বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ২৯শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
বাড়ছে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ
প্রকাশ: ০৯:৫৭ pm ০১-১১-২০১৮ হালনাগাদ: ০৯:৫৭ pm ০১-১১-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ও ব্যাংকের চাইতে সুদের হার বেশি হওয়ায় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বাড়ছে। এর ফলে ব্যাংকগুলো কাঙ্ক্ষিত আমানত পাচ্ছে না বলে ব্যাংকারদের অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকররা সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর দাবি জানিয়ে আসলেও নির্বাচনের আগে এ খাতের সুদের হার কমছে না বলে ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ফলে বিনিয়োগ এখন সঞ্চয়পত্রমুখী।

সঞ্চয়পত্র সরকারের জন্য ঋণ। বাজেটের ঘাটতি মেটানোর জন্য অভ্যন্তরীণ ঋণের অংশ হিসেবে সরকার দেশের মানুষের কাছ থেকে এ ঋণ নিয়ে  থাকে। 

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকার এ খাত থেকে নিট ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। কিন্তু জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসেই পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের বেশি বিনিয়োগ চলে এসেছে। আলোচ্য সময়ে নিট বিনিয়োগ হয়েছে ১৩ হাজার ৪১২ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেউ কেউ ব্যাংক থেকে আমানত তুলে তা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছে। বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে আমানতের সুদের হার ছয় শতাংশের আশপাশে থাকলেও সঞ্চয়পত্রে আমানতের সুদের হার ১১ শতাংশের কিছুটা উপরে।

ব্যাংকার এবং অর্থনীতিবিদদের একটি বড় অংশ মনে করেন, ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্রের সুদের হারে ব্যবধান বেশি হওয়ায় মানুষ নিরাপদ বিনিয়োগের উপায় হিসেবে সঞ্চয়পত্রে ঝুঁকছেন। ফলে ব্যাংকে কাঙ্ক্ষিত আমানত আসছে না। গত জুলাই থেকে ব্যাংকগুলোকে আমানতের সুদের হার ৬ শতাংশ ও ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশের মধ্যে রাখার নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। কিন্তু সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমেনি। 

মূলত অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী, নারী বা অন্য কোথাও বিনিয়োগের সুযোগ নেই- এ ধরনের সাধারণ নাগরিকের কথা চিন্তা করেই সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমাতে চাইছে না সরকার। কিন্তু এই সুযোগের অপব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। একটি শ্রেণি এখানে বিশাল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে সুবিধা নিচ্ছে। ফলে সরকারের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ।

তবে অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর বিপক্ষে। 

সঞ্চয় পরিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের গত দুই মাসে(জুলাই-আগস্ট) ৬ হাজার ২৭১ কোটি ৮৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। আর আগের অর্থবছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ৮৬৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকার। অর্থাৎ বিক্রি বেড়েছে ২ হাজার ৪০২ কোটি ৫৭ লাখ টাকার।

এরমধ্যে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের আসল-সুদ বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৩ হাজার ৭২৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

এ হিসাবে নিট সঞ্চয়পত্রের বিক্রির পরিমাণ হচ্ছে ৪ হাজার ৩২৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২২৮ দশমিক ৭১ শতাংশ বেশি।

অর্থাৎ সুদ-আসল পরিশোধের পর যেটা অবশিষ্ট থাকে সেটাকে ঋণ হিসেবে নেয় সরকার। এ টাকা সরকার তার প্রয়োজনে বিভিন্ন খাতে খরচ করে থাকে।

ঘাটতি মেটাতে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা।

বিক্রি বেশি হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে তা প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে আট হাজার কোটি টাকা করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71