সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা
প্রকাশ: ১২:৩৩ pm ০৫-০১-২০১৭ হালনাগাদ: ১২:৩৩ pm ০৫-০১-২০১৭
 
 
 


ঢাকা্ : রাজধানীতে ঝুকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। জীবনের ঝুঁকি ও শঙ্কা নিয়েই দিন যাপন করছে অর্ধশতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বাসিন্দারা।

পরিত্যাক্ত ঘোষণার পরও অজ্ঞাত কারণে ভাঙ্গা হচ্ছে না ভবনগুলো।এসব ভবন ভাঙ্গার নির্দেশ প্রদান করা হলেও দায়িত্বপ্রাপ্তদের রহস্যজনক নীরবতার কারণে এসব নির্দেশ বাস্তাবায়ন হয়নি।পরিত্যাক্ত ঘোষিত মার্কেট ও ভবনগুলোর সংস্কার ও পুনর্নিমাণ না করায় এর সংখ্যাও বাড়ছে দিন দিন।

এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভাঙ্গার ব্যাপারে তালিকা তৈরির পর প্রথমদিকে খুব দ্রুত বাস্তবায়নের কথা থাকলেও পেরিয়ে যায় দিনের পর বছর। ঝিমিয়ে পড়ে ভবন সংস্কার ও ভাঙ্গার কাজ। কর্তৃপক্ষের কঠোর নির্দেশের পরও এসব ভবন না ভাঙ্গার ফলে ভূমিকম্প, অগ্নিকা- সহ যে কোন বড় দুর্যোগে প্রাণঘাতি সহ বড় ধরনের দূর্ঘটনার শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কপোরেশনের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায় সমাজ কল্যাণ কেন্দ্র, শরীরচর্চা কেন্দ্র, রাজস্ব অফিস, স্টাফ কোয়ার্টার রয়েছে বেশি। সাথে রয়েছে রাস্তাসংলগ্ন বাজার, হকার্স মার্কেট, কলেজের লাইব্রেরি ও একাডেমিক ভবন। বাদ পড়েনি কর্পোরেশনের ব্যবহৃত আঞ্চলিক কার্যালয়, ব্যক্তি মালিকানাধীন বাড়ি বা বাণিজ্যিক ভবন, জবাইখানা, পাবলিক টয়লেট, দাতব্য চিকিৎসালয়, পূর্ব থেকে পরিত্যক্ত ঘোষিত ভবন এমনকি থানা কার্যালয় ভবন পর্যন্ত।

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর অবস্থার বিবরণে জানা যায়, অনেক আগে নির্মিত, ঢালাই ভেঙ্গে যাওয়া, কলাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, ছোট ও বড় বড় ফাটল, ব্যবহার অনুপযোগী পরিত্যক্ত ভবনের কথা উল্লেখ রয়েছে। তাছাড়া ওই ভবনগুলোর মধ্যে ৭০ বছর আগে তৈরি থেকে শুরু করে মাত্র ৩০ বছর আগের তৈরি ভবনও রয়েছে। যা খুব কম সময়ের মধ্যেই নির্মাণ ত্রুটি ও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সূত্রে জানাযায়, শুধু পুরান ঢাকায় রয়েছে ২৬৬টি ঝুঁকিপূর্ণ আবাসিক ভবন। এছাড়া রাজউকের তালিকার বাইরেও রয়েছে অসংখ্য ভবন।

যে সব ভবন ব্যবহার করে যাচ্ছে ব্যবসায়ি ও বসবাসকারীরা। জানা যায়, ডিএসসিসির ৫টি আঞ্চলিক অফিসের মোট ৫৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ২০১৩ সালের জুন মাসে সভা করে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী সপ্তাহের মধ্যেই ভবন মালিক বা ভবনে অবস্থানরতদের নোটিস প্রদানপূর্বক কমপক্ষে ১টি করে ৫ অঞ্চলে ৫টি ভবন সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাগণ (আনিক) নিজ দায়িত্বে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙ্গে ফেলবেন।

ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বাধা দিলে বা না মানলে তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা ২০০৮ অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ডিএসসিসি ঘোষিত কর্পোরেশনের নিজস্ব বা ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি ভবনও আজ পর্যন্ত ভাঙ্গতে বা এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায় সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন বৃহৎ ভবনগুলোর মধ্যে ঢাকা নিউ নিউমার্কেট, নিউ সুপার মার্কেট, বনলতা মার্কেট, পরিবাগ সুপার মার্কেট (সাকুরা মার্কেট), কাঁঠালবাগান কমিউনিটি সেন্টার (যা বর্তমানে কলাবাগান থানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে), পিডব্লিউডি মালিকানাধীন চাঁনখারপুলের যক্ষা নিয়ন্ত্রণ ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পিডব্লিউডি মালিকানাধীন চানখারপুল কর্মচারী কোয়ার্টার। অঞ্চল-২ এ তিলপাপাড়া কমিউনিটি সেন্টার, মুগদা কমিউনিটি সেন্টার, পল্টন কমিউনিটি সেন্টার, বাসাব কমিউনিটি সেন্টার, গুলিস্তান মহানগর নাট্যমঞ্চ, মতিঝিল টিএ্যান্ডটি কলোনি, শাজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি।

অঞ্চল-৩ এ গণকটুলি সুইপার কলোনিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ৫ টি চার তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন ও মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ১ টি চারতলা আবাসিক ভবন, খলিল সরদার কমিউনিটি সেন্টার, নবাবগঞ্জ পার্কের আউটডোর দাতব্য চিকিৎসালয়, শহীদনগর কমিউনিটি সেন্টার (সেমিপাকা), জাহাঙ্গীর নগর সমাজকল্যাণ কেন্দ্র, লালবাগ (আজাদ মুসলিম) কমিউনিটি সেন্টার, হাজী সরদার গনি কমিউনিটি সেন্টার, বকশিবাজার রাজস্ব অফিস, ইসলামবাগ স্টাফ কোয়ার্টারের ৬ তলা বিশিষ্ট ৪টি ভবন। অঞ্চল- ৪ এ কাপ্তান বাজার রোড সংলগ্ন মার্কেট, সদরঘাট লেডিস পার্ক হকার্স মার্কেট, নবাব ইউসুফ মার্কেট-১ এবং ৫নং ভবন, ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজের ৩য় তলা এবং ৫ তলাবিশিষ্ট একাডেমিক ও লাইব্রেরি ভবন।

অঞ্চল-৫ এ সূত্রাপুর কাঁচাবাজার, তেলেগু-১ নং ভবন, আউটফল স্টাফ কোয়ার্টার ১৩ নং ভবন, সায়েদাবাদের অঞ্চল-৫ এর পুরাতন অফিস ভবন, সরকারী অর্থায়নে নির্মিত সূত্রাপুরের ২টি (ক এবং খ গ্রুপ), দয়াগঞ্জে ৩টি (গ্রুপ-ক, খ, গ) এবং ধলপুরে ৪টি ক্লিনার কলোনি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এইবেলাডটকম/এফএআর

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71