রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
রবিবার, ৫ই ফাল্গুন ১৪২৫
 
 
বাল্য বিয়ে মুক্ত উপজেলা ঘোষিত হচ্ছে শিবগঞ্জ
প্রকাশ: ০৩:২৬ pm ০৮-১২-২০১৭ হালনাগাদ: ০৩:২৬ pm ০৮-১২-২০১৭
 
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
 
 
 
 


জানুয়ারীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলাকে বাল্য বিয়ে মুক্ত ঘোষণা করার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বাল্য বিয়ে রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। 

তিনি চলতি বছরের জানুয়ারী মাস থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বাল্য বিয়ে রোধে বর, কনে ও বরের পিতা, কনের পিতা-মাতা, বাল্য বিয়েতে সহযোগিতাকারী মৌলভী, নিকাহ রেজিস্ট্রার ও ঘটকদের ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে নিম্নে ৭ দিন হতে উর্দ্ধে ১ মাস পর্যন্ত  কারাদন্ড ও অর্থদন্ড করেছেন। 

শিবগঞ্জ উপজেলা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১০ মাসে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় উপজেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে ১১৭ টি বাল্য বিয়ে রোধ করা হয়েছে। আর ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৩২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাল্যবিয়ে রোধ আইনে ৪০জন অপরাধীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড ও ৩৩ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়েছে। অফিস সূত্রে আরো জানা গেছে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারী উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে ৬টি বাল্য বিয়ে বন্ধ করা হয় এবং ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বাল্য বিয়ে দেয়া ও সহযোগিতা করার দায়ে ৬ জনকে ৭দিন থেকে ১মাস পর্যন্ত কারাদন্ড দেয়া হয়।

১২ ফেব্রুয়ারী দূর্লভপুরের দামুদিয়াড় গ্রামে অভিযান চালিয়ে শিউলী খাতুনকে বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার। আর এই বাল্য বিয়ে দেয়ার চেষ্টার জন্য ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বরের মা সমিজা বেগম, কনের মা বেবী বেগম ও বর পলাশ, বরের চাচা সারওয়ারকে ১৫দিন করে কারাদন্ড দেয়া হয়। গত ২০ ফেব্রুয়ারী উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নের গোসাইবাড়ি গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৭ম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা করা হয়। 

এসময় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বরের মা বাবাকে ১৫ দিন করে কারাদন্ড দেয় হয়। ফেব্রুয়ারী মাসেই আরো একটি অভিযান চালিয়ে বাল্য বিয়ে দেয়ার অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১১জনকে  বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম। এছাড়া ২০ ফেব্রয়ারী কানসাটের অভিযান চালিয়ে ১৫ বছরের এক শিক্ষার্থীকে বাল্য বিয়ের হাত থেকে রক্ষা করা হয়। পাশাপাশি বাল্য বিয়ে দেয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বর ও বরের দুলা ভাইকে ১৫দিন করে কারাদন্ড দেয়া হয়। 

২২ ফেব্রয়ারী ছত্রাজিতপুরের কাঠালিপাড়া গ্রামে ৯ম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা করা হয় এবং ভ্রাম্যমান আদালত কনের মা তাসলিমা বেগম ও চাচা সেমাজুল কে ১মাস করে কারাদন্ড দেয়া হয়। ১৭ নভেম্বর চককীর্তি গ্রামের শিক্ষার্থী শাম্মীকে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করা হয় এবং কনের পিতা ও বর মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পায়। এভাবেই গোপন সংবাদে ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাল্য বিয়ের ক্ষেত্রে একদিকে মানুষের মাঝে সচেতন সৃষ্টি হওয়ায়, অন্যদিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করায় বর্তমানে বাল্য বিয়ে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

এব্যাপারে শিবগগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, এই উপজেলায় যোগদান করার পরপরই আমার সংকল্প ছিল আমি শিবগঞ্জকে বাল্যবিয়ে মুক্ত করবো। তবে এত অল্প সময়ের  মধ্যে বাল্য বিয়ে বন্ধ হবে এটা আশা করতে পারিনি। তবে বিভিন্ন এলাকার বিশেষ করে শিক্ষার্থী তরুণ তরুণীদের সহযোগিতা ও আগ্রহের ফলে বাল্য বিয়ে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি আরো জানান, আমরা আগামী জানুয়ারী মাসের প্রথমদিকে আনুষ্ঠানিভাবে শিবগঞ্জ উপজেলাকে বাল্যবিয়ে মুক্ত ঘোষণা করবো ইনশাল্লাহ।

ই/এসএম

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71