শিক্ষার্থীরা পাড় হয়। পাট ক্ষেতে পানি আসলে আর বিদ্যালয়ে আসতে পারবো না। আমরা আর কত দিন বাশেঁর সাঁকো ও ক্ষেতের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ে আসবো ?  

অভিভাবকগণ জানায়, বর্ষার শুরু হওয়ার আগে যত দিন সম্ভব শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাবে। বর্ষার ৬ মাস ঝুঁকি নিয়ে তাদের সন্তানদের আর বিদ্যালয়ে পাঠাবে না।তুলাসার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম ফকির বলেন, বিদ্যালয়টি সুন্দর ভাবে পরিচালনা করার জন্য দুটি সেতু একান্ত প্রয়োজন। এ সেতু পাওয়ার জন্য উপজেলা পরিষদ সমন্বয় কমিটির সভায় রেজুলেশন আকারে প্রস্তাব এনেছি। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে উপজেলা পরিষদ যত দ্রুত সম্ভব সমস্যা সমাধান করবে বলে আশ^স্ত করেছে।

এইবেলাডটকম/ সৈকত/এবি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71