বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ৫ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের চিত্র
প্রকাশ: ০৪:০৮ pm ০৯-০৭-২০১৭ হালনাগাদ: ০৪:১১ pm ০৯-০৭-২০১৭
 
 
 


নবীন লেখক ও সাংবাদিকঃ রাজিব শর্মা : আমি আজ হতাশ, খুব্ধ আর রাগান্বিত আমার শ্রদ্ধেয় মৃত দাদার উপর। কারণ, শুধু তার জন্য আজ আমাদের পরিবার এই দেশে এখনো বসবাস করছে।

যুদ্ধের সময় একবার, আর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দুই বার আমার দাদার বাড়ি ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। এর কারণ একটাই আমরা হিন্দু, সংখ্যালঘু, মালাউন আরও কতো কি? এমনিভাবে দুঃখ আর ক্ষোভ প্রকাশ করলেন নির্যাতিত সুমন নামের এক যুবক। সুমনের মতো এরকম মনের মধ্যে রাগ আর ক্ষোভ নিয়ে বয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকেই। তাদের বুক ফাটছে তবু মুখ ফোটছে না।

আমাদের সমাজে একটা রীতি প্রচলিত আছে, দুর্বলকে কখনো আঘাত করতে নেই। কিন্তু বাস্তবে হচ্ছে তার উলটো। যে দুর্বল তাকেই কেবল আঘাত করা যায়, সবলকে নয়। আবার প্রচলিত আছে, হিন্দু মানে আওয়ামী লীগ, হিন্দু মানে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে লালিত।

বাংলাদেশে এরকম একটা নেতিবাচক ধ্যান-ধারণা আগে থেকেই মানুষের মধ্যে গলধঃকরণ করা হয়েছে। আর এর প্রায়শ্চিত্ত ভোগ করতে হচ্ছে নিরীহ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের। কিন্তু আমরা বাস্তবতার পেক্ষাপটে যদি বলি তাহলে বলব হিন্দু মানে শুধু আওয়ামী লীগ না হিন্দু মানে বিএনপিও আবার জাতীয় পার্টিও বটে। কিন্তু বাস্তবে কে শুনে ধর্মের কথা। এর প্রকৃত উদাহরণ হাজারাইলের ঋষি পাড়ার খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষেরা। যেখানে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার কারণে স্বামী ও শ্বশুরকে বেধে রেখে চোখের সামনেই ধর্ষণ করেছে সদ্য বিবাহিত বউকে। শাশুড়ি ধর্মের বাপ ডেকেও বাচাতে পারে নাই ছেলের বউকে। ঠিক একই কায়দায় আরেক পরিবারের ছেলে ও বাবাকে বেধে রেখে ধর্ষণ করা হয় শাশুড়ি আর বউকে। এটা কি কোনো সভ্য সমাজের মানুষের পক্ষে সম্ভব?

মনে হয় তারা আদিম যুগের মানুষ। যে যুগে মানুষ গুহায় থাকতো, কালচার বলে তাদের মধ্যে কিছু ছিল না। উলঙ্গভাবে জীবিকা
নির্বাহ করতো। আর লিপ্ত থাকতো নানা বর্বরতামূলক কর্মকাণ্ডে। তাই বলছি, যারা স্বামী আর শ্বশুরের সামনে বউকে ধর্ষণ করে এবং তাকে নিয়ে রং তামাসায় মেতে উঠে তারা ছদ্মবেশী মানুষরুপী নরপিশাচ। ধিক এই মানুষগুলিকে !

আর কাঁন্দিস না মা, আমার কথা শোন, তুই তোর হাতের শাঁখা খুলে ফেল, মুছে ফেল তোর সিঁথুর সিঁধুর। মা-কালির শেষ-কৃত্য দেখে-দেখে, শেষে আমাদের শেষ-কৃত্য ডেকে আনবি নাকি? চল মা, তোর ভগবান পুড়ছে, পুড়ুক এই চন্দ্রমুগ্ধ মূর্খের উল্লাস থেমে গেলে একাত্তরের মতো আবারও আমরা ফিরে আসব আমাদের অগ্নিশুদ্ধ ঘরে।

প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় চার লাখ হিন্দু অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র পাশবর্তী দেশ ভারত, নেপাল, ভুটানসহ বিভিন্ন দেশগুলোতে চলে যাচ্ছে। যারা যাচ্ছে তারা আর কোনোদিন ফিরে আসছে না এদেশে। কিন্তু কেন, ভারত কিংবা নেপাল থেকে তো কোনো হিন্দু কিংবা মুসলমান এদেশে বসবাস করতে আসছে না। তাহলে তাদের দেশে কি অত্যাচার হয় না। তাদের দেশেও অত্যাচার হয় কিন্তু বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার মতো না। ভারতে দেখা গেছে, ট্রেন চলছে এই চলন্ত ট্রেন থামিয়ে নামাজ পড়তে দেওয়া হয় মুসলমানদেরকে।

