মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯
মঙ্গলবার, ১০ই বৈশাখ ১৪২৬
সর্বশেষ
 
 
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও মোকাবেলার উপায়
প্রকাশ: ১০:১০ pm ০৮-১০-২০১৮ হালনাগাদ: ১০:১০ pm ০৮-১০-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহান মজুমদার

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব- বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত চিন্তার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের নানাবিধ সমস্যায় ফেলে দিচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ এ আরো কঠিন পরিস্থিতি সম্মুখীন হতে হবে। আমরা জানি গ্রীন হাউজ ইপেক্ট অত্যন্ত ক্ষতিকর একটা বিষয়। বাংলাদেশের বেশিরভাগ দিকে সাগর এবং নদী বিদ্যমান বর্তমানে এই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অসময়ে অনাবৃষ্টি, বৃষ্টি, ঘুর্ণিঝড়সহ অতি গরম আবহাওয়া তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশ সমুদ্রপৃষ্ঠ এর কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। যখন আমাদের আবহাওয়া উত্তপ্ত হবে তখন সমুদ্রের পানি আস্তে আস্তে উপরের দিকে উঠতে থাকবে। যার ফলে বাংলাদেশের অনেক এলাকা প্লাবিত হতে পারে সবছেড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে  আমাদের উপকূলীয় এলাকা এবং সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারসহ অনন্য এলাকা। দিন দিন পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে অতিবাহিত হতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই জনসংখ্যার জন্য আমরা কৃষি জমিতে বাড়িঘর নির্মাণ করার কারণে কৃষি জমি হ্রাস পাচ্ছে। ফলে গাছগাছালি কেটে ফেলতে হচ্ছে। গাছ হতে আমরা যে অক্সিজেন পাই তা দিন দিন কমে যাচ্ছে। নাইটোজেন বাড়ছে। যার ফলে বাতাস দৃষিত বাংয়ু প্রভাবিত হচ্ছে। বাংলাদেশ দিন দিন উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এই কারণ শিল্প কারখানা স্থাপন করতে হচ্ছে। এই শিল্প এর কারখানা স্থাপনের কারণে আমাদের কৃষি জমি কমে যাচ্ছে। গাছপালা কেটে ফেলা হচ্ছে। গাছপালা কেটে ফেলার কারণে দিন দিন অক্সিজেন পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে ওজন স্থর হ্রাস পাচ্ছে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ইটভাটার পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই ইট ভাটার কালো ধূয়া পরিবেশকে মারাত্মক ক্ষতির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। এর প্রভাব আমাদের শ্বাস কষ্টসহ শরীরের এলার্জিগত সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। নানা ধরনের রোগ ব্যাধি বেড়ে যাচ্ছে দিন দিন। আমাদের কল কারখানার বর্জ্য গুলি বর্তমানে নদীতে চলে যাচ্ছে। নদীতে চলে যাওয়ার কারণে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। আবার এই পানি আমরা ব্যবহারের কারণে শরীরে নানা ধরণের রোগ ব্যাধি শুরু হচ্ছে। আমরা জল বলতে পানিকে বুঝি, আর বায়ু বলতে বাতাসকে বুঝি। জলের সাথে বাতাসের অসাধারণ মিল রয়েছে।
বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বিশ্বের উন্নত দেশ গুলো এক হতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের এখনো জলবায়ুর পরিবর্তন ব্যাপক আকার ধারণ করে নাই,তবে আমরা যদি এখনই এর উত্তরণের জন্য সচেষ্ট না হয়ে সামনে অনেক বড় পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের যে প্রভাব পড়ছে,তা নিম্নরুপ:

ইটভাটার জন্য বালু উত্তোলনের কারণে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষি জমি কমে যাওয়া, কার্বন ডাই অক্স্রাইড বেড়ে যাওয়া,পলিতিন এবং অন্যান্য বর্জ্য, শিল্পকারখানার বর্জ্র,বনজ কমে যাওয়া, পশু পাখি কমে যাওয়া, বনাঞ্চল কমে যাওয়া, বিল্ডিং বেড়ে যাওয়া কৃষি জমি কমে যাচ্ছে, ওজন লেয়ার সিআর গ্যাস বেশি হওয়া, প্লাষ্টিক বর্জ্য গুলি সহজে পচে না। এগুলো আমাদের নদীগুলোর মাঝে মিলে যাওয়ার কারণে মাছ মরে যাচ্ছে।

