শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শনিবার, ৭ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
বাংলাদেশ ভারত পাকিস্তান ও মিয়ানমারের জঙ্গিদের জোট, নতুন দেশ গড়ার পরিকল্পনা
প্রকাশ: ০২:২৭ am ২৪-০৩-২০১৫ হালনাগাদ: ০২:২৭ am ২৪-০৩-২০১৫
 
 
 


ভারতীয় উপমহাদেশে ‘ইসলামী সাম্রাজ্য’ গড়তে জোটবদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন। লক্ষ্য নতুন একটি দেশ গঠন করা। বিশ্বব্যাপী হুমকি হয়ে ওঠা ভয়ঙ্কর সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) স্টাইলে মাস্টারপ্ল্যান নিয়েছে তারা। ইরাক-সিরিয়ায় ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা আইএস এই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে সহায়তাও দিচ্ছে। জোটের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইসলামিক ল অ্যান্ড ফোর্স অব হিন্দুস্তান’। জঙ্গি জোটের অন্যতম শরিক জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) চট্টগ্রামে বিশাল নেটওয়ার্কও গড়ে তুলেছে। সেখানে শতাধিক দোকান পরিচালনা করছে জেএমবি। বিভিন্ন স্থানে ফুটপাতেও দোকান পরিচালনা করছেন সংগঠনের সদস্যরা। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠন ছাত্রশিবিরের অনেক কর্মী। জেএমবির চট্টগ্রাম জেলা কমান্ডার ও শিবিরের সাবেক নেতা এরশাদ হোসেন মামুন চাঞ্চল্যকর এ তথ্য দিয়েছেন। চট্টগ্রামের নিউ মনসুরাবাদ বাগানবাড়ি সংলগ্ন শাপলা মোড়ে রেললাইনের কাছে একটি বাসা থেকে গতকাল সকালে তাকে গ্রেফতার করে আকবর শাহ থানা পুলিশ। তার কাছ থেকে গ্রেনেড তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম, গান পাউডার ও জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়েছে। মামুন এর আগে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরে জেএমবিতে যোগ দেন। তার বাড়ি দিনাজপুরের বিরোল উপজেলার বালান্দরপুর গ্রামে। মামুন জানিয়েছেন, সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করে ইসলামী সাম্রাজ্য গড়তে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে নতুন জোট। লক্ষ্য বাস্তবায়নে সার্বিক সহায়তা করছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস। জোটের হিটলিস্টে রয়েছেন সশস্ত্র বাহিনী ও র‌্যাব-পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ জোনের সহকারী কমিশনার এস এম আবদুর রউফ বলেন, ‘মামুনকে গ্রেফতারের পর গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের জঙ্গিদের খেলাফত প্রতিষ্ঠার তথ্যের ভিত্তিতে কাজ চালাবে পুলিশ।’ সূত্র জানায়, জঙ্গিদের এ জোটে রয়েছে হরকাতুল জিহাদ, হিজবুত তাহরীর, জেএমবি ও আনসার উল্লাহ বাংলা টিম। জোটের শীর্ষ নেতারা গত অক্টোবরে বাংলাদেশে গোপন বৈঠক করেছেন। সিরিয়ার নাগরিক আইএসের এক শীর্ষ নেতাও এতে উপস্থিত ছিলেন। মূলত ভারতীয় উপমহাদেশে খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয় ওই বৈঠকে। বৈঠকের পর থেকে ই-মেইল ও মোবাইল ফোনে আইএস ও জঙ্গি জোটের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে।




মামুন পুলিশকে জানান, ২০২০ সালের মধ্যে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে ‘ইসলামিক ল অ্যান্ড ফোর্স অব হিন্দুস্তান’। মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন অফিস-আদালত, শিল্প-কারখানাকেন্দ্রিক চলছে তাদের কার্যক্রম। মামুন বলেন, ‘খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য চট্টগ্রামে দাওয়াতি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় হাজারের মতো সদস্য দাওয়াতি কার্যক্রমে যোগ দিয়েছে। যেখানে ১৫০ জন এহসার সদস্য, ২৫০ জন গায়েরে এহসার সদস্য এবং ৫০০ জন আনসার সদস্য রয়েছেন।’ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবিকে সবচেয়ে বড় বাধা মনে করছে ‘ইসলামিক ল অ্যান্ড ফোর্স অব হিন্দুস্তান’। তাই এসব বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের টার্গেট করে হিটলিস্ট তৈরি করেছে জঙ্গি জোট। নগরীর আকবর শাহ থানার ওসি সদীপকুমার দাশ বলেন, ‘জেএমবির জেলা কমান্ডার মামুনের কাছ থেকে একটি হিটলিস্ট উদ্ধার করা হয়েছে। এতে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশসহ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার বিভিন্ন কর্মকর্তার নাম রয়েছে।’ মামুন বলেছেন, খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য সামরিক অভ্যুত্থান ঘটালে সবার আগে প্রতিরোধ করবে সেনাবাহিনী, বিজিবি, নৌবাহিনী, পুলিশসহ অন্যান্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। তাই তাদের বিষয়টি মাথায় রেখে পরিকল্পনা করা হয়েছে।চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার আবদুল জলিল মণ্ডল বলেন, ‘সরকারের বিরুদ্ধে এক হয়ে কাজ করছে হুজি, জেএমবি ও জামায়াত-শিবিরের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলো। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাবের মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর ওপর হামলা চালানোর লক্ষ্যে তারা কাজ করছে।’ পুলিশ জানায়, ২০১১ সালে দিনাজপুরের একটি স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পাস করেন মামুন। বগুড়ায় গিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন জেএমবির সঙ্গে যুক্ত হন। চট্টগ্রামে আসেন ২০১৪ সালে। নগরীর কর্নেলহাট এলাকায় জেএমবি পরিচালিত একটি ফটোকপির দোকানে কাজ করতেন। চট্টগ্রামেই জেএমবি পরিচালিত প্রায় ১০০টি দোকান রয়েছে। এসব দোকানে জেএমবির কর্মীরাই কাজ করেন। এ ছাড়া অনেক জেএমবি সদস্য ফুটপাতে হকার হিসেবেও কাজ করেন।মামুনকে গ্রেফতারে সহায়তাকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘শাপলা মোড় রেললাইনের পাশে একটি টিনশেডের ভাড়া বাসায় মাসদেড়েক আগে ওঠেন মামুন। স্থানীয় লোকজন তাকে চিনতেন না। কারও সঙ্গে কথাও বলতেন না। গতকাল সকালে মোবাইলে ফোন করা নিয়ে স্থানীয় এক নারীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। তার আচরণ সন্দেহজনক হলে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।’
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71