বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ৫ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
বাবুল আক্তার ও এক রাজার গল্প
প্রকাশ: ০৮:২৩ pm ০৮-০৯-২০১৬ হালনাগাদ: ০৮:৩১ pm ০৮-০৯-২০১৬
 
 
 


চক্রবর্তী রতন ||

ভারতবর্ষের এক রাজ্যের এক রাজা বেশ ভালোভাবে রাজ্য চালাতেন। তিনি তার রাজ্যের জ্ঞানী পন্ডিতদের বেশ সমাদার করতেন।

একদা তিনি তার রাজ্যের এক শিক্ষিত ব্রাহ্মণ পন্ডিতকে তার গৃহে মধ্যাহ্ন ভোজের জন্যে আমন্ত্রণ করেছিলেন। ব্রাহ্মণকে আপ্যায়নের জন্যে তার পছন্দের অনেক ধরনের খাবারের আয়োজন করেছিলেন। ব্রাহ্মণ খুব খুশী মনে খাবার খেলেন।

⤻ কিন্তু খাবার পরে দেখা গেল মহাবিপদ, ব্রাহ্মণ খাবার খেয়েই আকস্মিক মারা গেলেন।

সবাই হতবাক হলেন । জানা গেল যে, খাবারে বিষক্রিয়ায় ব্রাহ্মণ মারা গেলেন।

➤ কেউ কেউ ভাবলেন, রাজা তাহলে কি জ্ঞানী পন্ডিতকে শত্রু মনে করে ষড়যন্ত্র মেরে ফেললেন?

➤ আবার রাজা ভাবলেন, তিনি সেই ব্রাহ্মণকে বেশী সমাদার করায়, রন্ধনকারীরা তাহলে চক্রান্ত করে মেরে ফেলেছে?

➤ রন্ধনকারীরা ভাবলেন, পরিবেশনকারীরা কুমন্ত্রণা নিয়ে তাহলে ব্রাহ্মণকে বিষ মিশিয়ে মেরে ফেলেছেন?

➤এদিকে, পরিবেশনকারীরা ভাবলেন ঈর্ষার কারনে তাহলে পাচকবৃন্দ ব্রাহ্মণকে মেরে ফেললেন।

যমদূত যথাযথভাবে জানেন কে মেরেছে কিংবা কি কারনে মারা গিয়েছে।

⥀ রান্না ঘর থেকে খাবার পরিবেশনের ডাইনিং রুমের মাঝখানে খানিকটা খোলা জায়গা। খাবার সামগ্রী কাউকে না দেখিয়ে রান্না ঘর থেকে মাথার উপর রেখে সেই খোলা জায়গা পার হয়ে ডাইনিং রুমে আনায়ন করা হয়ে থাকে। এ আনায়নের সময়ে সবার অজান্তে একবার ঘটে গেল ব্রাহ্মণের মৃত্যুর প্রকৃত কারন।

➙ এক বাঁজ পাখি তার শিকার হিসেবে এক বিষধর সর্প ধরে ফেলে এবং তাকে নিয়ে একটি বড় গাছের ডালে বসে ভক্ষণ করতে মনঃস্থির করেছে । সে অনুসারে সাপটিকে ধরে উড়ে যাচ্ছিল। সাপ তার আত্মরক্ষার্থে বিষ ছুঁড়ে দিল তার আক্রমণকারী বাঁজ পাখিটির শরীরে। কিন্তু সেই বিষ পাখিটির গাঁয়ে না লেগে নিচে পরে, যা ব্রাহ্মণের খাবারের সামগ্রীর সাথে মিশে যায়। সেই সাঁপের বিষযুক্ত খাবার খেয়ে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পরেন।

⧪ এখানে ব্রাহ্মণের মৃত্যুর জন্যে কে দোষী হতে পারে?

