বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯
বৃহঃস্পতিবার, ১২ই বৈশাখ ১৪২৬
সর্বশেষ
 
 
বিজয় দিবসে আর ফুল দেবে না রাহুল দাশ
প্রকাশ: ০২:৪৩ pm ২৩-১২-২০১৭ হালনাগাদ: ০২:৪৩ pm ২৩-১২-২০১৭
 
চট্রগ্রাম প্রতিনিধি
 
 
 
 


তার ফেসবুক ওয়ালে এখনও শোভা পাচ্ছে সেই ছবিটি- বিজয় দিবসের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শহীদদের স্মরণ করেছেন তিনি। একইভাবে প্রিয় নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীকে স্মরণ করতে সোমবার তার মেজবানে গিয়েছিলেন। কিন্তু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বিভাগের ছাত্র, ২৬ বছরের তরুণ দীপঙ্কর দাশ রাহুলের এটাই ছিল শেষ যাত্রা। রাহুলের মতো আর কোনো দিন ফিরবেন না মহিউদ্দিন চৌধুরীর আরেক ভক্ত কৃষ্ণপদও। পদদলিত হয়ে রাহুলের মতো ওপারে চলে গেছেন তিনিও।

কক্সবাজারের চকরিয়ার বড়ইতুলী হিন্দু পাড়ার বাসিন্দা সনাতন দাশের দুই ছেলের মধ্যে রাহুল ছিলেন সবার ছোট। এসএসসি পাস করেছিলেন চকরিয়া শাক্যমনি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি। থাকতেন নগরীর ফিরিঙ্গিবাজারে। দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন কলেজের বন্ধু ও ইতিহাস বিভাগের সহপাঠীর প্রায় ১০ থেকে ১২ জনকে নিয়ে রিমা কমিউনিটি সেন্টারে মেজবান খেতে যান তিনি। প্রধান গেটে আধঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিলেন। গেটটি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয় হঠাৎ। প্রচুর ভিড় থাকায় ধাক্কাধাক্কিতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান সব বন্ধু। পদদলিত হয়ে মারা যান রাহুল।

বাকলিয়া কলেজের শিক্ষার্থী ও রাহুলের বন্ধু মিঠু দে বলেন, 'সব বন্ধু একসঙ্গে ছিলাম। ঢোকার সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই। দুর্ঘটনার পর রাহুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পাই।' তার গ্রামের স্কুলবন্ধু রুবেল কান্তি দে বলেন, 'প্রায় সময় আমরা একসঙ্গে বাড়ি যেতাম। একসঙ্গে বাড়ি থেকে শহরে আসতাম। একসঙ্গে নগরীতে আড্ডা দিতাম। যেখানে যেতাম একসঙ্গেই যেতাম। মেজবান খেতে নয়, মহিউদ্দিন চৌধুরীকে খুব পছন্দ করত সে, তাই মেজবানে এসেছিল রাহুল।' বন্ধু মোহাম্মদ হাসান বলেন, 'বিজয় দিবসের দিন সকালে ক্যাম্পাসে সময় কাটানোর পর আমরা সবাই মিলিত হয়ে বিজয় মেলায় যাই। সেখানে দীর্ঘক্ষণ আড্ডা দেওয়ার পর যার যার মতো ফিরে যাই। সেই দেখা যে রাহুলের সঙ্গে শেষ দেখা হবে, তা কখনও ভাবিনি।'

রাহুলের বড় ভাই শুভ দাশ এ মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছেন না। তিনি বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন চমেক হাসপাতালে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন চন্দনা (২৭)। আর তাকে বুকে জড়িয়ে বুকফাটা আহাজারি করছেন তার মা বিশাখা। মেজবান খেতে এসে পদদলিত হয়ে মর্মান্তিকভাবে মারা যাওয়া কৃষ্ণপদের স্ত্রী ও তার শাশুড়ি চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এভাবেই মাতম করছিলেন। তখন চন্দনার দুই অবুঝ শিশু জানেই না, তাদের বাবা আর নেই।

পেশায় জেলে কৃষ্ণপদ প্রতিবেশীদের সঙ্গে রিমা কমিউনিটি সেন্টারে আসেন। কিন্তু কে জানত মেজবান খাওয়ার আগেই প্রাণ যাবে তার। মাত্র এক মাস আগে মা সীতা পদ দাসকে হারিয়েছেন তিনি। অন্য সময়ের ব্যবধানে মা-ছেলে এমন মৃত্যুতে শোকে দিশেহারা আত্মীয়স্বজন।

কৃষ্ণপদের শাশুড়ি বিশাখা বলেন, 'কৃষ্ণপদ জামাতা হলেও আমাদের কাছে সে ছেলের মতো ছিল। তার এক বছর একটি মেয়ে ও তিন বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। এখন আমার মেয়ে ও তার অবুঝ দুই শিশুর কী হবে?' কৃষ্ণপদের শ্বশুর মৃদুল দে বলেন, 'খবর পেয়েই মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে আসি। সেখানে কৃষ্ণপদের লাশ দেখেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে চন্দনা। আমরা তাকে কীভাবে সান্ত্বনা দেবো জানি না। আমার মেয়েটি অল্প বয়সেই বিধবা হয়ে গেল।'


প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71