সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
বাল্যবিয়ের পর যৌতুক দাবি, লাশ স্কুল ছাত্রী
প্রকাশ: ০৮:৫৯ am ২৩-০৬-২০১৭ হালনাগাদ: ০৮:৫৯ am ২৩-০৬-২০১৭
 
 
 


শেরপুর:: শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বাল্যবিয়ের দুই মাস যেতে না যেতে যৌতুকের কারণে লাশ হতে হলো সপ্তম শ্রেণিতে পড়া এক স্কুল ছাত্রীকে। তার নাম শাহিনুর।

গত বুধবার রাতে উপজেলার উত্তর কোন্নাগড় গ্রামের স্বামীর বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

 

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নালিতাবাড়ীর কাপাসিয়া শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিলো শাহিনুর। দুই মাস আগে শাহিনুরকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় কোন্নাগড় গ্রামের ওবায়দুর রহমান। শাহিনুরের পরিবার মেয়ের কম বয়স বলে প্রস্তব প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু ওবায়দুর গোপনে শাহিনুরের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। একই সঙ্গে সে তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেয়। শেষ পর্যন্ত শাহিনুরের ইচ্ছায় বাধ্য হয়েই ওবায়দুরের সাঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেয় তার পরিবার। কিন্তু কয়েক দিন যেতে না যেতেই ওবায়দুর শাহিনুরের বাবার কাছে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। একপর্যায়ে যৌতুক না পেয়ে শাহিনুরের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকে।

গত বুধবার সকালে শাহিনুর মোবাইল ফোনে তার বোনকে জানায়, সে ঈদে দু-এক দিনের মধ্যেই বাড়ি আসবে। কিন্তু বিকেলেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন খবর দেয়, শাহিনুর অসুস্থ। খবর পেয়ে শাহিনুরের মা-বাবা ওবায়দুরের বাড়িতে গিয়ে দেখতে পান বাড়িতে কেউ নেই। শুধু একটি ঘরে চাদর দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে শাহিনুরের লাশ।

শাহীনুরের বাবা আব্দুল হাকিম বলেন, ‘যৌতুকের টাকা নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে শাহিনুরকে মারধর করে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিলে তাকে হত্যা করেছে। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারী স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকদের শাস্তির দাবি জানাই। ’ 

নালিতাবাড়ী থানার ওসি এ কে এম ফসিহুর রহমান বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদনে লাশের গলায় এবং বাঁ পাশে কালো দাগ আছে। এটি অসুস্থতাজনিত মৃত্যু নাকি পরিকল্পিত হত্যা তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলেই পরিষ্কার হওয়া যাবে। তবে মেয়ের বাবা বাদী হয়ে স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও মেয়ের স্বামীর ভাইসহ চারজনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71