সবার মনোভাব যমরাজকে জানালেনঃ

বাঁজ পাখি জানালেন, "প্রভু আমার খাবারের জন্যে আমার শিকার সর্পকে ধরেছিলাম। ব্রাহ্মণের জীবনাবসানের জন্যে আমি ভীষণ দুঃখিত। তবে, ব্রাহ্মণকে মারার কোন উদ্দেশ্য আমার ছিল না।"

সর্প বললেন, "শিকারীকে দূর্বল করে তার থাবা থেকে বাঁচার জন্যে বিষ ছুঁড়েছিলাম। প্রভুজী আমি ব্রাহ্মণকে মারার কোন পরিকল্পনা কখনো মনে ধারণ করিনি। ব্রাহ্মণের মৃত্যুর জন্যে আমি খুবই অনুতপ্ত।"

অনুরূপভাবে, রাজা, পাচকবৃন্দ, পরিবেশনকারী সবার অন্তরের কথা সত্যিকারভাবে স্বীকার করলেন। যার মূলকথা একই, শ্রদ্ধেয় জ্ঞানী পন্ডিত ব্রাহ্মণ দেশের গৌরব। তাকে মেরে ফেলে এমন সর্বনাশ করার বাসনা কারোই ছিল না।

 এ ঘটনার পরেরদিন, কয়েকজন পন্ডিত রাজার বাড়ী কাছাকাছি এসে এক মহিলাকে জিজ্ঞাসা করলেন, রাজামহাশয়ের বাড়ী কোনদিকে? উত্তরে মহিলা জানালেন, "সাবধান রাজার বাড়ীতে যাবেন না, উনি ভালো লোকদেরকে সমাদরের নামে তাদেরকে মেরে ফেলেন।"

 আরেকটু সামনে গিয়ে এক বয়স্কলোককে রাজার বাড়ী পথ দেখতে বলাতে তিনি বললেন, "সাবধান পন্ডিত মহাশয়, রাজার বাড়ীর পাচকরা ভয়ঙ্কর, তারা বিষ মেখে খাবার দেয়।"

 কিছু সামনে গিয়ে এক মধ্যবয়সীকে রাজার বাড়ী সন্ধান করাতে, তিনি জানালেন, "সাবধান গুণীজন, ঐ বাড়ীতে খাবার পরিবেশনকারীরা খুব খারাপ, তারা খাবারে বিষ মেখে কাউকে মেরে ফেলতে কোন দ্বিধাবোধ করে না।"

যমরাজ কারো অপরাধ ধরলেন না কিন্তু রাজবাড়ীর সম্পর্কে সত্যি না জেনে যারা তাদের মনগড়া কথা জানালেন তাদেরকে আর ক্ষমা করলেন না।

⟰ সম্প্রতি, দুর্বৃত্তদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হন এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু ! এ বেদনাদায়ক, শোকাবহ ঘটনায় আপাময় জনগণকে করেছে মর্মাহত। এ দেশ আমাদের পরিবার, বাবুল আক্তার আমাদের ছোট ভাই, তার অবসর যা কোন ব্যক্তিগত বিষয়ের ঊর্ধে। তাকে গভীর রাতে ধরে নিয়ে যেভাবে হয়রানি করা হয়েছে তা আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে।

➺ ইউরোপে চাকুরীরত অবস্থায় কারো কোন দুর্ঘটনা ঘটলে তিনি অনেক সহানুভূতি পেয়ে থাকেন। ভিয়েতনামী এক মহিলা আমার এক সহকর্মী ছিলেন। তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং উপর এমএস করেছিলেন। সেখানে থেকে একাই চলে আসেন বেলজিয়ামে আরো উচ্চ্তর গবেষণার জন্যে (for PhD প্রোগ্রাম)। তার স্বামী ও ১৩ বছরের একমাত্র কন্যা দেড় মাস পরে যোগ দেয়। কিন্তু বিধিবাম, তাদের বেলজিয়ামে আসার ৩ সপ্তাহের মধ্যে একদিন তার মেয়ে স্কুল ছুটির পরে রেল লাইন দিয়ে হেটে তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরতে চেয়েছিল (সে জানতো না রেল লাইন দিয়ে হাটা এ দেশে নিষেধ, যে কাজটি আমাদের দেশে কিংবা এশিয়ার অনেক দেশে করে থাকে)।

