রবিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৮
রবিবার, ৬ই কার্তিক ১৪২৫
সর্বশেষ
 
 
বাংলাদেশ গ্লোবাল সামিট : যা আছে কুয়ালালামপুর ডিক্লারেশনে
প্রকাশ: ১১:৫৬ am ১৬-০১-২০১৭ হালনাগাদ: ১১:৫৬ am ১৬-০১-২০১৭
 
 
 


ইউরোপ :  ইউরোপ ভিত্তিক বাংলাদেশী ডায়াসপোরা সংগঠন অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ এসোসিয়েশন (আয়েবা)’র ব্যবস্থাপনায় ১৯-২০ নভেম্বর ২০১৬ মালয়েশিয়ার মাটিতে ব্যতিক্রমী আয়োজন ১ম বাংলাদেশ গ্লোবাল সামিটের যবনিকাপাত ঘটে ২৩ দফা ‘কুয়ালালামপুর ঘোষণা’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে

বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্ব থেকে আগত পেশাদার বাংলাদেশীরা এতে যোগ দেন।প্রবাসী বিশ্বসম্মেলনের ২ দিনব্যাপী কর্মসূচীতে অংশগ্রহনকারীদের আলোচনা, মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে ‘কুয়ালালামপুর ডিক্লারেশন’ প্রণয়নের দায়িত্বে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এডিমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ)’র প্রফেসর ড. সৈয়দ ফরহাত আনোয়ার। চলুন দেখা যাক কী আছে ২৩ দফা কুয়ালালামপুর ডিক্লারেশনে।

(১) কুয়ালালামপুর ডিক্লারেশনে ব্যবহৃত ‘ডায়াসপোরা’ হচ্ছেন ঐ সকল ব্যক্তি যারা যে কোন কারনেই হোক মাতৃভূমি থেকে দূরে অবস্থান করছেন তথা নিজ রাষ্ট্রীয় ভূখন্ডের বাইরে যাদের বসবাস। তারা তাদের মাতৃভুমিকে ভালোবাসেন। তারা বেশ আশাবাদী এবং জীবনের একটা পর্যায়ে নিজ মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তনের ইচ্ছেও পোষণ করেন।

(২) বাংলাদেশে সাম্প্রতিককালে প্রণীত ‘দ্বৈত নাগরিকত্ব আইন’ নিয়ে সামিটে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সামিটে এইমর্মে সুপারিশ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশী ডায়াসপোরা এবং তাদের দ্বিতীয় ও পরবর্তি জেনারেশনের নাগরিক অধিকার সংরক্ষনকল্পে বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে পরামর্শমূলক একটি প্রক্রিয়ায় প্রবাসী প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা।

(৩) সারা বিশ্বে কর্মরত বাংলাদেশী কর্মীদের অধিকার সংরক্ষণ এবং সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি সামিটে আলোচনা হয়েছে এবং এর জন্য বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন ও কনস্যুলেট অফিস সমূহকে সক্ষম করা তোলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে সামিটে।

(৪) যে সকল দেশে বড় বাংলাদেশ কমিউনিটি রয়েছে অর্থাৎ যেসব দেশে বাংলাদেশীদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি, তাদের জন্য সেবামূলক কার্যক্রম বাড়াতে এই সকল দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশন বা কনস্যুলেট অফিস কর্তৃক একটি ‘এক্সক্লুসিভ ডায়াসপোরা সার্ভিস’ চালু করার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে সামিটে।

(৫) সামিটে এইমর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয় যে, বাংলাদেশী ডায়াসপোরা কমিউনিটি যারা রেমিটেন্স পাঠিয়ে মাতৃভূমির অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখছে, তাদের জন্য বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরের মাধ্যমে ‘নিরাপদ বন্ড’ সহ বিনিয়োগ সুবিধা বাড়াবার উদ্যোগ নিতে পারে বাংলাদেশ সরকার। এতে করে বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স আহরণ আরো নিশ্চিত হবে।

