শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শুক্রবার, ৬ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
মানবিক উদ্যোগ
বাঙালির সংস্কৃতি
প্রকাশ: ০৮:৫১ pm ০২-০৬-২০১৭ হালনাগাদ: ০৮:৫১ pm ০২-০৬-২০১৭
 
 
 


যতীন সরকার ||
‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দটি যে সর্বদা খারাপ বা নিন্দনীয় অর্থে ব্যবহৃত হয়, তা অবশ্যই নয়। শব্দটির গঠনের দিকে দৃষ্টি দিলেই বোঝা যায যে, যা কিছু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা সম্প্রদায় সম্পর্কীয়, তা সবই সাম্প্রদায়িক (সম্প্রদায়+ঞিক)। কাজেই ব্যুৎপত্তিগত অর্থে শব্দটি মোটেই নিন্দার্থক নয়। যদি বলি :দুর্গাপূজা, ঈদ, বড়দিন, বুদ্ধপূর্ণিমা- এ সবই সাম্প্রদায়িক অনুষ্ঠান, তাহলে কি ওগুলোকে নিন্দা করা হলো? হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ- এসব ধর্মীয় সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষেরা এই অনুষ্ঠানগুলো তাদের নিজেদের ধর্মের অনুশাসন রূপেই পালন করে থাকে। তাই এগুলো সাম্প্রদায়িক অনুষ্ঠান। এতে নিন্দার কিছু নেই। কিন্তু অনুষ্ঠানগুলো যদি এ রকম হয়ে দাঁড়ায় যে, হিন্দুরা দুর্গাপূজার পর বিসর্জন দেওয়ার জন্য দুর্গা মূর্তি নিয়ে যাবে মুসলমানের মসজিদের সামনে দিয়ে ঢাকঢোল বাজাতে বাজাতে, কিংবা মুসলমান ঈদে গরু কোরবানি দেবে হিন্দু মন্দিরের সামনে, কিংবা খ্রিস্টান ও বৌদ্ধরাও অন্য সম্প্রদায়ের মানুষদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে বড়দিন বা বুদ্ধ পূর্ণিমা পালন করবে- তাহলে ওইসব অনুষ্ঠান নিন্দার্থেই হয়ে উঠবে সাম্প্রদায়িক। অর্থাৎ বোঝা গেল :যে কোনো সম্প্রদায়ের মানুষ যদি তার নিজের সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত কোনো পার্বণ অন্য সম্প্রদায়ের ক্ষতি না করে বা তার অনুভূতিতে আঘাত না দিয়ে পালন করে তাহলে সেটি সাম্প্রদায়িক হয়েও নিন্দনীয় হয় না। কিন্তু এর বিপরীতটি করলেই- অর্থাৎ অন্য সম্প্রদায়কে আহত করলেই- এটি নিন্দনীয় হয়ে ওঠে এবং সেখানে সাম্প্রদায়িক শব্দটিও নিন্দাসূচক অর্থই বহন করে। এ রকম অন্য সব ক্ষেত্রেও। উনিশ শতকের বাংলায় রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের মতো মনীষীবৃন্দ ‘হিন্দু’ নামক একটি সম্প্রদায়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তারা তাদের আপন সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে অনেক কুসংস্কার ও কদাচারের প্রাদুর্ভাব দেখে খুবই ব্যথিত হয়েছিলেন।