➔ ১ কিলোমিটার হাঁটার পরে, পিছন থেকে এক দ্রুতগামী ট্রেনের ধাক্কায় মারা যায়। ২ সপ্তাহ সেই পরিবারকে আমাদের ল্যাব (ডিপার্টমেন্ট) সহ বিশ্ববিদ্যালয়, ভিয়েতনাম দূতাবাস সবাই সেই পরিবারের বিপদে পাশে ছিলেন। বর্তমানে তিনি ভিয়েতনামের University of Science and Technology of Hanoi এর অধ্যাপক, তার ১২ বছরের ১টি ফুটফুটে মেয়েও রয়েছে ।

সেদিন তার মেয়ের অকস্মাৎ মৃত্যুর সংবাদ শুনে তিনি আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। ঐ সময়ে সবাই তার পাশে না থাকলে তিনি ও তার পরিবার সর্বশেষ হয়ে যেত।

➢ আমাদের দেশের মানুষ বেশ সামাজিক, মানুষে মানুষে সহমর্মিতা রয়েছে, কারো বিপদে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও অনেকে ঝাঁপিয়ে পরেন। বাবুল আক্তারকে রাষ্ট্র সহযোগিতা করেছি ল কিনা তা কি আমাদের জানার অধিকার নেই? কেউ আবার হলুদ সাংবাদিকতার নামে বাবুল আক্তারকে নিয়ে অনেক মন্তব্য করেছেন। আলোচনায় বাদ পরেনি তার স্ত্রী দুর্বৃত্তদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুর চরিত্র নিয়ে কলঙ্কলেপন।

➢ তাদের সন্তানদের কথা আমরা, আমাদের রাষ্ট্র কি ভাবছে? সেই সন্তান দুটো মাতৃহারা! আর এখন পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত করতে কেউ কেউ উঠে পরে লেগেছে।

⧫ অন্যের ব্যাপারে নাক গলানো আমাদের কাজ নয়, আমরা চাই সত্যকে জানতে।

⧫ তা না হলে ভবিষ্যতে, কোন শত্রু কোন সৎ কর্মকর্তাকে ঘায়েল করতে চাইলে, তার স্ত্রীকে মেরে তার চাকুরী থেকে বরখাস্তসহ সব ধরনের হেনস্তা উপভোগ করবে ।

➥ আমরা গল্পের যমরাজের কাছে যেন পাপী না হই, আমাদের জল্পনা কল্পনার সব অবসান ঘটানো হোক। অপরাধীর শাস্তি হোক।

➧ রাষ্ট্র বলবে, আইন মোতাবেক সবই হয়েছে। আইন হলো সত্য ও ন্যায়ের বিচার প্রতিষ্টা করা। সে প্রসঙ্গে আরেকটি গল্প বলার ইচ্ছে ছিল। আমার হাতে সময়ের চেয়েও আপনাদের ধৈর্য্যের কথা চিন্তা করে এখানে থামছি ।

➤ চাকুরীর রক্ষার চেয়েও বৌদি, ভাবি, মামনিদেরকে দেখে রাখবেন।

➽ এখন দানববল সৌন্দর্য্য-সীতার গায়ে হাত তুলতে শিহরিয়া উঠে না । সভ্যতা যখন বহুদূরে হারিয়ে যাবে, তখন বর্ব্বরেরা কেবলমাত্র শারীরিক ও মানসিক ক্ষমতা দিয়ে সব দখল করবে । প্রেম, ভালবাসা, স্নেহপূর্ণ ধৈর্য্য, আত্মবিসর্জ্জন, সহমর্মিতা, মধুর সৌন্দর্য্য সব বিনাশ হবে।

⟰  এ মনুষ্য কুটিল কার্যকলাপ, এদের উপদ্রবে পশু সমাজ লজ্জিত হবে।

মানব হৃদয়ের প্রেম, ভালবাসা ভাস্কর্য, চিত্র শুধু সাক্ষী থাকবে। আর মানবকুল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পশুদের সাথে জঙ্গলে থাকাকেই শ্রেয় মনে করবে।

⬲ হে আদর্শ মানব সমাজ, এ কি তোমার মহত্ত্ব? এ কি তোমার অলঙ্কার, যশ, বৈভব, গরিমা? এ কি তোমার সৌন্দর্য্য? এ কি তোমার..... মাহাত্ম্য?

 

[ফেসবুক থেকে]

এইবেলাডটকম/এমআর

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71