(৬) ‘গ্রাসরুট লেভেল’ থেকে ‘ডিসিশন মেকিং লেভেল’ অর্থাৎ তৃণমূল থেকে ‍শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ব্যবসা-বানিজ্য এবং সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে বাংলাদেশী ডায়াসপোরাকে সম্পৃক্ত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে সামিটে।

(৭) দেশের সামাজিক উন্নয়নমূলক খাতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশী ডায়াসপোরা কমিউনিটি কর্তৃক বিনিয়োগের পথ যাতে প্রশস্ত হয়, এ ব্যাপারে অনুরোধ জানানো হয়েছে সামিট থেকে।

(৮) ডায়াসপোরা কমিউনিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে একটি ‘পরামর্শক বোর্ড’ সরকারীভাবেই গঠন করা যেতে পারে, যারা নিবেদিত হবে ডায়াসপোরা কমিউনিটির কল্যাণে।

(৯) ডায়াসপোরা কমিউনিটির স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে সামিটে।এক্ষেত্রে‘কুয়ালালামপুর ডিক্লারেশন’বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মিডিয়াতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য মিডিয়াকে সহায়তার হাত প্রসারিত করবে ডায়াসপোরা কমিউনিটি।

(১০) বাংলাদেশী ডায়াসপোরা কমিউনিটি অধ্যুষিত যেসব দেশে গার্মেন্টস সেক্টরে কর্মী ও এজেন্ট হিসেবে মূলত নন-বাংলাদেশীরা কাজ করে যাচ্ছে, সেসব দেশের সুনির্দিষ্ট এই সেক্টরে বাংলাদেশীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে, এমনটাই সুপারিশ করা হয়েছে সামিটে।

(১১) সামিট থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে যাতে বাংলাদেশী ডায়াসপোরা এসোসিয়েশন সমূহ একটি ‘মনিটরিং সেল’ গঠন করে, যার কাজ হবে ডায়াসপোরা কমিউনিটির স্বার্থ রক্ষায় নজর দেয়া এবং যথাযথ মাধ্যমে (প্রপার চ্যানেলে) তারা রিপোর্ট করতে পারে বাংলাদেশ সরকারকে।

(১২) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশী ডায়াসপোরা কমিউনিটিতে যেসব সাফল্য এবং চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তার একটি ডাটাবেজ যাতে বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন ও কনস্যুলেট অফিস সমূহে তৈরী হয়, তার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে সামিটে।

(১৩) সামিটে সুষ্পষ্টভাবে বলা হয়, ডায়াসপোরা কমিউনিটিই বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের প্রকৃত রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার। বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করতে দেশে দেশে বিভিন্ন গঠনমূলক কর্মসূচী গ্রহন করার জন্য ডায়াসপোরা কমিউনিটিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে সামিটে।

(১৪) সামিটে এই বিষয়েও আলোচনা হয়েছে যে, ডায়াসপোরা কমিউনিটির উচিত হবে বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশীদের একটি ডাটাবেজ প্রণয়ন করা, যেখানে কমিউনিটির সদস্য-সদস্যাদের জীবনবৃত্তান্ত ও পেশাদারী দক্ষতার তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। যখনই প্রয়োজন হবে তখন এই ডাটাবেজ থেকে উপকৃত হবে বাংলাদেশ।

(১৫) বাংলাদেশের সকল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর এবং স্থলবন্দর সমূহে ‍সুযোগ সুবিধা ও সেবার মান বাড়াতে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করা উচিত, এই ইস্যুতেও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে সামিটে। দেশের ভাবমূর্তির সার্বিক উন্নয়নে এটি বিশেষ সহায়ক হবে।

