বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৩০শে কার্তিক ১৪২৫
 
 
বাংলাদেশ কি জানবে অর্ঘ্য বিশ্বাস কে ছিল?
প্রকাশ: ১১:৫৪ am ১৮-১১-২০১৭ হালনাগাদ: ১১:৫৫ am ১৮-১১-২০১৭
 
বাকী বিল্লাহ
 
 
 
 


“তোমার মেরুদণ্ডহীন সিস্টেমের কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানলাম। বোকার মতো শিরদাঁড়াটা সোজা রেখে জীবনটা পার করার যে জেদ ছিল সেটা তোমার মেরুদণ্ডহীনতার তন্ত্রে হার মেনে গেল। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি থেকে এবং সিজিপিএ’র জন্য পড়াশোনা করে মেধাবী তকমা পাওয়া কিংবা দুর্ঘটনায় বা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর পর মিডিয়ার প্রচারের স্বার্থে মেধাবী খেতাব নেওয়ার কোন ইচ্ছা ছিল না। শুধু শুধু গাধার মতো কোন ইস্যু পেলে চেঁচিয়ে বারবার তোমার মেরুদণ্ডহীনতা বোঝানো ছাড়া বোধ হয় আমি আর কিছু পারতাম না।”

অর্ঘ্য বিশ্বাসের নামটি আমরা জানতে পারলাম ওর মৃত্যর পর। মফস্বলের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর নাম জানা থাকার কথাও নয় আমাদের। অর্ঘ্য বিশ্বাসের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দুইটা বিশেষ কারণে আমার মাথায় ছিল। এক. পত্রিকার পাতায় দেখেছিলাম-ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনে একটি বিউটি পার্লার আছে, দিনের একাংশে স্বয়ং ভিসি সাহেব পার্লারের আয়-ব্যয়ের খতিয়ান অর্থাৎ একাউন্টস দেখেন। ব্যাপারটি কৌতুহলদ্দীপক, তাই ভুলিনি। দুই. কয়েক মাস আগে ময়মনসিংহের ফুলপুর থেকে একজন স্কুল শিক্ষক আমাকে ফোন করেন। ভদ্রলোক খুবই বিপর্যস্ত ছিলেন। তার ছেলেটি বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল। ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে অপেক্ষমানদের তালিকায় ছিল তার নাম, ওখান থেকে পরবর্তীতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায় সে। ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তার ক্লাস শুরু হয়। মাসখানেক ক্লাস করার পর একদিন কর্তৃপক্ষ ছেলেটিকে ডেকে পাঠায় এবং তাকে জানায় যে তার ভর্তি বাতিল করা হচ্ছে। কারণ জানতে চাইলে কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা তারা দেয় না। ছেলেটি ভেঙে পড়ে, ভিসির রুমের সামনে গিয়ে কান্নাকাটি করে। এটাই ছিল তার শেষ সেশন, এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আর কোনও সুযোগ সে পাবে না-এমনকি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ‍সুযোগও তার সামনে অবশিষ্ট নেই। এ অবস্থায় নাছোড়বান্দার মতো ছেলেটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পেছনে লেগে থাকে। এক পর্যায়ে তাকে জানানো হয় যে তার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে-এ কথা বলে কৌশলে তার ভর্তিসংক্রান্ত কাগজপত্র তারা নিয়ে নেয়। পরে দেখা যায়, ছেলেটির ভর্তি বাতিল করে স্থানীয় প্রভাবশালী এক ব্যক্তির সন্তানকে তার জায়গায় ভর্তি করা হয়েছে। ছেলেটির বাবা ফোনে আমাকে জানান, তার সন্তান মারত্মক হতাশাগ্রস্ত। তিনি আশঙ্কা করছেন-এ অবস্থায় সে আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটিয়ে ফেলতে পারে। এ অবস্থায়, নিয়ম ভেঙে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধীভুক্ত কোনও কলেজেও যদি তার ভর্তির ব্যবস্থা করা যায় তাহলে ছেলেটি বা তাদের পুরো পরিবার কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে। আমি আমার মতো করে দু-একজনের সঙ্গে কথা বলে দেখেছিলাম যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সম্ভব কিনা। প্রক্রিয়াটি জটিল, সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ওই পরিবারের কোনও খোঁজও রাখিনি।

