শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮
শনিবার, ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
বাংলা নাটক সিনেমায় নারীদের যেভাবে দেখানো হয়
প্রকাশ: ০৯:৩৭ am ২৭-০৫-২০১৭ হালনাগাদ: ০৯:৩৭ am ২৭-০৫-২০১৭
 
 
 


ঢাকা : সিনেমায় ধূমপান অথবা মদ্যপানের দৃশ্যে স্ক্রিনে লেখা দেখা যায় ‘ধুমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’ অথবা ‘মদ্যপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’।

অথচ পরিতাপের বিষয় নারী নিপীড়নের কোনো দৃশ্যে কখনো স্ক্রিনে লিখতে দেখা যায় না ‘ নিপীড়ন থামাও, প্রকৃত পুরুষ কখনো নিপীড়ন করে না।’

এবার একটু আলোচনা করা যাক বাংলা চলচ্চিত্রে নারীদের অবস্থান নিয়ে। বিনোদনের নামে প্রায়শই হীন এবং অসংবেদনশীলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে নারী চরিত্রগুলো। মূলধারার রোমান্টিক কিংবা অ্যাকশন চলচ্চিত্রে আমরা নারীদের কিভাবে দেখতে পাই? সেটা বাংলাদেশ হোক কিংবা বহি:বিশ্ব হোক। চলচ্চিত্রে সঠিক ভাবে উঠে আসেনা নারীর সংগ্রামী মুখ, পরিশ্রমী মুখচ্ছবি।

বাণিজ্যিক সিনেমায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীকে খুবই নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়। ছবির দৃশ্যগুলোতে এবং গানের মাধ্যমে মোটা দাগে নারীকে অবলা হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। প্রেমের প্রস্তাব মানে নায়কের নায়িকাকে উত্যক্ত করা। তা দেখে নায়িকার প্রেমে পরে যাওয়া। বাংলা চলচ্চিত্রের একটা চিরাচরিত রুপ। এছাড়াও রয়েছে রগরগে ধর্ষণের দৃশ্য। সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে ভারতের অনুকরণে ‘আইটেম নাম্বার’ যেখানে একজন নারীই নিজেকে যৌন পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করছে।

শুধু কি বানিজ্যিক ঘরানা? ভিন্ন ধারার চলচ্চিত্রেও নারীদের উপজীব্য করে নানা রকম বাজে চিত্র ফুঁটিয়ে তোলা হচ্ছে। জাতীয় পুরস্কার পাওয়া ‘বাপজানের বায়োস্কোপ’ সিনেমায়ও নারীদের নিপীড়ন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নায়িকা সানজীদা তন্ময়কে বাইজি বাড়ি থেকে তুলে আনে গ্রামের মাতব্বর শহীদুজ্জামান সেলিম। তাঁর অন্য পুরুষের মোহে পড়া। এরকম আরো অনেক কুরুচিপূর্ণভাবে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে নায়িকাকে ভোগের বস্তু হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে। 

উস্কানিমূলক বাক ভঙ্গি জনপ্রিয়তার মাধ্যমও হতে পারে। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পরিচালনায় ‘ব্যাচেলর’ নামের সিনেমাটা সর্বমহলেই আলোচনা তৈরি করেছিল। আসলে সিনেমাটা কোন সমাজকে তুলে ধরতে চেয়েছে? কোন আধুনিকতার সংমিশ্রন ছিল? অনেক প্রশ্নই ওঠে দূশ্যের পর দৃশ্যে। সেখানে নারীদের যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে সেটা কি বাস্তব চরিত্র নারীদের? এরকম উদাহরন টানলে তালিকাটা আরো দীর্ঘ করা যায়।

বাংলা নাটকেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীকে কিছু বিশেষ অবস্থানে দেখানো হয়েছে। ঘুরে ফিরে সব নাটকের উপজীব্যই নারী, প্রেম, কর্মজীবী নারীর সংসারের প্রতি অবহেলা, পুরুষের নারীকে নিয়ন্ত্রণে রাখা, পুরুষের ব্যভিচারী আচরণ এবং তার বিপরীতে নারীর শাশ্বত সতীত্ব। এমনকি হাসির নাটক বলে চালানো নাটকেও দেখাচ্ছে, নারী সকল সমস্যার মূলে, অথবা নারীকে পাওয়ার জন্য পুরুষদের মধ্যে প্রতিযোগিতা, পরকীয়া অথবা স্ত্রীর ভূমিকারে অস্বীকার করা। মিষ্টি প্রেমের গল্পে ভালোবাসার নামে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে পুরুষের নিয়ন্ত্রণকামীতা।

নাটক চলচ্চিত্রের মতো একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম নারীর ইতিবাচক ইমেজ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে। আর তাই এদেশের যে সব নারী কর্মক্ষেত্রে, সংসারে সর্বত্র সামাজিক অর্থনৈতিক- সাংস্কৃতিক অবদান রেখে চলছেন - তাদের জীবন সংগ্রাম , সাফল্য ও বঞ্চনার চিত্রায়ণ তুলে ধরা প্রয়োজন চলচ্চিত্রের মতো একটি শক্তিশালী গণমাধ্যমে, যা সমাজ জীবনে খুবই প্রভাব বেশি।

নাটক সিনেমায় যদি নারীদের এমন রুপ তুলে ধরা হয়। তাহলে বাস্তবেও যে তা উঠে আসবে না এমনটা ভাববার নয়। 

এইবেলাডটকম/এএস

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71