আর বাংলাদেশে হিন্দুরা আজানের সময় হলে তাদের বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখে। যাতে মুসলমানদের নামাজের কিংবা আজানের কোনো সমস্যা না হয়। আর এরই নাম মহানুভবতা।

বাংলাদেশে হিন্দুদের বলা হয় সংখ্যালঘু, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সংখ্যালঘু আর সংখ্যাগুরু বলে কি কোনো কথা আছে। আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় আমরা বাঙ্গালী। এখানে হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নাই।

কবিও বলেছেন- কালো আর ধলো বাহিরে কেবল, ভিতরে সবারই সমান রাঙা। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আজকাল ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন, যারা সংখ্যালঘুদের উপর নির্বিচারে নির্যাতন চালিয়েছে তাদের হেন করবো, তেন করবো।
 

সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের বিচার করবো। আর জয়ের মুরিদেরা সেটা ফলাও করে প্রচার করছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো,
সংখ্যালঘুদের উপ্র নির্যাতনে যদি জয় এতই মর্মাহত হয়ে থাকেন তাহলে কেনো তিনি নিপীড়িত, নির্যাতিত আর অসহায় মানুষদের দেখতে যান নি। তার একটাই কারণ তিনি সেটা মন থেকে উপলব্দি করছেন না। আর তাই-

কি যাতনা বিষে বুজিবে সে কিসে? কভু আশীবিষে দংশেনি যারে। এদিকে, খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গলা ফাটিয়ে বলে বেড়াচ্ছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার কারণে এক শ্রেণির দুষ্কৃতিকারী তাদের উপর নির্যাতন করেছে। প্রধানমন্ত্রী গলা ফাটিয়ে বলতে পারেন অথচ তিনি তাদেরকে এখনো পর্যন্ত একটা শান্তনা বার্তাও পাঠান নি। এটা নির্যাতিতাদের প্রতি ওনার কেমন ভালবাসা। সত্যিকার অর্থেই কি ওনার ভালবাসা বলা যায় নাকি হিন্দুদের সামনে রেখে তিনি তার কর্তব্য হাসিল করছেন। খোদ প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের বড় বড় রুই, কাতলা, বোয়ালরা শুধু বিএনপি জামায়াত-শিবিরকে একনাগারে দায়ী করে আসছে। আসলেই কী বিএনপি জামায়াত-শিবির এই কর্মকাণ্ড করেছে নাকি ছদ্মবেশী আওয়ামী লীগের বড় বড় রুই, কাতলা কিংবা বোয়ালরা করেছে তা অবিলম্বে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

সারাদেশে যে বিষয়টা এখন সবার মুখে মুখে সে বিষয়টা নিয়েই ওনার কোনো মাথাব্যাথা নেই। যে বিষয়টা নিয়ে সারাদেশ জুড়ে মানুষ বিক্ষোভ, মিছিল, সমাবেশ আর মানববন্ধনে ব্যস্ত সেই বিষয়টা নিয়েই প্রধানমন্ত্রী কর্ণপাত করছেন না। কুড়িগ্রামে হয়ে গেল ৬০০০ মানুষের একটি বিক্ষোভ ও কালোপতাকা মিছিল।

৬০০০ জন হিন্দুর স্লোগানে কেপে উঠেছিল পুরো কুড়িগ্রাম শহর। এরপর সোমবার প্রেসক্লাবে হিন্দুদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয়ের দাবিতে মানববন্ধন করেছে একটি সংগঠন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বুধবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ প্রতিহতে আলাদা একটি মন্ত্রণালয়ের দাবি জানিয়েছিলেন।

দুপুর ১২ টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে এক কর্মসূচি পালন করে বিভিন্ন পেশা-শ্রেণির মানুষ। এছাড়াও ঐ সোমবার দেশের
বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, মিছিল ও মানববন্ধন পালন করা হয়েছে। তাই সুরঞ্জিত কিংবা বিভিন্ন সংগঠনের মতো আমাদেরও একটাই দাবি হিন্দুদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় করা হোক। আর সেজন্য দরকার জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা।

 

শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছেন, সবাইকে বাসরে ভাল, নইলে তোর মনের কালি ঘুছবে না। তাই আসুন, আমরা সবাই জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হাতে হাত, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সামনে এগিয়ে যাই আর দুষ্কৃতিকারী, লম্পট নরপিশাচদের খুঁজে বের করে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাই।thenewse.

এইবেলাডটকম /নিএম

 

 

 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71