“তোমার মেধাবী সূর্য সন্তানদের দেখে আমার বড় আফসোস হয়। দেখ, কীভাবে তারা তাদের মেধাগত যোগ্যতাবলে তোমার সিস্টেমের সাথে সুন্দরভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। তারা আমাদের কী বলে জানো? যুক্তিবাদী বেয়াদব। আমরা ডিপার্টমেন্ট-এর বদনাম করি, দল করে সুন্দর সাজানো একটা ডিপার্টমেন্টকে নষ্ট করি। সিনিয়র ভাইদের সাথে ঘুরে ঘুরে স্যারদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করি।”

সবাই জানে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কর্তাব্যক্তি পদে দলীয় অনুগত অথর্ব কিছু মানুষ বসে আছে। তাদের আনুগত্যের বিনিময়ে তারা পায় যা খুশি তা করার স্বাধীনতা। এটাকেই অর্ঘ্য বলছে মেরুদণ্ডহীন সিস্টেম। আর যারা বিনা প্রশ্নে সবকিছু মনে নিয়ে সিস্টেমের সাথে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে তারাই হচ্ছে অর্ঘ্যর ভাষায় মেধাবী সূর্য সন্তান। কথা হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় কি আসলে এইসব প্রশ্নহীন মেধাবী সূর্য সন্তানদের জায়গা? বিশ্ববিদ্যালয় কী আসলে? ভবিতব্য হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় যখন বছরের পর বছর ধরে মেরুদণ্ডহীন সিস্টেম অনুযায়ী চলতে থাকে তখন এই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্যও সমাজে কেউ অবশিষ্ট থাকে না। আর অর্ঘ্যর মতো একটা তরুণ সংবেদনশীল প্রাণ যার স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার মধ্যে আঁকা ছিল একটা মুক্ত বিহঙ্গ-যার নাম বিশ্ববিদ্যালয়। যেখানে জ্ঞান ও সৃষ্টির সম্মিলনের মোহে বিচরণ করে বেড়াবে যুক্তিবাদী বেয়াদবেরা। কিন্তু কোথায় সেই বিশ্ববিদ্যালয়? যেখানে ক্ষুদ্র স্বার্থের আশায় কাতর শিক্ষকেরা ক্ষমতার পদলেহনে ব্যস্ত; শুধু ক্ষমতার পদলেহনে প্রাপ্ত সুবিধায় কুলাচ্ছে না বলে উপাচার্য বিউটি পার্লারের তহবিল গুনছেন; যেখানে প্রভাবশালী ব্যক্তির সন্তানকে জায়গা করে দিতে দরিদ্র স্কুল শিক্ষকের সন্তানটির ভর্তি বাতিল করা হচ্ছে; যেখানে মেরুদণ্ডহীন সিস্টেমের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়ে নিশ্চুপ থাকছে তথাকথিত মেধাবী সূর্য সন্তানেরা—সেখানে কী করে বাঁচবে অর্ঘ্য বিশ্বাসের মুক্ত বিহঙ্গ প্রাণ। আর তাই বিশ্ববিদ্যালয় নামের খাঁচা অতিক্রম করে আকাশের পানে উড়াল দিয়েছে সে।

ফেসবুকে অর্ঘ্যর পোস্টের সূত্র ধরে ও রাখাল রাহার পোস্ট থেকে আমরা জানতে পারছি আরও কিছু কথা। অর্ঘ্যর ডিপার্টমেন্ট সিইসির চেয়ারম্যান অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া। কোনও মাস্টার্স ছাড়াই এক বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি সরাসরি সহকারী অধ্যাপক পদে যোগদান করেন। ওই ডিপার্টমেন্টে ওনার থেকে সিনিয়র শিক্ষক থাকার পরেও ওনাকেই চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারপরে সম্প্রতি এই বিভাগ থেকে এই চেয়ারম্যান নিজে প্রশ্ন করে, নিজে পরীক্ষা দিয়ে, নিজেই খাতা মূল্যায়ন করে এমএসসি ডিগ্রি নেন। অর্ঘ্যসহ কিছু ছাত্র এটা মানতে রাজী ছিল না। তারা এই বিষয়ে কথা বলতে থাকে। যেটা পছন্দ করেননি ওই চেয়ারম্যান এবং তার নিয়োগদাতা উপাচার্য। তারা এই শিক্ষার্থীদের ঝামেলায় ফেলতে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত সেমিস্টারে ১৭জন শিক্ষার্থীকে ফেল করানো হয়, ১০জনকে কোনোমতে পাস করানো হয়। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যারা ফেল করেছে এবং খারাপ রেজাল্ট করেছে ওরা গত ৩ বছরে সবাই ওই বিভাগের টপ রেজাল্টধারী। আর যারা টপ রেজাল্ট করেছে এই সেমিস্টারে, তারা আগেপরে খুব সাধারণ রেজাল্ট করেছে গত ৩ বছর। তারা রেজাল্ট চ্যালেঞ্জ করতে চাইলে উপাচার্য এদের সবাইকে বহিস্কারের হুমকি দেন। অর্ঘ্য ডিপার্টমেন্টের এই বড় ভাইদের সাথে মিশতো, তাদের সাথে একসাথে প্রতিবাদ করতো। তারই শাস্তি হিসেবে উপস্থিতি কম দেখিয়ে অর্ঘ্যকে পরীক্ষায় বসতে দেয়নি। পরীক্ষায় বসাটা হয়ত অর্ঘ্যর জন্য ততটা জরুরি ছিল না। কিন্তু ওর মুক্ত প্রাণ অথর্বদের আস্ফালন মেনে নিতে পারেনি।