তাই তারা সেসব কুসংস্কার ও কদাচার দূর করে আপন সম্প্রদায়ের সংস্কারসাধনে ব্রতী হয়েছিলেন। তাদের এই সংস্কার-প্রয়াসে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের কল্যাণই ছিল লক্ষ্য। তাই এই সংস্কারের প্রকৃতিও অবশ্যই ছিল সাম্প্রদায়িক। কিন্তু তাই বলে রামমোহন বা বিদ্যাসাগরকে আমরা ‘সাম্প্রদায়িক’ বলে নিন্দা করতে পারি না নিশ্চয়ই। আপন সম্প্রদায়ের প্রতি তাদের ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও তারা সাম্প্রদায়িক হয়ে যাননি। অন্য সম্প্রদায়ের প্রতি যদি তাদের ঘৃণা থাকত, কিংবা অন্য সম্প্রদায়ের অকল্যাণের বিনিময়ে আপন সম্প্রদায়ের কল্যাণ করতে চাইতেন, তাহলেই তারা ‘সাম্প্রদায়িক’ বলে নিন্দিত হতেন। তেমনি নিন্দিত হতেন বেগম রোকেয়াও, যিনি মুসলমান সম্প্রদায়ের নারীদের কল্যাণের জন্য তার সব কর্মপ্রয়াসকে নিয়োজিত করেছিলেন। বিশ শতকের বিশের দশকে যারা ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ গঠন করেছিলেন, সেই আবুল হোসেন-কাজী আবদুল ওদুদ-কাজী মোতাহার হোসেন প্রমুখ মনীষীকে আমরা ‘সাম্প্রদায়িক’ বলে নিন্দা করতে পারতাম। কিন্তু তা আমরা করতে পারি না এ কারণে যে, তারা আপন সম্প্রদায়ের প্রতি দরদি হয়েও অন্য সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতেন না।
কিন্তু দুঃখ এই :সবক্ষেত্রেই আমরা ঠিক একই রকম কথা বলতে পারছি না। উনিশ ও বিশ শতকের বাংলায় সম্প্রদায়-সংশ্লিষ্ট বা সম্প্রদায় সম্পর্কীয় অনেক কর্মকাণ্ডই যে স্বরূপত ‘সাম্প্রদায়িক’ হয়ে উঠেছে- সে কথাও আমাদের স্বীকার করতেই হচ্ছে। যাকে আমরা উনিশ শতকের ‘বঙ্গীয় রেনেসাঁস’ বলি, সেটি যে অচিরেই রেনেসাঁসের সদর্থকতা পরিত্যাগ করে সংকীর্ণ হিন্দু রিভাইভ্যালিজমের পরিণতি পেয়েছিল- সে তো এক মর্মান্তিক সত্য। তারই প্রতিক্রিয়ায় এলো মুসলিম রিভাইভ্যালিজম। অর্থাৎ নবযুগের নাগরিক মধ্যবিত্তের হাতে সৃষ্ট আধুনিক বঙ্গীয় সংস্কৃতি হয়ে উঠল একান্তই সাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি। এখানে এই সাম্প্রদায়িক শব্দটিকে আর কোনো মতেই সদর্থক বলার সুযোগ রইল না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বদলে বিভাজনই যেখানে বড় হয়ে ওঠে, সেখানেই তো দেখা দেয় ‘সাম্প্রদায়িকতা’। ‘সাম্প্রদায়িক’- এই বিশেষণ শব্দটিকে প্রশংসার্থক না বললেও অন্তত নিরপেক্ষ বলা যায় অনেক ক্ষেত্রেই। কিন্তু এই বিশেষণ শব্দটিতে ‘তা’ লাগিয়ে বিশেষ্য ‘সাম্প্রদায়িকতা’ করা হয় যখন, তখন তা পুরোপুরিই নিন্দার্থক হয়ে ওঠে। এই নিন্দার্থক সাম্প্রদায়িকতার দায় এড়াতে পারে না নব্য শিক্ষিত নাগরিক হিন্দু-মুসলমান কোনো বাঙালি মধ্যবিত্তই। এই মধ্যবিত্তরাই বাঙালির সংস্কৃতিতে সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটিয়েছে, একটি অখণ্ড বাঙালি জাতি সৃজনের প্রক্রিয়াকে ক্রমাগত ব্যাহত করেছে এবং পরিণামে বাঙালির রাষ্ট্রীয় দ্বিখণ্ডন ঘটিয়ে একটি অংশকে পাকিস্তান নামক একটি জঘন্য সাম্প্রদায়িক মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার মতো পাপকর্ম করেছে। এই পাপের প্রায়শ্চিত্তও তাকে করতে হয়েছে অগণিত বাঙালি নরনারীর প্রাণ ও মান উৎসর্গ করে। এ রকম কঠোর প্রায়শ্চিত্তের মধ্য দিয়ে জন্ম নিল যে একটি নতুন রাষ্ট্র, সেই বাংলাদেশই হচ্ছে এই উপমহাদেশে একমাত্র জাতিরাষ্ট্র। এমন একটি জাতিরাষ্ট্রের তো সাম্প্রদায়িকতার কোলে আত্মসমর্পণ করার কোনো কথা ছিল না। অথচ কথা না থাকলেও ঘটল তেমনটিই। প্রতিষ্ঠার অর্ধ দশক অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই এই সেক্যুলার জাতিরাষ্ট্রটি লাগাল উল্টো দৌড়। তার ঘাড়ে এসে ভর করলো নিহত পাকিস্তানের ভূত। এই ভূতের আছর থেকে মুক্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না একুশ শতকে পা দিয়েও। বরং এখন সেই ভূত যেন আরও জোরেশোরে জাঁকিয়ে বসছে, রাষ্ট্রের গদিটিতে পর্যন্ত দখল পেয়ে গেছে পাকিস্তানের অপজাতকেরা।

