বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বুধবার, ১১ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস রিপোর্ট
বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে দেখছে বিশ্বব্যাংক
প্রকাশ: ০৭:৩৫ pm ১২-০১-২০১৮ হালনাগাদ: ০৭:৩৭ pm ১২-০১-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশের মতো দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তান ও নেপাল একই ঝুঁকিতে রয়েছে। 

বিশ্ব অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি নিয়ে 'গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস' নামে বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক প্রকাশনায় এমন পর্যবেক্ষণ রয়েছে। রিপোর্টটি মঙ্গলবার রাতে ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত হয়। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতাই যে বাংলাদেশের অর্থনীতির একমাত্র অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি, তা নয়। আর্থিক খাতে যথাযথ সংস্কার না আনতে পারার ঝুঁকিও অন্যতম।

প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের এ প্রাক্কলন সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম। চলতি অর্থবছরে সরকারের ৭ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। অবশ্য পরিসংখ্যান ব্যুরোর এ হিসাব নিয়ে বিশ্বব্যাংকের এক ধরনের সংশয় রয়েছে। 

বিশ্বব্যাংক বলেছিল, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে।

বিশ্বব্যাংক কেন ২০১৬-১৭ অর্থবছরের চেয়ে এত কম প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করছে- জানতে চাইলে সংস্থাটির ঢাকা অফিসের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন সে আলোচনায় যাওয়ার আগেই একটি পরিসংখ্যান দেন। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের এ রিপোর্টে ১৩৪টি দেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে প্রাক্কলন করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৭টি দেশ ২০১৮ সালে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বা তার বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলা হয়েছে। এর মানে বাংলাদেশ বিশ্বের ১৭টি দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির একটি।

জাহিদ হোসেন মনে করেন, মূলত চার কারণে গতবারের প্রবৃদ্ধি ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য যে পরিবেশ প্রয়োজন ছিল, তার পর্যাপ্ত ঘাটতি রয়েছে। প্রথমত, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যে অনিশ্চয়তা রয়েছে, তা বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকে প্রভাবিত করবে। দ্বিতীয়ত, আর্থিক খাতে ভঙ্গুর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তৃতীয়ত, অবকাঠামো খাতের যেসব প্রকল্প ব্যক্তি বিনিয়োগকে উজ্জীবিত করতে পারত, সেগুলো বাস্তবায়নে ধীরগতি রয়েছে। চতুর্থত, নির্বাচনের কারণে অর্থনীতিকেন্দ্রিক সংস্কার ত্বরান্বিত হওয়ার আশা কম। 

বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশে এবার বাজেট ঘাটতি বাড়তে পারে। একেও অন্যতম ঝুঁকি হিসেবে দেখছে বিশ্বব্যাংক। এ প্রসঙ্গে জাহিদ হোসেন বলেন, এবার নির্বাচনের বছরে সরকারের খরচ বাড়বে। ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন না হওয়ায় রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হবে। খাদ্য আমদানি ও রোহিঙ্গা সংকটের মতো অপ্রত্যাশিত কারণেও ব্যয় বাড়বে। ফলে বাজেট ঘাটতি চলতি অর্থবছরে জিডিপির ৫ শতাংশের বেশি হতে পারে। 

বৈশ্বিক পরিস্থিতি :বিশ্বব্যাংক বলেছে, আগের বছরে বিশ্ব অর্থনীতি প্রত্যাশার তুলনায় ভালো করেছে। ২০১৮ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। বিনিয়োগ, উৎপাদন ও রফতানিতে নতুন বছরে পুনরুদ্ধার অব্যাহত থাকবে। তবে এ অবস্থা স্বল্প মেয়াদে থাকতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা কমে যেতে পারে, যা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে ২০১৮ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় ৬ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে। 


আরপি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71