“কাল সারা রাত অনেক ভাবলাম বুঝলে। সত্যি বলতে কী, আমার এখন মনে হচ্ছে আমরা এই “যুক্তিবাদী বেয়াদবেরা” আসলেই তোমার ক্ষতি করছি। পদ্মা ব্রীজ হচ্ছে, দেশে কর্মসংস্থান বাড়ছে, আধুনিকায়ন হচ্ছে। সুশাসন এবং আইন ব্যবস্থায় গুম, হত্যা, সংখ্যালঘু নির্যাতন হচ্ছে, কোটি কোটি টাকা লোপাট হওয়ার পরও মন্ত্রী মহোদয় সেটা হাতের ময়লার মতো উড়িয়ে দেন। প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। দলীয় এবং নিয়োগ বানিজ্যের কল্যাণে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা বিশাল সংখ্যাক ডিপ্রেসড শিক্ষার্থী তৈরী করছেন। গর্ব করার জন্য বহিঃবিশ্বে তোমার বংশোদ্ভূত সন্তানেরা রয়েছেন যারা নিজেদের উন্নতির স্বার্থে তোমাকে ত্যাগ করে অন্য দেশকে আপন করে নিয়েছে।”

মৃত্যুর আগের সারা রাত অর্ঘ্য ভেবেছে। এর আগে আরও অনেক রাত ভেবেছে নিশ্চয়ই। ভেবে ভেবে নিশ্চিত হয়েছে, বিকৃত উন্নয়নের এই কালে রাষ্ট্র, সমাজ বা বিশ্ববিদ্যালয় কোথাও আর যুক্তিবাদী বেয়াদবদের জন্য কোনও জায়গা অবশিষ্ট নেই। সাধারণত মফস্বলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তুলনায় ঢাকা বা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক বেশি প্রিভিলেজড। কর্তৃপক্ষীয় স্বৈরতন্ত্রের বাইরে এসে এখানে এখনও কিছুটা সৃষ্টিশীল মুক্ত পরিবেশ বিরাজ করে। অবশ্য দুই দিন আগেই আমরা পত্রিকার পাতায় দেখেছি যে স্বয়ং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এসে রাত আটটার পরে টিএসসির চায়ের দোকানগুলো বন্ধ করে দিচ্ছেন এবং টিএসসির বাইরের চত্বরে থাকা শিক্ষার্থীদের হলে চলে যাওয়ার আদেশ দিচ্ছেন। এর আগে ক্রমাগতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মুক্ত পরিবেশে বসা বা ভাব আদান-প্রদানের জায়গাগুলিকে সংকুচিত করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রক্টর ক’দিন আগে তার বিরোধী পক্ষের এক অধ্যাপককে কিল-ঘুষি মেরেছিলেন। কিছুদিন আগে কর্তৃপক্ষীয় স্বেচ্ছাচারিতার শিকার হয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চল্লিশজনেরও বেশি শিক্ষার্থীকে জেলে যেতে হয়েছিল। এই যদি হয় কেন্দ্রস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থা তাহলে কল্পনা করাও কঠিন যে গোপালগঞ্জে বা অন্যান্য শহরে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হাজার হাজার অর্ঘ্য কীরকম অবরুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাস করে। তবে বাস্তবতা হলো, অধিকাংশরাই কর্তৃপক্ষের অনুগত কথিত মেধাবী সন্তানে পরিণত হয়েছে-যারা নিয়ম করে ক্লাসে যায় আর লাইব্রেরিতে বসে বিসিএস কোচিং করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী বা বিশ্ববিদ্যালয় ধারণা কাকে বলে তা নিয়ে ন্যূনতম ভাবনা-চিন্তা করার অবকাশ তাদের হাতে নেই।