এ রকম অবস্থাটাকেই চিরস্থায়ী বলে মেনে নিতে হবে আমাদের? এর থেকে পরিত্রাণের কি কোনো পথই নেই?

না, চিরস্থায়ী নয় কোনো কিছুই; আর এমন কোনো সংকটও থাকতে পারে না, যা থেকে বেরিয়ে আসার কোনো পথ নেই। আমরা যে সংকটের কথা এখানে বলছি, তার প্রকৃতি অবশ্যই রাজনৈতিক; তাই রাজনীতি দিয়েই এ সংকটের মোকাবেলা করতে হবে। কিন্তু রাজনীতিকে স্বয়ম্ভু বা সর্বার্থসার মনে করলে চলবে না। যাকে আমরা রাজনীতি বলি, তারও মূলে আছে সংস্কৃতি। কিংবা বলা উচিত :সংস্কৃতিই মানুষের সমস্ত কৃতীর লক্ষ্য এবং রাজনীতি হচ্ছে সেই লক্ষ্যে পেঁৗছানোর অন্য অনেক উপায়ের মতো একটি উপায় মাত্র। প্রখ্যাত হাঙ্গেরীয় দার্শনিক লুকাচ এভাবেই বিষয়টিকে উপস্থাপন করেছিলেন।

বাংলা ও বাঙালির যে সংকটের কথা আমরা আলোচনা করছি তাতেও লুকাচীয় পর্যবেক্ষণই আমাদের দিকনির্দেশনা দিতে পারে। অতীতে আমাদের সব সংকটে পথপ্রদর্শক হয়ে এসেছে সংস্কৃতি-চেতনা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন। বাঙালির ভাষার জন্য সংগ্রাম যে মূলত ছিল সাংস্কৃতিক সংগ্রাম, সে কথা তো সর্বজনবিদিত। রবীন্দ্র বর্জন ও নজরুলের মুসলমানীকরণের বিরুদ্ধে সংগ্রামও তা-ই। ভাষার মতো নিজস্ব বর্ণমালা রক্ষার জন্যও বাঙালিকে সাংস্কৃতিক সংগ্রামে নামতে হয়েছে। সংগ্রামের মধ্য দিয়ে লব্ধ সংস্কৃতি-চেতনাই বাঙালির জাতি-চেতনার উদ্বোধন ঘটিয়েছে। জাতি-চেতনা থেকেই এসেছে জাতি-রাষ্ট্র গঠনের তাগিদ। সেই তাগিদই প্রাণ ও মান উৎসর্গকারী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছে স্বাধীন বাংলাদেশের।

কিন্তু এর পর যে উল্টোরথের পালা এলো, তার কারণ সংস্কৃতি-চেতনা আমাদের নিস্তেজিত হয়ে পড়েছিল। সেই নিস্তেজনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যই সাংস্কৃতিক চেতনার পুনরুদ্বোধনের প্রয়োজন আজ বড় তীব্র হয়ে দেখা দিয়েছে। সেই প্রয়োজন পরিপূরণের জন্য হিন্দু ও মুসলিম রিভাইভ্যালিজমের খণ্ডিত ও বিকৃত সংস্কৃতি পরিত্যাগ করে সামনে নিয়ে আসতে হবে আবহমান বাংলার অখণ্ড ও প্রকৃত সংস্কৃতির উত্তরাধিকারকে। সেই উত্তরাধিকার ছড়ানো আছে বাঙালির লৌকিক জীবনের পরতে পরতে। আজও বাঙালি গায়েন পালা গান শুরুর আগে বন্দনা গায় এই বলে-