(১৬) বাংলাদেশের আশাব্যাঞ্জক পারফরম্যান্স যে খাতে, অর্থাৎ পোশাক শিল্পকে আরো বিকশিত করার মাধ্যমে যাতে ব্যবসা বানিজ্যের আরো সুযোগ সৃষ্টি হয়, তার জন্যও সুপারিশ করা হয়েছে সামিটে। এই সেক্টরকে ঘিরে অ্যাপারেল ডিপ্লোমেসি (বস্ত্রকূটনীতি)’র পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তি, ফার্মাসিউটিক্যালস, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ (পাটসহ) অন্যান্য উৎপাদন এবং সেবা খাতের ‍উন্নয়ন ও বিকাশ সাধন অত্যাবশ্যক মনে করা হয়েছে সামিটে।

(১৭) সামিটে আশাপ্রকাশ করা হয়েছে যে, ডায়াসপোরা কমিউনিটি বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে একাডেমিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করবে, যাতে এই সকল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাদেশের জন্য গবেষণা এবং উন্নয়নমূলক (রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট) সহযোগিতা পাওয়া যায়।বাংলাদেশ থেকে অর্থ বাইরে চলে যাওয়া কমাতে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে বিভিন্ন দেশের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাংলাদেশে নিয়ে আসতে কাজ করতে পারে ডায়াসপোরা কমিউনিটি।

(১৮) মাতৃভূমির অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশী ডায়াসপোরাকে উদ্বুদ্ধ (মোটিভেট) করতে হবে। তারা যাতে বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে বিদেশী বিনিয়োগ (ইনভেস্টমেন্ট) নিয়ে আসে, এমনটা গুরুত্ব সহকারে বলা হয়েছে সামিটে।

(১৯) বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন ও কনস্যুলেট অফিস সমূহ কর্তৃক প্রদত্ত পরিসেবা (সার্ভিস) সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে সামিটে। ব্যবসা বানিজ্যের সুযোগ থাকা সত্বেও যেসব দেশে বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশন বা কনস্যুলেট অফিস কোনটাই নেই, সেসব দেশে কনস্যুলার সহ অন্যান্য সেবা যথাসময়ে এবং নিয়মিত প্রদানের তাগিদও দেয়া হয়েছে সামিটে।

(২০) বাংলাদেশের বাইরে দক্ষ (স্কিল্ড) কর্মীর চাহিদা ও গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবার প্রেক্ষিতে সামিটে বাংলাদেশের সরকার ও প্রাইভেট সেক্টরকে অনুরোধ জানানো হয়েছে,যাতে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশী কর্মীদের কারিগরী দক্ষতা বৃদ্ধি ও মান উন্নয়নে মনোনিবেশ করা হয়।

(২১) ভবিষ্যতে এই ধরনের সামিটে নারীদের অংশগ্রহন আরো বাড়াবার পাশাপাশি ডায়াসপোরা কমিউনিটি সমূহের কার্যক্রমে তাদেরকে আরো বেশি সম্পৃক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে সামিটে।বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক খাতে ডায়াসপোরা কমিউনিটির নারী সদস্যাদের অংশগ্রহন ও বিনিয়োগের জন্য বিশেষ সুযোগ সৃষ্টিরও অনুরোধ জানানো হয়েছে বাংলাদেশ সরকার সমীপে।

(২২) পর্যটনকে অগ্রাধিকার দেবার পাশাপাশি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ এই সেক্টরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সুযোগ সুবিধা বাড়াবার সুপারিশ করা হয়েছে সামিটে।এক্ষেত্রে দেশকে ‘হাইলাইট’ করার মতো বিশেষ কোন একটি ‘থিম’ ব্যবহার করা যেতে পারে।‘ব্র্যান্ড’ তৈরীতে ডায়াসপোরা কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করা সম্ভব, যারা চাইলে এই পর্যটন খাতে বিনিয়োগও করতে পারে।

(২৩) অনবাসী সকল বাংলাদেশীদের জন্য বছরে একটি দিন ‘ডায়াসপোরা ডে’ অথবা ‘প্রবাসী বাংলাদেশী দিবস’ হিসেবে পালনের প্রস্তাব করা হয়েছে সামিটে। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ঘোষিত হলে বিশেষ এই দিনটি সারা বিশ্বে একযোগে উদযাপিত হবে।

এইবেলাডটকম/নাসিম/এফএআর

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71