এইগুলো মাটিতে মিলে যাওয়ার কারণে আমাদের ফসল গুলি ঠিক মত অক্সিজেন পাচ্ছে না। যার ফলে গাছ ঠিক মত বেড়ে উঠতে পারছে না। কৃত্রিম সার ব্যবহার করার কারণে আমাদের উবর্রতা সাময়িক বাড়লেও উর্রবতা কমে যাচ্ছে। আগে আমরা জৈব সার ব্যবহার করার কারণে আমাদের জমিগুলো উর্বর থাকতো। আমরা কৃত্রিম সার ব্যবহার করার কারণে সাময়িকভাবে উপকার পেলেও জমির উবরর্তা ঠিকই হ্রাস পাচ্ছে। নদী নালা ভরাট করে আমরা এখন বেশি করে। যার ফলে পানির প্রবাহ কমে যাচ্ছে। যার ফলে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে নদী ভাঙ্গন ব্যাপক আকার ধারণ করছে। শরীয়তপুরে অনেক এলাকা ভেঙ্গে যাচ্ছে। যার কারণে পানির সঠিক প্রবাহ স্থির হতে পারছে না। কারণ বিভিন্ন দেশ এখন বড় বড় ব্যারেজ নির্মাণ করে পানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পানি ধরে রাখাসহ বিভিন্ন পরিবেশ মূলক কাজ করছে। দিনে দিনে নদীর ভাঙ্গন বাড়ছে। আমরা লেকগুলোর উপরে বাড়ি ঘর নির্মাণ করছি। যার ফলে ঐ এলাকার বায়ু অত্যন্ত গরম হয়ে যাচ্ছে। ঠান্ডা বাতাস পাচ্ছি না। এই জন্য গরমের কারণে এসি ব্যবহার করা লাগছে। তাই এই জমির বাতাস আমাদের শরীরে বিভিন্ন এলার্জি জনিত রোগ বালাই তৈরি হচ্ছে।

ট্যানারী বর্জ্য পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। যার ফলে পানি দূষিত হচ্ছে যার ফলে মানুষ এই পানিতে গোসল করার কারণে শরীরের বিভিন্ন চর্মরোগসহ ডায়রিয়া এবং আমাশয় জনিত রোগ ভুগতেছে।
উত্তরণের উপায়-

বাংলাদেশে বর্তমানে কৃষি জমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। যার ফলে গাছগাছালি কমে যাচ্ছে। গাছ না থাকার কারলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে বায়ু উত্তপ্ত হচ্ছে। তাই আমাদের বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় বেশি করে বনাঞ্চল বাড়াতে হবে এবং অল্প জায়গা ব্যবহার এবং বহুতল বিল্ডিং এবং শিল্পকারখানা স্থাপন করতে হবে। যাতে পরিবেশের কোন ক্ষতি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। শিল্পকারখানার বর্জ্য পরিশোধন করে তা নির্দিষ্ট স্থানে জমা রাখতে হবে এবং এই বর্জ্য থেকে রিসাইকেলিং করে কিভাবে অন্যকাজে লাগানো যায় এবং নতুন নতুন উদ্ভাবন প্রযুক্তি কাজে লাগাতে হবে।
কল কারখানার কালো ধূয়া পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে। তাই এখন থেকে গ্রীন ফ্যাক্টরির উদ্যোগ নিতে হবে। যাতে করে পরিবেশের কোন ক্ষতি না হয়।

প্লাষ্টিক জাতীয় বর্জ্য এবং পলিতিনের ব্যবহার কমাতে হবে। এই প্লাষ্টিক জাতীয় বর্জ্য সহজে নষ্ট হয় না,যার কারণে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে হবে। সৌর বিদ্যুৎ পরিবেশের কোন ক্ষতি করে না।

ট্যানারী বর্জ্য পরিশোধনের ব্যবস্থা করতে হবে। ট্যানারীর বর্জ্য যাতে করে খাল-বিল নদী-নালায় না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ট্যানারী বর্জ্য খাল-বিল নদী নালায় চলে গেলে নানান রোগ-ব্যাধি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ট্যানারীর বর্জ্য পরিশোধন করে ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে হবে।

শিল্প কল কারখানা করতে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন কৃষি জমি নষ্ট না হয়। অল্প জায়গা ব্যবহার করে শিল্পকারখানা তৈরি করতে হবে। শিল্পকারখানার আশেপাশে গাছগাছালি লাগানো বা থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষি জমি ধ্বংস না করে বহুতল বিল্ডিং নির্মাণ করতে হবে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধি দেশের জন্য এক বিরাট সমস্যা। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে চাহিদা বেড়ে যায়। তাই জনসংখ্যার বৃদ্ধির কারণে আলাদা বাসা বাড়ি করতে হবে। যার ফলে কৃষি জমি কমে যায়, অধিক সন্তান না নিয়ে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে জনসংখ্যা বৃদ্ধি যেন না হয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

নি এম/

ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহান মজুমদার,
প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর (রিনিয়েবল এনার্জি)-এশিয়ান এইজ এন্টারপ্রাইজ লি:,গুলশান,ঢাকা।

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71