পুবেতে বন্দনা করি পুবের ভানুশ্বর।

একদিকে উদয় গো ভানু চৌদিকে পশর

উত্তরে বন্দনা করি হিমালয় পর্বত।

যেখানে রাইখ্যাছে আলী মাল্লামের পাত্থর

পশ্চিমে বন্দনা করি মক্কা হেন স্থান

উদ্দিশে জানায় গো সালাম মমিন মুসলমান

দক্ষিণে বন্দনা করি ক্ষীর নদী সাগর।

যে দরিয়ায় বাণিজ্যি করছে চান্দ সওদাগর

পুবের ভানুশ্বর, আলীর মাল্লামের পাথর, মক্কা হেন স্থান আর চান্দ সওদাগরের ক্ষীর নদী সাগর যেখানে মিলেমিশে একাকার হয়ে থাকে, সেখানে ‘হিন্দু না ওরা মুসলিম ওই জিজ্ঞাসে কোন জন?’

এই তো আসল বাংলা ও বাঙালির সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতির মূল মৃত্তিকাজাত কবি অনায়াসে প্রশ্ন রাখতে পারেন-

সুন্নত দিলে হয় মুসলমান,

নারীলোকের কী হয় বিধান?

বামন চিনি পৈতায় প্রমাণ

বামনী চিনি কী ধরে?

‘নানান বরণ গাভী রে ভাই, একই বরণ দুধ/জগৎ ভরমিয়া দেখলাম একই মায়ের পুত’-

এই হচ্ছে এ সংস্কৃতির মর্মবাণী। মতলবী রাজনীতি সংস্কৃতির এই মর্মবাণীর ওপর ধুলোর যে পুরু আস্তরণ বিছিয়ে দিয়েছিল, তাকে সরাতেই হবে। তাহলেই বাঙালি সংস্কৃতি সাম্প্রদায়িকতার রাহুমুক্ত হবে, রাজনীতিতেও পাকিস্তানের ভূতের আছর কেটে যাবে।

আজকে এসব বিষয় নিয়ে আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব সহকারে ভাবতে হচ্ছে। কারণ, একুশ শতকে পা দিয়ে বুঝতে পারছি, নিহত পাকিস্তানের ভূত কেবল বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির ঘাড়ে আছর করেই চুপচাপ বসে থাকেনি। সেই ভূত এখন বাংলা ও বাঙালির ঘাড় মটকে দেওয়ার আয়োজন সম্পূর্ণ করে ফেলেছে।

পাকিস্তান সৃষ্টির আগে দুর্গাপূজা ও ঈদকে উপলক্ষ করে সাম্প্রদায়িক সংঘাত হয়েছে, হিন্দু ও মুসলমান পরস্পরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নিগৃহীতও করেছে। সাম্প্রদায়িক ইতরামিতেও তখন ছিল ‘কেহ কারে নাহি জিনে সমানে সমান’ অবস্থা। পাকিস্তান হওয়ার পর থেকেই অবস্থাটা পাল্টে গেল। এখানে হিন্দু শুধু সংখ্যায়ই লঘু হলো না, সম্পদে শক্তিতে আত্মবিশ্বাসেও একেবারে হীন হয়ে পড়ল। আর সে হীনতা যে কতটা প্রকট হতে পারে তারই প্রমাণ পাওয়া গেল স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার তিরিশ বছর পরে। নিতান্ত দৈবক্রমে যারা ‘হিন্দু’ নামক একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ভুক্ত মাতা-পিতার ঔরসে জন্ম নিয়েছিল, তারা প্রত্যেকেই হাড়ে হাড়ে বুঝল ‘জন্মই আমার আজন্ম পাপ’। বাঙালির অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির সব গর্ব একেবারে ধুলোয় মিশে গেল।

এখন আর তাই সময় ক্ষেপণের একটুও সময় নেই। আবহমান বাংলার অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির মরচে পড়া হাতিয়ারটিতে শান দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে সংস্কৃতি তথা সভ্যতা তথা মানবতার দুশমনদের ওপর। পাকিস্তান আমলের চেয়েও গভীর ও প্রচণ্ড সাংস্কৃতিক আন্দোলনই কার্যকর রাজনীতির উদ্বোধন ঘটাতে পারে। এবং কেবল সেই রাজনীতি দিয়েই সম্ভব অসভ্যতা ও অমানবিকতার অবাঞ্ছিত অন্ধকারকে দূর করা।

শিক্ষাবিদ

প্রাবন্ধিক

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71