মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ৬ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের কূটনৈতিক রীতি লঙ্ঘন
প্রকাশ: ০১:৫৫ pm ০৫-০৩-২০১৮ হালনাগাদ: ০১:৫৫ pm ০৫-০৩-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


যেকোনো দেশে কাজের শুরুতে এবং বিদায় নেওয়ার আগে সে দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে দেখা করাটা রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনারের দায়িত্বের অংশ। সে অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতের সময়সূচি ঠিক হয়েছিল চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত মা মিংকিয়াংয়ের। হুট করে কাউকে না জানিয়ে মা মিংকিয়াং বেইজিং চলে যান। বেশ কয়েকবার এ নিয়ে জানতে চাইলেও সদুত্তর দেয়নি চীন। সব মিলিয়ে এভাবে চলে যাওয়ায় বেশ বিরক্ত বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কাছে এ নিয়ে জানতে চাইলে তাঁরা জানান, গত ৯ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ ঠিক করা হয়েছিল। ওই সাক্ষাতের দুই দিন আগে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চীনা দূতাবাসে যোগাযোগ করে জানা যায়, ঢাকায় নেই মা মিংকিয়াং। কবে ফিরবেন, সেটাও জানাতে পারছে না চীনা দূতাবাস। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ বাতিলের জন্য চীনকে ই-মেইল দিতে বলা হয়। ই-মেইলে দূতাবাস জানায়, এ মুহূর্তে বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ঢাকায় নেই। ৮ জানুয়ারি ওই ই-মেইল পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎটি বাতিল করা হয়।

১৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গেও বিদায়ী সাক্ষাতের সময় ঠিক হয়েছিল। সেটির কী হলো—জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দূরপ্রাচ্য অনুবিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ বাতিলের পর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎকারটি বাতিলের জন্য বঙ্গভবনে চিঠি পাঠানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বঙ্গভবনে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘অনিবার্য কারণে’ সৌজন্য সাক্ষাৎটি বাতিলের অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতের আগে আমাদের জানা ছিল না যে মা মিংকিয়াং ঢাকায় নেই। এমনকি বারবার জিজ্ঞেস করার পরও চীনা দূতাবাস থেকে জানা যায়নি, তিনি এখন কোথায়, আদৌ ফিরবেন কি না। এমন এক অনিশ্চয়তার পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎটি বাতিল করাই যৌক্তিক মনে হয়েছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের আগে পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে মা মিংকিয়াংয়ের একটি মধ্যাহ্নভোজও ৪ জানুয়ারি বাতিল হয়েছিল।

এখানে বলে রাখা ভালো, বেইজিংয়ে বার্ষিক দূত সম্মেলনে যোগ দিতে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় ভাগে বেইজিং যান মা মিংকিয়াং। চীনা দূতাবাস থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জানানো হয় যে তিনি ভিয়েতনামে রাষ্ট্রদূত হিসেবে বদলি হয়েছেন। তাই রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতের সময়সূচি ঠিক করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানায় চীনা দূতাবাস। সেই অনুযায়ী বিদায়ী সাক্ষাতের সময়সূচি ঠিক করে দূতাবাসকে জানিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে দুই বিদায়ী সাক্ষাৎ বাতিলের পর চীনের একাধিক কূটনীতিকের কাছে বাংলাদেশের কূটনীতিকেরা মা মিংকিয়াং আদৌ ফিরবেন কি না, সেটা জানতে চান। একপর্যায়ে দূতাবাস থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়, তিনি হুট করে চলে গেছেন, আর আসছেন না। এরপর চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের জিনিসপত্র নেওয়া হয়েছে কি না, খোঁজ নিয়ে মন্ত্রণালয় জানতে পারে, ডিসেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর ঢাকা ছাড়ার পরপর মালপত্রও নেওয়া হয়েছে।

কূটনৈতিক রীতিনীতি লঙ্ঘন করে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত মা মিংকিয়াংয়ের চলে যাওয়াটা যে বাংলাদেশ ভালোভাবে নেয়নি, সেটি বেইজিংকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত ২৩ জানুয়ারি পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে দেখা করেছিলেন চীনের তখনকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত চেন ওয়েই। ওই সময় চীনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্রসচিব জানান, এভাবে বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের না বলে চলে যাওয়া ঠিক হয়নি। এ ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি না হলে ভালো হতো।

তবে চীনা দূতাবাসের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, মা মিংকিয়াং ১৪ ডিসেম্বর আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন। ২১ ডিসেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন। কিন্তু এরপর তাঁর বিষয়ে আর কোনো কিছু লেখা নেই।

চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের না বলে চলে যাওয়ার বিষয়ে চীনা দূতাবাসের কাছে জানতে চাওয়া হয়। এ নিয়ে দূতাবাসের রাজনৈতিক শাখার এক কূটনীতিকের কাছে মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের না বলে চলে যাওয়াটা ‘শিষ্টাচারবহির্ভূত’ কাজ হয়েছে বলে মনে করেন সাবেক পররাষ্ট্রসচিব মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি গতকাল রোববার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, চীনের অনুরোধ অনুযায়ী সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়সূচি ঠিক করা হয়েছিল। কাজেই চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত যে ঢাকায় নেই, সেটি দূতাবাসের মন্ত্রণালয়কে জানানো উচিত ছিল। তবে সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক এই প্রতিবেদককে বলেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ নিয়ে যা হয়েছে, অন্য কোথাও হলে যথেষ্ট ঝামেলার সৃষ্টি হতো। দেখা যেত দেশটির পরবর্তী রাষ্ট্রদূতের সেখানে সাক্ষাৎকারের জন্য বেগ পেতে হচ্ছে।

প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71