মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ৬ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
বিদেশে রপ্তানী হচ্ছে ঝালকাঠির ৫৪টি গ্রামে উৎপাদিত সুপারি
প্রকাশ: ০১:০০ pm ২৯-০৯-২০১৭ হালনাগাদ: ০১:০০ pm ২৯-০৯-২০১৭
 
 
 


অতিথি আপ্যায়নের জন্য যে সকল উপাদান থাকুক না কেন তার সাথে পান-সুপারি থাকবেই। গ্রাম বাংলায় পান-সুপারির আপ্যায়নের জুড়ি নেই। পাড়া-প্রতিবেশী আসলে তাঁদেরকেও পান-সুপারির আপ্যায়ন করতে ভুল করেন না গৃহবধুরা। পান বিলাসীদের কাছে সুপারি একটি অতি প্রয়োজনীয় ফল। 

ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা সাতুরিয়া গ্রামের গ্রাম্য হাটে প্রতিদিনই বসে সুপারি ক্রয়-বিক্রয়ের হাট। লেন-দেন হয় লাখ লাখ টাকার। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, রাজাপুরের ৫৪টি গ্রামে এবার সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। স্থানীয় বাজারগুলোতে এ বছর সুপারির দামও ভাল। ফলন ও দাম ভাল পাওয়ায় চাষীরা খুশি। রাজাপুরের উৎপাদিত সুপারি জেলার চাহিদা মিটিয়ে পাঠানো হচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে। এমনকি রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও। সুপারি কিনতে দূর-দূরান্তের পাইকাররা এখন স্থানীয় বাজারগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন।

সরেজমিনে রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া সুপারী কেনাবেচার হাটে গিয়ে দেখাগেছে, প্রতিদিন এ হাটে জেলা ও জেলার বাইরে থেকে ভীড় জমাচ্ছেন শত শত কৃষক এবং পাইকার। কেনা-বেচা হচ্ছে লাখ লাখ টাকার সুপারী। পাইকাররা এখান থেকে সুপারী কিনে মজুদদারদের কাছে বেশী দামে বিক্রি করে থাকেন। এক সময় ফিলিপাইন ও নিকোবর থেকে আমদানীকৃত এশীয় পামগাছ এরিকা কাটচু জাতের এ ফলটি বাংলাদেশের প্রায় সব জেলায় আবাদ হলেও বরিশাল ও খুলনা বিভাগে বেশী জন্মে। 

কৃষকরা জানিয়েছেন, একবার এ গাছ লাগালে তেমন কোন পরিচর্যা ছাড়াই ৩০-৩৫বছর ফলন দেয়। এতে আয় হয় ধানের চেয়ে তিন-চার গুন বেশী। তাই এ অঞ্চলের কৃষকরা সুপারী চাষের দিকে বেশী আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তা ছাড়া সুপারী বাগানে অনায়াশে লেবু, হলুদ সহ  বিভিন্ন ফসল চাষ করা যায়। 

রাজাপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রাজাপুর উপজেলার ৫৪টি গ্রামের ৩ শত হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা সুপারির বাগানে বাম্পার ফলন হয়েছে। অনেকে আবার বাড়ির পাশে সুপারি গাছ লাগিয়েও ভাল ফলন পেয়েছেন। গত এক যুগের মধ্যে এ বছর সবচেয়ে বেশি ফলন হয়েছে বলে দাবি করছে কৃষি বিভাগ। 

বর্তমানে স্থানীয় বাজারগুলোতে সুপারির দামও বেশ ভাল থাকায় সুপারি বাগান মালিকরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। বাজারগুলোতে স্থানীয় হিসাব মতে প্রতি কুড়ি (দুইশত ১০ টি সুপারিতে এককুড়ি) সুপারির মূল্য দুইশত পঞ্চাশ টাকা থেকে সাড়ে তিনশত টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বাজার ও বাগানগুলো থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানের  পাইকাররা এসে সুপারি কিনে নিচ্ছেন। তাদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্নস্থানে চলে যাচ্ছে রাজাপুরের সুপারি। দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে রাজাপুরের সুপারির সুখ্যাতি থাকায় পাইকারদের হাত ঘুরে বড়জাতের সুপারি দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

রাজাপুরের চাড়াখালি এলাকার সুপারির বাগান মালিক কিসমত ফরাজী বলেন, ‘কয়েক বছরের চেয়ে এবছর ফলন হয়েছে তিনগুন। আর সুপারির আকারও হয়েছে অনেক বড়। এবছর আমি লক্ষাধিক টাকার সুপারি বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।’

একই গ্রামের রাসেল বেপারী বলেন, আমার দুই একর জমিতে সুপারির বাগান রয়েছে। এ বছর বৃষ্টির কারণে সুপারির ফলন ভাল হয়েছে। কোন পোকার আক্রমনও নেই। আমি ইতোমধ্যে দুই লাখ টাকার সুপারি বিক্রি করেছি। বাগানে আরো সুপারি রয়েছে। 

মীরেরহাট গ্রামের বাসিন্দা মোসলেম আলী বলেন, আমার বাপ দাদার আমলের সুপারির বাগান। এ বছরের মত এত ফলন আগে দেখিনি। আমাদের বাগানের সুপারি বাজারে বিক্রির জন্য নেয়া লাগে না। পাইকাররা বাগান থেকেই সুপারি কিনে নেন। 

রাজাপুরের বাঘরি বাজারে ভ্যানগারিতে করে সুপারি নিয়ে আসা মো. হাসান বলেন, এক ভ্যানগাড়ি সুপারি এক হাজার টাকায় বিক্রি করেছে। এগুলো পাইকাররা কিনে ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রামের বাজারে বিক্রি করেন।

চট্রগ্রাম থেকে সুপারি কিনতে আসা পাইকার গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমরা এখান থেকে সুপারি কিনে ট্রাকযোগে চট্টগ্রাম নিয়ে যাই। সেখানে গিয়ে আড়তে সুপারির আকার নির্ধারণ করে বড় সাইজগুলো বিদেশে রপ্তানির জন্য মজুদ করি। অন্যান্য সুপারিগুলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চালান করছি।

রাজাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিয়াজ উল্লাহ বাহাদুর বলেন, এবছর আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাত সুপারি চাষের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় এ অঞ্চলে সুপারির ফলন অত্যাধিক ভাল হয়েছে। যা দেখে এলাকার মানুষ সুপারি চাষে আরো উৎসাহী হবেন। সুপারি বাগান মালিকরা প্রতি বছরই সুপারি বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।

ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শেখ আবুবকর সিদ্দিক জানিয়েছেন, জেলায় চলতি মৌশুমে ৫০০ হেক্টর জমিতে সুপারীর আবাদ হয়েছে। লাভজনক বিধায় এ ফসলটি গ্রামীন অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছে।

এ/এসএম

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71