“তোমার মেরুদণ্ডহীন বিদ্বান সূর্য সন্তানেরা তোমার এত উন্নতি করছে সেখানে আমি তোমার কি উপকার করছি বল? তোমার টাকায় পড়ে, খেয়ে তোমার সিস্টেমের বিরোধিতা করছি, তোমার সাথে বেঈমানী করছি। দেখে নিও, আর করব না। সেদিন ভিসি স্যার এবং চেয়ারম্যান স্যারের কাছে মাফ চাইনি। আজ তোমার কাছে মাফ চাইছি। তোমার আর কোন ক্ষতি করব না। আর তোমার বিরোধিতা করব না। সোজা হওয়া এই মেরুদণ্ড ভেঙ্গে নোয়াতে পারব না। সেটা আমার দ্বারা হবে না। সেজন্য অন্য পথটা বেছে নিলাম। ভয় পেয় না। ধর্মান্ধতায় অন্ধ, ক্ষমতাবলে ভীত, অর্থ মোহে ঘুমন্ত এই বালির নিচে মাথা ঢুকিয়ে থাকা উটপাখি সদৃশ জাতি কোনদিনও তোমার ভেঙ্গে পড়ে থাকা মেরুদণ্ড সোজা করার চেষ্টা করে তোমাকে যন্ত্রণা দিবে না। আমার মতো যেসব বেয়াদবেরা তোমার সিস্টেম বাগের কারনে ভুল করে জন্মেছে তারাও আস্তে আস্তে তোমার সিস্টেমের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে। আশাকরি পৃথিবীতে তুমি তোমার উন্নতির ধারা বজায় রাখবে। ভাল থেক।”

অর্ঘ্যর মৃত্যু আমাকে যতটা না আতঙ্কিত করে তার চেয়ে অনেক বেশি ভয়াল লাগে তার ফেসবুক চিঠির শেষ প্যারার ভবিষ্যত বাণী। বর্তমান বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, এই ভবিষ্যত বাণীর বাইরে এসে আশাবাদী হওয়ার মতো তেমন কিছু কোথাও দৃশ্যমান নেই। কিন্তু আসলেই কী শেষ বেয়াদবটিও একদিন সিস্টেমের অংশ হয়ে যাবে? তাই যদি হয় তাহলে বলতে হবে-এই সমাজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আর কোনও প্রয়োজনীয়তা অবশিষ্ট নেই। বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করার কৌতুহলী বেয়াদবেরা অদৃশ্য হওয়ার সাথে সাথেই বিশ্ববিদ্যালয় মরা কড়িকাঠে পরিণত হবে-এখানে আর কোনও নতুন জ্ঞান সৃষ্টি হবে না। এই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শ্রদ্ধেয় যতীন সরকার একদা বলেছিলেন-বিশ্ববিদ্যালয় এখন আর বিশ্ব বিদ্যার আলয় নয়, এটা হচ্ছে বিশ্ব বিদ্যা লয়। অর্থাৎ এখানে বিশ্ব বিদ্যা লয় প্রাপ্ত হয়। বিকৃত উন্নয়ন আর ক্ষুদ্র স্বার্থের ধুপকাষ্ঠে আত্মনিবেদন করা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কী ঘুরে দাঁড়াতে পারবে আদৌ? নাকি কেবল বিশ্ব বিদ্যা লয় করেই চলবে? মৃত্যুর আগে এতোটুকু আশাবাদও কী অর্ঘ্য বিশ্বাসের চৈতন্যে জাগেনি? নাকি নিজের জীবন দিয়ে আমাদের চৈতন্যের দ্বার উন্মুক্ত করতে চেয়েছে-যেন আমরা ফিরে তাকাই, ঘুরে দাঁড়াই। বাংলাদেশ কি জানবে বিশ্ববিদ্যালয় কী আর অর্ঘ্য বিশ্বাস কে ছিল?

প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71